ছবি: অনামিকা নির্মাতা: ভবরলাল শর্মা নির্দেশক: অনন্ত মহাদেবন সঙ্গীত পরিচালক: অনু মালিক অভিনয়ে: ডিনো মরিয়া, মিনিষা লাম্বা, কোয়েনা মিত্র, গুলশন গ্রোভার৷
ছবির গল্প অথবা স্ক্রিপ্ট যদি খুব বেশী মাত্রায় টেনে বড় করা হয় তাহলে এর প্রভাব ছবির উপরে পড়ে৷ আর এই নমুনাই দেখা গেল অনামিকা ছবিটির মধ্যে৷ নির্দেশক অনন্ত মহাদেবন বিরতির আগে পর্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন৷ কিন্তু এরপর থেকেই তিনি দিশেহারা হয়ে যান৷ তিনি ছবির রহস্যকে দর্শকদের কাছে গোপণ রাখতে পারেন নি৷ সাসপেন্স বজায় রাখতে তিনি অক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন৷ ছবি চলাকলীনই আগে কি ঘটবে দর্শকরা তা বুঝতে পেরে যান৷ রসহ্যময় ছবির শেষ ভাগটা সুদৃড় হওয়া উচিত৷ কিন্তু অনামিকার শেষ ভাগটা সুদৃড় নয়, বরং দূর্বল৷
জিয়ার সঙ্গে (মিনিষা লাম্বা) ডিনো অর্থাত বিক্রম সিসোরিয়ার বন্ধুত্ব হয়৷ বন্ধুত্ব শেষ পর্যন্ত প্রেমের গন্ডিতে গিয়ে পৌঁছায়৷ ওরা দুজনে বিয়ে করে৷ বিয়ের পরে বিক্রম জিয়াকে জানায় যে ওর আগে একবার বিয়ে হয়েছিল৷ তাঁর প্রথম পক্ষের স্ত্রী অনামিকার রহস্য জনকভাবে মৃত্যু হয়েছে৷ এরপর জিয়া আর বিক্রম রাজস্থানের গজনের মহলে আসে৷ এই মহলেই বিক্রম থাকেন৷ এত বড় মহলের দেখাশোনা করেন বিক্রমের ছোটবেলাকার বন্ধু মালিনী (কোয়েনা মিত্র )৷ মহলের সব লোকরাই অনামিকার প্রশংসা করেন৷ অনামিকার সঙ্গে জিয়ার তুলনা করা হয়৷
ইতিমধ্যে অনামিকার মৃতদেহ পাওয়া যায়৷ অনামিকার মৃতদেহ পাওয়ার পর পুলিশ অফিসার ( গুলশন গ্রোভার ) এই মামলাটি নিয়ে পুণরায় তদন্ত শুরু করেন্৷ সকলের সন্দেহের তীর বিক্রমের দিকেই যায়৷ বিক্রম কি অনামিকাকে হত্যা করেছে? বিরতির আগে পর্যন্ত কাহিনীর মধ্যে আকর্ষন ছিল৷ রাজস্থানের লোকেশান, মহল এবং সকল তথ্যই রহস্য তৈরী করেছিল৷ কিন্তু বিরতির পর সব কিছু উল্টোপাল্টা হয়ে যায়৷ অনু মালিকের সঙ্গীত বেশ মধুর৷ কিন্তু গানের কোরিওগ্রাফি ছবির মুডের সঙ্গে একেবারেই বেমানান৷
আদেশ শ্রীবাস্তবের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও ভাল হয়েছে৷ ডিনো ভাল অভিনয় করেছেন৷ মিনিষা লাম্বা প্রতিটি ছবিতেই উত্কৃষ্ট অভিনয়ের পরিচয় দিচ্ছেন৷ কোয়েনা মিত্র এবং গুলশান গ্রোভারও অসাধারন অভিনয় করেছেন৷ অনামিকা র স্ক্রিপ্টটা খুব দূর্বল৷ আর এই ছবিতে সেরকম কোন বড় তারকা অভিনয় করেন নি৷ এই কারনেই এই ছবিটি হয়ত বক্স অফিসে তেমন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করতে পারবে না৷
|