মুখ্য পৃষ্ঠা > মনোরঞ্জন > বলিউড > সিনেমা ফিরে দেখা
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
ইউ মি অর হাম: প্রথম নজরের প্রেম

ছবি: ইউ মি অর হাম
নির্মাতা: দেবগন ফিল্মস
নির্দেশক: অজয় দেবগন
সঙ্গীত পরিচালক: বিশাল ভরদ্বাজ
অভিনয়ে: অজয় দেবগন, কাজল, সুমিত রাঘবন,দিব্যা দত্তা, করণ খান্না, ইষা শ্রাবনী৷
রেটিং: 2.5/5

IFMIFM
ছোটবেলা থেকেই অজয় দেবগনের নির্দেশক হওয়ার ইচ্ছা ছিল৷ এতদিন পরে অজয়ের সেই ইচ্ছা পূর্ণ হল৷ একজন নির্মাতা হিসাবে অজয় ভাল ছবি তৈরী করেন নি৷ বর্তমান সময়ে বলিউডে লাভ স্টোরি নিয়ে সেরকম একটা ছবি তৈরী হচ্ছে না৷ নির্দেশক হিসাবে অজয় সেই লাভ স্টোরিকেই তাঁর প্রথম ছবির জন্য বেঁছেছেন৷ এই ছবির গল্পকে তিনি নোট বুক থেকে নিয়েছেন৷ আর ফ্ল্যাশব্ল্যাকে তিনি এই রোমান্টিক গল্পকে ফুটিয়ে তুলেছেন৷

ক্রুজে অজয় আর পিয়ার প্রেমকাহিনীর সূত্রপাত হয়৷ অজয় তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে জাহাজে মজা উপভোগ করতে যান৷ আর্ পিয়া জাহাজে চাকরী করেন৷ প্রথম বার পিয়াকে দেখার পরই অজয় পিয়ার প্রেমে পড়ে যায়৷ অজয় পিয়ার মন জয় করার চেষ্টা করে৷ পিয়ার মন জয় করার জন্য অজয় মিথ্যার আশ্রয়ও নেয়৷ কিন্তু কিছুতেই পিয়া প্রভাবিত হয় না৷ জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার সময় অজয় পিয়ার কাছে তাঁর ঠিকানা ছেড়ে যায়৷ কয়েক মাস বাদে পিয়া অজয়ের সঙ্গে গিয়ে দেখা করে৷ এরপর অজয় আর পিয়া দুজনে বিয়ে করে নেয়৷ গল্পে তখনই মোড় আসে যখন পিয়ার অলজীমার রোগের শিকার হয়৷

অলজীমার হল এমন একটি রোগ যাতে মানুষ কিছু মনে রাখতে পারে না৷ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে পিয়া কখনও স্বামী এমনকি বাচ্চাদেরও ভুলে যায়৷ আবার কখনও একদম পুরো সুস্থ থাকে অর্থাত তাঁর সব কিছু মনে থাকে৷ পিয়ার অবস্থা বিপদজ্জনক দেখে বাচ্চাদের কথা চিন্তা করে অজয় পিয়াকে কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করে দেয়৷ কোথাও না কোথাও অজয় একটু স্বার্থপর হয়ে পড়ে৷
IFMIFM


কিন্তু পিয়াকে ছাড়া অজয় এক মুহুর্তও থাকতে পারে না৷ অজয় পিয়াকে বাড়িতে নিয়ে আসে৷ প্রথম নজরের ভালবাসার পবিত্রতা এবং গভীরতাকে এই কাহিনীর গল্পে তুলে ধরা হয়েছে৷ অজয় আর পিয়ার এই রোমান্সের পাশে অজয়ের দুই বন্ধুর ভালবাসাকেও তুলে ধরা হয়েছে৷ অজয়ের দুই বন্ধুর মধ্যে একজন বিচ্ছেদের মুখে দাঁড়িয়ে আর অপর জুটির মধ্যে রয়েছে গভীর প্রেম৷ এই কাহিনীর মধ্যে বিয়ের আগের ভালবাসার সঙ্গে বিয়ের পরের ভালবাসার তুলনা করা হয়েছে৷

