ছবি: কিসমত কানেকশ নির্মাতা: কুমার এস. তৌরানী- রমেশ্ এস. তৌরানী নির্দেশক: আজিজ মির্জা সঙ্গীত: প্রীতম চক্রবর্তী অভিনয়ে: শাহিদ কাপুর, বিদ্যা বালান, জুহি চাওলা, ওম পুরী৷
নির্দেশক আজিজ মির্জার বাবা বলতেন যারা যুবাবস্থায় ভাগ্যের উপর ভরসা করে তাদের মত মূর্খ আর কেউ নেই৷ অপরদিকে যারা বৃদ্ধ বয়সে ভাগ্যের উপর ভরসা করেন না তাদের থেকে বড় মূর্খও আর কেউ নেই৷ এই বিষয়টা নিয়ে অনেক বিতর্কেরই সৃষ্টি হয়েছে৷ আর এই বিষয়টা নিয়েই কিসমত কানেকশানের কাহিনীটা লিখেছেন আজিজ কন্যা রাহিল মির্জা৷ সত্যি কি ভাগ্য নামে কোন জিনিস আছে? অনেক ব্যক্তিরাই যারা জীবনে সফল হতে পারেন না তারা তাদের বিফলতাকে ভাগ্যের দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যান৷ তবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে দেখলে ভাগ্য নামে কোন বস্তুই নেই৷কিসমত কানেকশানের গল্পে ভাগ্যকেই মূল আধার বানানো হয়েছে৷
ছবির গল্পের নায়ক রাজ অর্থাত শাহিদ খুব প্রতিভাশালী হওয়া সত্ত্বেও জীবনে সফল হতে পারেন না৷ অবশেষে সফলতা লাভ করার জন্য সে কার্ড রিডার হসিনা বানো অর্থাত জুহি চাওলার কাছে যান৷ হসিনা ভবিষ্যত বলতে পারেন৷ তিনি রাজকে বলেন যদি সে তাঁর লাকি চার্ম খুঁজে নেয় তাহলেই সে জীবনে সফলতা লাভ করবে৷ রাজ তাঁর লাকি চার্ম খুঁজে পায়৷ রাজের লাকি চার্ম হলেন প্রিয়া অর্থাত বিদ্যা বালান৷
প্রথমদিকে প্রিয়া আর রাজের মধ্যে খুব ঝগড়া হয়৷ কিন্তু যখনই প্রিয়া রাজের সঙ্গে থাকে তখন রাজের সব কাজ সফল হয়ে যায়৷ এরপর রাজ বুঝতে পারেন প্রিয়াই হলেন রাজের লাকি চার্ম৷ এই ছবির গল্পটার মধ্যে কোন অভিনবত্ব নেই৷ ছবির নায়িকা প্রিয়া অর্থাত বিদ্যা একমাত্র কমিউনিটি সেন্টার চলায়৷ সেই সেন্টারের জায়গায় বিল্ডার সঞ্জীব গিল অর্থাত ওম পুরী একটা শপিং মল তৈরী করতে চান৷ আর এই শপিং মলের ডিজাইন তৈরী করছেন রাজ৷ এই শপিং মল নিয়ে রাজ আর প্রিয়ার মধ্যে বেশ ভুল বোঝাবুঝি হয়৷ আর ওদের দুজনার এই ভুলবোঝাবুঝি কি করে মেটে ছবির গল্পে সেটাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে৷ ভারতেই এই ছবির শুটিং করা যেতে পারত৷ কিন্তু ছবিকে একটা অত্যাধুনিক রুপ দেওয়ার জন্যই এই ছবির শুটিং কানাডাতে করা হয়েছে৷
ছবির গল্পের মধ্যে নতুনত্ব না থাকা সত্ত্বেও এই ছবির স্ক্রিন প্লে বেশ বুনেট৷বিরতির পর থেকে ছবির গতি খুব কমে যায়৷ এছাড়া অনেক গান সঠিক সময়ে উপস্থাপন করা হয় নি৷ আজিজ মির্জা হলেন একজন দক্ষ নির্দেশক৷ অনেক দৃশ্যে তিনি তাঁর দক্ষতার ছাপ রেখেছেন৷ তবে রাজ বন গয়া জেন্টালম্যানের রাজু আর কিসমত কানেকশানের রাজ এই দুই চরিত্রের মধ্যে কোন তফাত নেই৷রাজকেও রাজুর মত তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রচুর সংগ্রাম করতে হয়৷ শাহিদ তাঁর চরিত্রটিতে মোটামুটি অভিনয় করেছেন৷ অনেক দৃশ্যে তিনি শাহরুখের মতন অভিনয় করেছেন৷ এছাড়া অনেক দৃশ্যে শাহিদের অভিনয় মেকী বলে মনে হয়েছে৷
ছবির নায়িকা বিদ্যা বালান ছবিতে অনেকবার হেয়ার স্টাইল বদলেছেন৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও কোন হেয়ার স্টাইলেই তাঁকে পারফেক্ট বলে মনে হয় নি৷ অপরদিকে ড্রেসিং সেন্স নিয়েও বিদ্যা সমলোচনার স্বীকার হয়েছেন৷ পর্দাতে শাহিদের সঙ্গে তাঁর কেমিস্ট্রী একেবারেই ফোটে নি৷ জুহির অভিনয়েও নাটকীয়তা ধরা পড়েছে৷ তবে ওম পুরী, বিশাল মালহোত্রা, মনোজ বোহরা এবং হিমানী শিবপুরী ভাল অভিনয় করেছেন৷
প্রীতমের সুর বেশ সুন্দর৷ ছবির কয়েকটা গান শুনতে বেশ ভাল লাগে৷ অপরদিকে বিনোদ প্রধান তাঁর ক্যামেরার লেন্সে কানাডার প্রাকৃতিক দৃশ্যকে খুব সুন্দরভাবে বন্দী করেছেন৷ সব মিলিয়ে কিসমত কানেকশান এই বিশ্বাসকেও বেশী গুরুত্ব দেয় তা হল কর্মের সঙ্গে সঙ্গে জীবনে সফল হতে গেলে ভাগ্য থাকাও প্রয়োজন৷ তবে খামতি থাকা সত্ত্বেও কিসমত কানেকশান ছবিটা দেখে আপনি বিরক্ত হবেন না৷
|