ছবি: শৌর্য নির্দেশক: সমর খান সঙ্গীত পরিচালক: আদনান স্বামী অভিনয়ে: রাহুল বোস, মিনিষা লাম্বা, কে.কে.মেনন, দীপক ডোব্রিয়াল, জাভেদ জাফরী, সীমা বিশ্বাস, রোজা কেটেলানো, অমৃতা রাও৷ রেটিং: 3.5/5
সেনার পৃষ্টভূমি নিয়ে তৈরী শৌর্য ছবিটির মধ্যে দিয়ে নির্দেশক সমর খান এক গম্ভীর বিষয়কে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছেন৷ তিনি সেনা এবং সাধারন মানুষের মধ্যেকার সদর্থক নঞর্থক উভয় দিকটিই তুলে ধরেছেন৷ তবে সেনাবাহিনীকে কেন্দ্র করে এই ছবি তৈরী করা হলেও এই ছবিতে কোন রকম যুদ্ধ বা রক্তপাতের দৃশ্য রাখা হয় নি৷
ক্যাপ্টেন জাভেদ খান তাঁর সহকর্মীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন৷ কিন্তু নিজেকে অভিযোগ মুক্ত করতে তিনি কোন কথাই বলেন নি৷ ক্যাপ্টেন জাভেদের মামলা লড়ছেন সিদ্ধান্ত আর আকাশ৷ সিদ্ধান্ত আর আকাশ হলেন দুই বন্ধু৷ আকাশ যে কোন কাজ খুব মনযোগ দিয়ে করেন৷ কিন্তু সিদ্ধান্ত তাঁর বিপরীত৷ সিদ্ধান্ত জাভেদ খানের জন্য কেস লড়লেও এই কেস নিয়ে তাঁর কোন বিশেষ অভিরুচি নেই৷
কিন্তু সাংবাদিক কাব্যা সিদ্ধান্তের জ্ঞানচক্ষু খুলে দেয়৷ তিনি ক্যাপ্টেন জাভেদের মামলার ভিতরের রহস্য সিদ্ধান্তের সামনে তুলে ধরেন৷ জাভেদের কেসকে ঠিকমত জানার পর সিদ্ধান্ত জাভেদের চুপ থাকার পিছনের আসল কারনটি জানতে পারেন৷সিদ্ধান্ত এই রসহ্যকে উদ্ঘাটন করার কাজে উঠেপড়ে লাগে৷ জাভেদের চুপ থাকার পিছনে যে ভয়াবহ সত্যিটা ছিল তা প্রকাশ পায়৷
9/11 এর পর প্রত্যেক মুসলমানকেই সন্দেহের নজরে দেখা হত৷ কিন্তু এই ছবিতে এই তথ্যটাকে ভুল ভাবে প্রকাশ করা হয়েছে৷ এতে বলা হয়েছে সব মুসলমানরাই উগ্রপন্থী৷ একজন মুসলমান ব্রিগেডিয়ার প্রতাপের স্ত্রীকে 35 বার চাকু দিয়ে আঘাত করে, আট বছরের এক মেয়েকে ধর্ষন করে৷ অপরদিকে 70 বছরের এক মাকে জীবন্ত দগ্ধ করে৷
এই ঘটনার পর থেকেই প্রতাপ সব মুসলমানকে শত্রু বলে মনে করেন৷ সীমান্তে দেশের সুরক্ষা করতে গিয়ে প্রতাপ তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে মিলে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করেন৷ অপরদিকে ক্যাপ্টেন জাভেদ একজন দেশপ্রেমিক৷ তিনি মানবিকতার খাতিরে কোন কাজ করতে কখনও পিছপা হন না৷
এই ছবিতে সেনার ভাল এবং খারাপ উভয় দিকটিকেই তুলে ধরা হয়েছে৷ ছবির শেষের দিকে নির্দেশক সংবাদপত্রে সৈনিকদের বিরুদ্ধে যে ভাল, মন্দ উভয় ধরনের যে খবর ছাপা হয় সেই বিষয়টিকেও তুলে ধরেছেন৷ নির্দেশক সমর খান ছবির কাহিনীকে পর্দাতে খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন৷ অসাধারন ক্লাইমেক্সের মধ্যে দিয়ে এই ছবি শেষ করা হয়েছে৷
এই ছবির কাহিনী লিখেছেন জয়দীপ সরকার, অপর্না মালহোত্রা, এবং সমর খান৷ এই ছবির সংলাপ লিখেছেন অপর্ণা মালহোত্রা৷ তিনি অত্যন্ত আকর্ষনীয় সংলাপ লিখেছেন৷ শুধুমাত্র সংলাপের মধ্যে দিয়ে এই ছবির এক একটা চরিত্রকে ভালভাবে বুঝতে পারা গেছে৷ এই ছবির সংলাপের মধ্যেই অনেক গভীর অর্থ লুকিয়ে আছে৷ এই ছবির তারকারা সকলেই ভাল অভিনয় করেছেন৷ রাহুল বোসের অভিনয় দেখবার মত৷ ছবি শেষের কয়েক মিনিট কেকে মেননের অসাধারন অভিনয় দর্শকদের স্তম্ভিত করে দেয়৷
এছাড়া দীপক ডোব্রিয়াল, মিনিষা লাম্বা, সীমা বিশ্বাস এবং অমৃতা রাও এরা সকলেই ভাল অভিনয় করেছেন৷ আদনান স্বামী ছবির মুড অনুয়ায়ীই সঙ্গীত দিয়েছেন৷ কার্লোস কেটেলানের সিনেমাটোগ্রাফিও ভাল হয়েছে৷ লাইট, শেড এবং রঙের তিনি খুব সুন্দর প্রয়োগ করেছেন৷আম ফর্মুলা থেকে বেরিয়ে আপনি যদি অন্য ধরনের ছবি দেখতে চান তো শৌর্য ছবিটি দেখে আপনি আনন্দ লাভ করবেন৷
|