ছবি: সরকার রাজ নির্মাতা: রামগোপাল বর্মা, প্রবীণ নিশ্চল নির্দেশক: রামগোপাল বর্মা অভিনয়ে: অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, ঐশ্বর্যা রাই, তনিষা গোবিন্দ, নামদেব, সয়াজী সিন্ধে, দিলীপ প্রভাবলকর,উপেন্দ্র লিময়ে, ভিক্টর ব্যানার্জী৷ রেটিং: 3.5/5
রামু তাঁর ফর্মে ফিরে এসেছেন৷ সরকার রাজ ছবিটি তাঁর প্রমান দিচ্ছে৷ এর আগে শোলের রিমেক আগ ছবিটি তৈরী করে রামু একটা ভুল করেছিলেন৷ সরকারের সিকোয়েলটির মধ্যে দিয়ে তিনি আবার একবার দর্শকদের মন জয় করতে সমর্থ হবেন৷ মহারাষ্ট্রের বিতর্কিত পাওয়ার প্রোজেক্ট এনরান এবং রাজনৈতিক দিক দিয়ে বলশালী ঠাকরে পরিবারকে কেন্দ্র করে এই ছবির পটভূমি রচিত হয়েছে৷ সরকার অর্থাত বিগ বি তাঁর জীবনে নিজের মত অনুয়ায়ী চলেন৷ তিনি যে সিদ্ধান্ত নেন সেটাকেই তিনি সঠিক বলে মনে করেন৷ কিন্তু তাঁর ছেলেই একদিন রাজনীতির বলী হয়৷ পাওয়ার প্ল্যান্ট গড়ার পিছনে নানারকম রাজনৈতিক চক্রান্ত করা হয়৷
সরকার ছবিটির মধ্যে দিয়ে রাজনীতির জঘন্য দিকটিকে তুলে ধরা হয়েছে৷ রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে সকলকে মোহরা বানানো হয়৷ স্বার্থের বিন্দুমাত্র বিচ্যুতি ঘটুক তা কেউ সহ্য করতে পারে না৷ এখানে কাউকে বিশ্বাস করা যায় না৷ বিশ্বস্থ মানুষই অনেক সময় বিশ্বাসঘাতকের কাজ করে৷ সেখানে শোক প্রকাশেরও ফুরসত থাকে না৷ ছেলের মৃত্যুর পর সরকার তাঁর আত্মীয় চিকুকে নাগপুর থেকে নিয়ে আসার জন্য ব্যস্ত হয়ে যায়৷ তবে নির্দেশক ছবির শেষের দিকে একটি দৃশ্যে এটাকে খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন৷ দৃশ্যটিতে অনিতা অর্থাত ঐশ্বর্য এককাপ চা নিয়ে আসার অর্ডার দেয়৷ রাজনীতির ক্ষেত্রে ব্যক্তির কোন গুরুত্ব নেই৷ ব্যক্তিকেও বস্তুর সমান ভাবা হয়৷
সত্যা আর কম্পানীর পর রামু আবার একবার রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ছবি করলেন৷ তবে এবারে রামু তাঁর ছবির স্ক্রিপ্টে কোন খামতি রাখেন নি৷ নির্দিষ্ট কয়েকটি চরিত্রের মধ্যে দিয়ে তিনি সুন্দরভাবে স্ক্রিপ্টটাকে পর্দাতে ফুটিয়ে তুলেছেন৷ এই ছবিতে কোন ডান্স বা গানের দৃশ্য তিনি রাখেন নি৷ গল্পের ডিমান্ড অনুয়ায়ী গান বা নাচের দৃশ্য রাখলে তা অযৌক্তিক হত৷ রামু চরিত্রের মধ্যে দিয়ে দর্শকদের মনোরঞ্জন করার চেষ্টা করেছেন৷ এই ছবির সংলাপ অত্যন্ত আকর্ষনীয়৷ রামু কোন তারকাকে ছবিতে প্রয়োজনের বেশী ফুটেজ দেন নি৷
অমিতাভ, অভিষেক এবং ঐশ্বর্যা এরা সকলেই তাদের চরিত্রে অসাধারন অভিনয় করেছেন৷ অপরদিকে ছবির অন্যান্য চরিত্রে যারা অভিনয় করেছেন ( দিলীপ প্রভাবলকর, গোবিন্দ নামদেব, সয়াজী সিন্দে এবং রবি কালে )এদের সকলের অভিনয়ই প্রশংসার যোগ্য৷ ছবির লেখক প্রশান্ত পান্ডে রামুর কাজটাকে আরও সহজ করে দিয়েছেন৷ রামুর সব ছবিতেই টেকনিক্যাল দিকটা মজবুত থাকে৷ এই ছবিটাও তার থেকে ব্যাতিক্রম নয়৷ অমিত রায়ের সিনেমাটোগ্রাফি প্রশংসার যোগ্য৷ লাইট এবং শেডের প্রয়োগ তিনি খুব ভাল ভাবে করেছেন৷ বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে শট নিয়ে তিনি প্রত্যেকটা চরিত্রের মানসিক স্থিতিকে পর্দাতে খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন৷
অমর মোহিলের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অত্যন্ত আকর্ষনীয়৷ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হল এই ছবির প্রধান আকর্ষন৷ সবে মিলে সরকার ছবির মধ্যে দিয়ে একটা গম্ভীর বিষয়কে রামু পর্দাতে ফুটিয়ে তুলেছেন৷ এই ছবিতে বচ্চন পরিবারের তিনজন মহারথী একসঙ্গে অভিনয় করেছেন৷ রাজনৈতিক ছবি দেখতে যারা পছন্দ করেন তারা এই ছবিটি দেখে আনন্দ পাবেন৷
|