ছবি: মিস্টার হোয়াইট মিস্টার ব্ল্যাক নির্মাতা: বিপিন শাহ নির্দেশক: দীপক শিবদশানি সঙ্গীত পরিচালক: যতিন ললিত, সমীর টেন্ডন, তৌসিফ আখতার৷ অভিনয়ে: সুনীল শেঠী, আরশাদ ওয়ারসী, সন্ধ্যা মৃদুল, মহিমা মেহতা, রশমি নিগম, অনিষ্কা খোসলা, আশীষ বিদ্যার্থী৷ রেটিং: 1/5
দীপক শিবদশানি কয়েক বছর আগে বেশ কয়েকটি সফল ছবি তৈরী করেছেন৷ কিন্তু এই পরিবর্তনের যুগে তিনি নিজেকে বদলাতে পারেন নি৷ তাঁর এই ছবিতেও পুরোনো ছাপই পাওয়া যায়৷ ছবিতে সুনীল শেঠী আর আরশাদ ওয়ারশী নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন৷ বর্তমানে এরা কেউই নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন না৷ এরা কেবলমাত্র চরিত্র ভূমিকায় অভিনয় করেন৷ কিন্তু নির্দেশক দীপক শিবদশানি তাঁর ছবিতে এদেরকেই নায়ক হিসাবে নিয়েছেন৷ এই নায়্কদের নায়িকা হিসাবে সফল অভিনেত্রীরা তো নিশ্চয়ই অভিনয় করবেন না৷ তাই কতগুলো ফ্লপ অভিনেত্রীদের নিয়ে তিনি তাঁর ছবি তৈরী করেছেন৷
ছবির লেখক সমস্ত পুরোনো ফর্মুলাকেই তাঁর ছবিতে গ্রহন করেছেন৷ হাসানোর জন্য দুজন নায়ক, একজন বোকা ডন,মূর্খ পুলিশ অফিসারকে তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসাবে পেশ করেছেন৷ এরমধ্যে তিনি কমেডিকেও রেখেছেন ভরপুর মাত্রায়৷ তিনি হাসানোর জন্য কমেডির মশালা তো ছবিতে রেখেছেন৷ কিন্তু ছবি দেখে কখনও সেরকম ভাবে হাসি পায় নি৷
কিশান ( আরশাদ ওয়ারসী) এর সন্ধানে হোশিয়ারপুর থেকে গোপী (সুনীল শেঠী) গোয়াতে আসেন৷ জমি দিয়ে দায়িত্ব মুক্ত হবার জন্য গোপী কিশানকে হোশিয়ারপুর নিয়ে যেতে চায়৷ কিশান হল মানুষদের বোকা বানিয়ে চুরী করে জীবন অতিবাহিত করে৷ কিশান গোপীর সঙ্গে হোশিয়ারপুর যেতে অসম্মতি প্রকাশ করে৷ অপরদিকে কেজি রিসোর্টের মালিকের মেয়ের সঙ্গে গোপীর বন্ধুত্ব হয়ে যায়৷ অপরদিকে তিনজন মেয়ে পঁচিশ কোটি টাকার হিরে চুরী করে কেজি রিসোর্টে লুকিয়ে যায়৷ কিশান যখন এই কথাটা জানতে পারে তখন সে কেজি রিসোর্টে ঐ হিরে চুরী করতে যায়৷ কিশানের পিছনে গোপীও আসে৷ এরপর কাহিনীতে অনেক চরিত্রকে দেখতে পাওয়া যায়৷ আর সবাই হিরে লাভের জন্য আসে৷
বিরতির পর কাহিনীর মধ্যে কোন তথ্যই বাকি থাকে না৷ দীপক আর স্ক্রিপ্ট লেখক সঞ্জয় পাবার আর নিশিকান্ত কামত কাহিনীতে অনেক চরিত্রকে সামিল করেছেন৷ কিন্তু তাঁরা চরিত্রগুলোকে পর্দাতে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন নি৷ ফিল্মের কাইমেক্সেও কোন নতুনত্ব ছিল না৷ নির্দেশক দীপক শিবদশানি ছবিকে স্টাইলিশ লুক দেওয়ার চেষ্টা করেছেন৷ কিন্তু তাঁর চেষ্টা সফল হয় নি৷
এই ছবির মূল দূর্বল দিকটি হল এই ছবির স্ক্রিপ্ট৷ সুনীল শেঠী আর আরশাদ প্রথমেই ছবির দূর্বলতা বুঝতে পেরে গেছিলেন৷ তাই তারা মন দিয়ে অভিনয় করেন নি৷ তবে সুনীল শেঠী এই ছবিতে বেশী অভিনয়ের সুযোগ পান নি৷ অপরদিকে শরত সাক্সেনা, মনোজ জোশী, আশীষ বিদ্যার্থী, অতুল কালে, উপাসনা সিং, সদাশিব আম্রপুরকার এরা সকলেই হাসানোর চেষ্টা করেছেন৷ কিন্তু এদের পরিশ্রম ব্যর্থ হয়েছে৷
ছবির নায়িকারা (রশমি নিগম, অনিষ্কা খোসলা, মহিমা মেহতা) এরা কেউই সুন্দর চেহারাযুক্ত নন৷ অপরদিকে অভিনয়েও এদের কোন দক্ষতা নেই৷ সন্ধ্যা মৃদুলের মত অভিনেত্রী কি ভেবে এই ছবিতে অভিনয় করতে সম্মতি প্রকাশ করেছিলেন সেটাই আশ্চর্যের বিষয়৷ এই ছবির সঙ্গীত মোটামুটি৷ টেকনিক্যাল দিকটাও দূর্বল৷ সব মিলিয়ে মিস্টার হোয়াইট মিস্টার ব্ল্যাক ছবিটিকে যদি রেট দেওয়া হয় তাহলে শূন্য দেওয়াটাই শ্রেয় হবে৷
|