এই ছবির কাহিনী অত্যন্ত ভাল৷ তবে অজয় এই কাহিনীকে অত্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে দেখিয়েছেন৷ গল্পে মাঝে মাঝে হাসানোর চেষ্টা করা হয়েছে৷ কিন্তু এর জন্য লেখক্ এসএমএসের মধ্যে যে ধরনের জোকস পাঠানো হয় সেই জোকসের সাহায্য নিয়েছেন৷ ছবির গল্প ছয় জন তারকাকে নিয়ে রচিত হয়েছে৷ অজয় আর কাজল ছাড়া এই ছবিতে আর কোন বড় তারকাকে নেওয়া হয় নি৷
IFMIFM


নির্দেশনাতে অজয়ের দক্ষতা আছে৷ একজন নির্দেশক যখন তাঁর প্রথম ছবি দর্শকদের সামনে পেশ করেন তখন সব রকমভাবে তিনি দর্শকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন৷ সেইজন্য ছবি একটু বেশী পরিমানে দীর্ঘ হয়ে যায়৷ অজয়ের ক্ষেত্রেও সেই একই জিনিস ঘটেছে৷ তবে অজয় যদি ছবিকে আর একটু সংক্ষিপ্ত ভাবে তৈরী করতেন তাহলে তাঁর ছবির গ্ল্যামার বেড়ে যেত৷

এই ছবিতে অজয় ভাল অভিনয় করেছেন৷ কিন্তু অজয়ের লুক একেবারে আকর্ষনীয় ছিল না৷ অজয়ের চেহারায় বয়সের ছাপ পরিলক্ষিত হয়েছে৷ অজয় এই ছবিতে যে ধরনের পোশাক পড়েছেন তা একেবারেই উপযুক্ত ছিল না৷ অন্যান্য ছবির মত কাজল এই ছবিতেও অসাধারন অভিনয় করেছেন৷ কাজলকে দেখতে খুব ভাল লেগেছে৷ অজয়ের বন্ধু হিসাবে করণ খান্না, সুমিত রাঘবন, ইষা শ্রাবনী আর দিব্যা দত্তা ভাল অভিনয় করেছেন৷

অসীম এই ছবিতে ক্লোজ আপ শটের বেশী প্রয়োগ করেছেন৷ অজয়ের ক্লোজ আপ শট কম নিলে বেশী ভাল হত৷ ক্লোজ আপ শটে অজয়কে দেখতে একেবারেই ভাল লাগে নি৷ অশ্বনী ধীরের সংলাপ খুবই অর্থপূর্ন৷ তবে এই ছবির গান দর্শকদের মধ্যে তেমন ক্রেজ তৈরী করতে পারে নি৷ বিশাল ভরদ্বাজের সঙ্গীত নির্দেশনায় তৈরী এই ছবির সঙ্গীতে একটা গানও আকর্ষনীয় নয়৷ কাজলকে নিয়ে চিত্রিত সঈয়া এই গানটা ছবি থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া উচিত৷ কারন এই গানটা ছবির মধ্যে একেবারেই বেমনান৷ তবে মোটি শর্মা এই ছবিতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ভাল দিয়েছেন৷ সব মিলিয়ে ইউ মি অর হাম ছবিটি সেই সব দর্শকদেরই ভাল লাগবে যারা আবেগপ্রবন সিনেমা ধৈর্য ধরে দেখতে ভালবাসেন৷
অতিরিক্ত
শৌর্য
ওয়ান টু থ্রী নামের মজা
রেস
26 জুলাই এট বরিস্তা
ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট
ষোলশ শতাব্দীর প্রেমকথা যোধা আকবর