ছবি: রেস নির্মাতা: কুমার এস. তৌরানী-রমেশ এস.তৌরানী নির্দেশক: আব্বাস মস্তান গীতিকার: সমীর সঙ্গীত পরিচালক: প্রীতম অভিনয়ে: সঈফ আলী খান, বিপাশা বসু, ক্যাটারিনা কেঈফ, অক্ষয় খান্না, সমীরা রেড্ডি, অনিল কাপুর৷ এ-সার্টিফিকেট *18 রীল রেটিং:2.5/5
আব্বাস মস্তান সব সময় থ্রিলার ছবি তৈরী করেন৷ বর্তমানে আব্বাস মস্তানের রেস ছবিটি মুক্তি পেয়েছে৷ এটি একটি স্টাইলিশ ছবি৷ খুব সুন্দর লোকেশানে এই ছবির শুটিং করা হয়েছে৷ থ্রিলার ছবির মূল আকর্ষন হল ভাল কাহিনী এবং উত্কৃষ্ট স্ক্রিপ্ট ছবির গল্পটি রচিত হয়েছে দুজন সত ভাইকে কেন্দ্র করে৷ রণবীর অর্থাত সঈফ আর রাজীব অর্থাত অক্ষয় খান্না ঐ দুই সত ভাই এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন৷ রণবীর ব্যবসা দেখাশুনা করেন৷
অপরদিকে রাজীব মদের নেশায় অতি আসক্ত হয়ে জীবন অতিবাহিত করেন৷ দক্ষিন আফ্রিকার ডারবানে ওদের দুজনের ঘোড়ার আস্তাবল রয়েছে৷ সোনিয়া (বিপাশা) হলেন এক সুন্দরী মডেল৷ রনবীর সোনিয়াকে ভালবাসতে শুরু করেন৷ ঘটনাক্রমে রাজীব্ও সোনিয়াকে ভালবাসেন৷ আর সোনিয়ার সঙ্গে বিয়ে হলেই তিনি মদ খাওয়া ছেড়ে দেবেন এই প্রতিজ্ঞা করেন৷ ভায়ের মনের এই কথা জানতে পারার পর রণবীর রাজীবের সঙ্গে সোনিয়ার বিয়ে দেন৷ কিন্তু বিয়ের পরে রাজীব তাঁর প্রতিশ্রুতি ভুলে যান৷ তিনি মদ খাওয়া ছাড়েন না৷ রাজীবকে নিয়ে রণবীর আর সোনিয়া চিন্তায় থাকেন৷ ঘটনাক্রমে এক হত্যা হয়৷ সেই হত্যার তদন্ত করেন আর ডি অর্থাত অনিল কাপুর৷
এই হত্যার তদন্তের প্রক্রিয়া যত এগোতে থাকে ছবির গল্পে সাসপেন্স ততই বাড়তে থাকে৷ এই ছবির স্ক্রিপ্টে খামতি খুব একটা না থাকলেও একটি দৃশ্যে খামতি ধরা পড়েছে৷ সেই দৃশ্যটি হল অক্ষয় ক্যাটারিনার বিয়ের ম্যারেজ কোর্টে যাওয়া৷ ফিল্মে ক্লাইমেক্সে কার রেস দেখানো হয়েছে৷ এই কার রেসে অক্ষয় আর সঈফের মধ্যে ভয়ংঙ্কর দৃশ্য রাখা হয়েছে৷ কিন্তু এই রেসের মধ্যে কোন নিয়ম পালন করা হয় নি৷ কবে এই রেস শুরু হয়েছে আর কবে শেষ হয়েছে সেই বিষয়ে কিছু বলা হয় নি৷
শিরাজ আহমদ তাঁর স্ক্রিপ্টে প্রতি 15 মিনিটের মধ্যে দর্শকদের চমকে দিয়েছেন৷ দর্শকরা পরের দৃশ্যে কি হবে সেটা কোনভাবেই অনুমান করতে পারেন নি৷ তবে কাহিনীকে আগে ঠিকভাবে তিনি পেশ করতে পারেন নি৷ নির্দেশক ভ্রাতৃদ্বয় আব্বাস মস্তান একটা স্টাইলিশ ফিল্ম তৈরী করেছেন৷ তিনি এই ছবির তারকাদের পর্দাতে পরিকল্পিতভাবেই পেশ করেছেন৷ কিন্তু ছবির স্ক্রিপ্টে কিছু খামতি থেকে গেছে৷ স্ক্রিপ্টের উপর আর একটু বেশী নজর দেওয়া উচিত ছিল৷
এই ছবিতে সঈফ আলী খুব ভাল অভিনয় করেছেন৷ অক্ষয়ও ভাল অভিনয় করেছেন৷ অনিল কাপুরের চরিত্রটিতে কমেডির ছোওয়া পাওয়া যায়৷ অনিল এই ছবিতে কিছু দ্বৈত অর্থের সংলাপ বলেছেন্৷ এই ছবিতে তিনজন নায়িকা খুবই স্বল্প পোশাক পড়েছেন৷ বিপাশা আর ক্যাটারিনা ছবির গ্ল্যামার বাড়াতে সহায়তা করেছেন৷ ছবির টেকনিক্যাল দিকটা খুব মজবুত৷ রাজীব যাদবের সিনেমাটিগ্রাফি প্রশংসার যোগ্য৷ কার রেসের দৃশ্যটা তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে ক্যামেরাবদ্ধ করেছেন৷ সলীম সুলেমানের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আর হুসেন বর্মবালার সম্পাদনাও ভাল হয়েছে৷
প্রীতমের সঙ্গীতে ছবির নামের সঙ্গে মানানসই৷ আল্লহ দুহাই দে, পহলী নজর মে আর টচ মী এই গানগুলো বর্তমানে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়েই তিনি রচনা করেছেন্৷ আর গানগুলোর দৃশ্যায়নও খুব সুন্দর হয়েছে৷ সব মিলিয়ে রেসের মধ্যে মনোরঞ্জনকারী পদার্থ তো আছে কিন্তু দর্শকরা রেস নিয়ে যতটা আশা করেছিল তা রেস পূরণ করতে পারে নি৷
|