ছবি: টশান নির্মাতা: আদিত্য চোপড়া নির্দেশক: বিজয় কৃষ্ণ আচার্য সঙ্গীত পরিচালক: বিশাল শেখর অভিনয়ে: অক্ষয় কুমার, করিনা কাপুর, সঈফ আলী খান, অনিল কাপুর রেটিং: 2/5
1970 আর আশির দশকের বলিউডের যে কোন মশালা ছবিতে যে ফর্মুলা প্রয়োগ করা হত টশানেও সেই একই ফর্মুলা প্রয়োগ করা হয়েছে৷ টশান ছবির কাহিনী এবং স্ক্রিপ্ট লিখেছেন বিজয় কৃষ্ণ আচার্য৷ তবে বিজয় তাঁর ছবির মূল কাহিনী ও স্ক্রিপ্টের উপর স্টাইলিশ লুক দেওয়ার তুলনায় ছবির চরিত্র গুলোতে বেশী স্টাইলিশ লুক দিয়েছেন৷ যদি তিনি ছবিটাকে সব দিক দিয়ে স্টাইলিশ করতেন্ তাহলে হয়ত এই ছবির খামতিগুলো দর্শকদের নজর এড়াতে পারতো৷
ছবির গল্পে পূজা সিং অর্থাত করিনা তাঁর পিতার হত্যার বদলা নেওয়ার জন্য ভাইয়াজী অর্থাত অনিল কাপুরের 25 কোটি টাকা চুরী করে৷ পূজা জিমী অর্থাত সঈফের সাহায্যে ভাইয়াজীর 25 কোটি টাকা চুরী করে নেয়৷ ঐ টাকা চুরী করার জন্যই পূজা জিমীর সঙ্গে ভালবাসার নাটক করে৷ আর টাকা চুরী করে নেওয়ার পরই পূজা পালিয়ে যায়৷ এরপর ভাইয়াজী কানপুরের বচ্চন পান্ডে অর্থাত অক্ষয় কুমারকে পূজার কাছ থেকে ঐ টাকা ফিরিয়ে নিয়ে আসতে বলে৷ বচ্চনকে ভালবাসার জালে জড়িয়ে পূজা বোকা বানানোর চেষ্টা করে৷
কিন্তু ছোটবেলা থেকেই বচ্চনের সঙ্গে পূজার ভালবাসা থাকে৷ শেষে জিমী, পূজা আর বচ্চন মিলে ভাইয়াজী আর তাঁর গ্যাঙের কাছে বদলা নেয়৷পূজা পঁচিশ কোটি টাকা চুরী করার পর ভারতের আলাদা আলাদা জায়গায় সে ঐ টাকা লুকিয়ে রাখে৷ এরফলে স্ক্রিনে প্রচুর জায়গা দেখতে পাওয়া যায়৷ লাদাখ, কেরালা, হরিদ্বার, আর গ্রীসের মনোরম লোকেশানে এই ছবির শুটিং করা হয়েছে৷ তবে পর্দাতে হরিদ্বার আর রাজস্থানের মাঝে গ্রীসের লোকেশান তুলে ধরা হয়েছে৷
ফিল্মের ক্লাইমেক্সে বেশ কয়েকটি হাসির দৃশ্য রাখা হয়েছে৷ যেমন বোটে এসে সঈফের অনিলকে মারার দৃশ্য, চীনা মানুষদের সঙ্গে অক্ষয়ের লড়াই এর দৃশ্য, এছাড়া ভাইয়াজীর বারবার পেট উপরে তোলার দৃশ্যটিও বেশ হাস্যোসস্পদ৷ বিরতির পর ছবি যে গতিতে চলছিল সেই গতির ছন্দ পতন ঘটে৷ তবে এই ছবির পজিটিভ দিকটি হল অক্ষয় আর করিনার অসাধারন অভিনয়৷
এই ছবির কাহিনীটা নায়িকাকেন্দ্রিক৷ এককথায় বলতে গেলে করিনা হলেন এই ছবির হিরো৷ আর এই ছবির চরিত্রটিতে একেবারে পারফেক্ট লাগার জন্য করিনা প্রচুর পরিশ্রম করেছেন৷ বিশেষ করে তিনি ওজন কম করেছেন৷ আর করিনার পরিশ্রম সফল হয়েছে৷ পূজা চরিত্রটিতে করিনার অভিনয় এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ অত্যন্ত সাবলীল ছিল৷ কোথাও এতটুকু মেকি বলে মনে হয় নি৷
এই ছবিতে অক্ষয়ের অভিনয়ও প্রশংসারযোগ্য৷ করিনার প্রেমে পড়ার পর অক্ষয়ের লজ্জা পাবার দৃশ্যটি দেখবার মত৷ বচ্চন্ পান্ডের চরিত্রটিতে অক্ষয়কে খুবই মানিয়েছে৷ অক্ষয়ের বডি ল্যাঙ্গুয়েজও একেবারে সঠিক ছিল৷ সঈফের চরিত্রটিকে সেরকম খোলামেলা ভাবে প্রকাশ করা হয় নি৷ তবে তাঁর অভিনয় এবং যে কায়দায় তিনি সংলাপ বলেছেন্ তা দেখতে বেশ ভালই লাগে৷ তবে ভাইয়াজী অর্থাত অনিলের অভিনয় ভাল হলেও ভাইয়াজীর চরিত্রটা তেমন আকর্ষক ছিল না৷
বিশাল শেখরের সঙ্গীত শুনতে বেশ ভাল লাগে৷ আর সুন্দর লোকেশানে চিত্রায়ন (ছলিয়া, দিল ডান্স মারে, ফলক তক ) এই গানগুলোর সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে৷ টশান ছবির ট্যাগ লাইন ড্য স্টাইল... দ্য গুডলুক... দ্য ফর্মুলা... এর কোন কিছুই ছবিতে নজরে আসে নি৷ যা নজরে এসেছে তা হল ফর্মুলা৷
|