মুখ্য পৃষ্ঠা > মনোরঞ্জন > বলিউড > সিনেমা ফিরে দেখা
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
থোড়া প্যায়ার থোড়া ম্যাজিক: বাস্তব-কল্পনার বুনেট  Search similar articles

ছবি: থোড়া প্যায়ার থোড়া ম্যাজিক
নির্মাতা: আদিত্য চোপড়া- কুণাল কোহলী
নির্দেশক: কুণাল কোহলী
গীতিকার: প্রসূন জোশী
সঙ্গীত পরিচালক: শঙ্কর-এষান-লয়
অভিনয়ে: সঈফ আলী খান, রাণী মুখার্জী, ঋষি কাপুর, অমীষা প্যাটেল( বিশেষ ভূমিকা), শ্রিয়া শর্মা, আয়ুশী বর্মন, রচিত সিদানা, অক্ষত চোপড়া৷

IFMIFM
সাধারনত শিশুদের গল্পের বইতে যেরকম পরীদের কাহিনী বর্ণনা করা হয় এই ছবির কাহিনীতেও সেই বিষয়টিতেই আলোকপাত করা হয়েছে৷ গল্পে অনাথ শিশুদের দুঃখ দূর করতে এক পরীর আগমন হয়৷ পরীর জাদুতে সেই শিশুদের দুঃখ দূর হয়ে যায়৷ গল্পের মধ্যে পরীর প্রেম সিকোয়েন্স এনে নির্দেশক কুণাল কোহলী তাঁর নিজস্ব কল্পনাকেও কাহিনীর মধ্যে সামিল করেছেন৷ ছবির নামটাতেই এর কিছুটা আভাস পাওয়া যায়৷

রণবীরের্ (সঈফ আলী খান)ভুলে একটি দুর্ঘটনায় ঐ চারজন শিশু তাদের বাবা মাকে হারায়৷ আদালতের বিচারে সঈফের উপরে ঐ চার শিশুকে দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ আরও বলা হয় তিন মাসের মধ্যে প্রমান করতে হবে যে সে ঐ বাচ্চাদের ঠিকমত লালন পালন করছেন নতুবা তাঁকে 20 বছরের জেল খাটতে হবে৷ ঐ শিশুরা রণবীরের সাজা হোক সেটাই চায়৷ এককথায় তারা প্রতিশোধ নিতে চায়৷ তারা রণবীরকে বিরক্ত করতে শুরু করে৷ঐ শিশুদেরও রণবীরের সঙ্গে থাকতে এক মুহুর্তও ভাল লাগে না৷ রণবীরও বিরক্ত হযে যায়৷ আর শিশুরাও হয়রান হয়ে যায়৷

অবশেষে তারা ভগবানের শরনাপন্ন হয়৷ আধুনিক যুগের শুট বুট পড়া ভগবান শিশুদের প্রার্থনা স্বীকার করেন৷ তিনি পরী গীতাকে(রাণী মুখার্জী)ঐ শিশুদের সমস্যা দূর করতে মর্ত্যে পাঠান৷ জাদুর ছড়ি ঘুরিয়ে গীতা বাচ্চাদের মন জয় করে নেয়৷ কিন্তু সে নিজেই প্রেমে পড়ে যায়৷ ছবির শুরুটা অতটা আকর্ষক ছিল না৷ রাণী আসার পর গল্পের আকর্ষন বাড়ে৷ রাণী এক এক করে প্রত্যেকটা শিশুর মন জয় করে৷ সঈফের বিরুদ্ধে তাদের সকল ঘৃণা মিটিয়ে দেয়
IFMIFM


কুণাল কোহলী নির্দেশিত হাম তুম ছবির কাহিনীটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হলেও অসাধারন কিছু দৃশ্যের মধ্যে দিয়ে কুণাল দর্শকদের মন জয় করেছিলেন৷ থোড়া প্যায়ার থোড়া ম্যাজিক্ এই ছবির গল্পটা অতি সাধারন৷ দর্শকরা সহজেই বুঝতে পেরে যান কখন এর সমাপ্তি হবে৷ ভাল দৃশ্য তৈরী করা সত্যিই কঠিন ব্যাপার৷ এই ছবিতে ভাল মন্দ উভয়েরই সংমিশ্রন রয়েছে৷

কুণাল কোহলী প্রধানত শিশুদের কথা মাথায় রেখেই এই ছবিটা তৈরী করেছেন৷ তবে এই ছবিতে লেজি লমহে.. এই হট গানটা তিনি কি ভেবে রেখেছেন সেটাই ভাববার বিষয়৷ রাণী এই ছবিতে ভাল অভিনয় করেছেন৷ তবে তিনি তাঁর ভূমিকাটিতে আশ্বস্ত ছিলেন না৷ সঈফ সব সময়ই একজন ধনী ব্যক্তির ভূমিকায় ভাল অভিনয় করেছেন্৷ সেইজন্য সঈফের কাছে এই চরিত্রটিতে অভিনয় করতে কোন রকম অসুবিধা হয় নি৷

ছবিতে আমীষার চরিত্রটি এরকম যে সবাই তাঁকে ঘৃণা করে৷ তবে ঘৃণার কারনটা জানা যায় নি৷ ছবিতে প্রতিটা শিশুই ভাল অভিনয় করেছে৷ তবে ওদের মধ্যে ইকবাল খুব হাঁসিয়েছে৷ আর ঋষি কাপুর হলেন কুণালের ছবির আবশ্যক অঙ্গ৷ এই ধরনের ছবিতে আকর্ষক মিউজিক রাখাটা অত্যন্ত জরুরী৷ কিন্তু শঙ্কর এষান লয়ের মিউজিক তেমন শ্রুতিমধুর হয় নি৷ এই ছবিতে অসাধারন স্পেশ্যাল এফেক্টসের প্রয়োগ করা হয়েছে৷ পরী রুপে রাণী যে জাদু দেখিয়েছেন তা অত্যন্ত অসাধারন পদ্ধতিতে পর্দাতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে
IFMIFM


তবে সন্দীপ চৌটার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকটা দৃশ্যের সঙ্গে মানান সই হয়েছে৷ সব মিলিয়ে থোড়া প্যায়ার থোড়া ম্যাজিক ছবিটা না খুব ভাল আবার না খুব খারাপ৷ মাঝারী ছবি বলাই শ্রেয় হবে৷ শিশুরা এই ছবিটা দেখে আনন্দ পাবে৷
অতিরিক্ত
হালে দিল
দে তালি: বাজবে না হাততালি
মেরে বাপ পহলে আপ: বাপরে বাপ
আমীর: বাস্তবের বেড়াজাল
সরকার রাজ: রাজনীতির চাল
উডস্টাক ভিলা