ছবি: আগলী অর পাগলী নির্মাতা: রঙ্গিতা প্রীতিশ নন্দী- প্রীতিশ নন্দী নির্দেশক: শচিন কমলাকর খোট কাহিনী লেখক: অনিল পান্ডে গীতিকার: অমিতাভ বর্মা সঙ্গীত পরিচালক: অনু মালিক অভিনয়ে: মল্লিকা শেরাবত, রণবীর শৌরী, টিনু আনন্দ, সুস্মিতা মুখার্জী, মনীষ আনন্দ, বিহাঙ্গ নায়ক, ভারতী আচরেকর৷
'অগলী অর পাগলী' ছবির নামটা সুন্দর৷ কিন্তু ছবির নামের মত ছবিটা কিন্তু অত সুন্দর নয়৷ ছবির কাহিনীতে কবীর অর্থাত রণবীর শৌরী হলেন একজন পাগল ছেলে৷ পাগল মানে সে দশ বছর ধরে একজন গার্লফ্রেন্ডের স্বপ্ন দেখছে৷ এমনিতে কবীর ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে৷ অপরদিকে কুহু অর্থাত মল্লিকা একজন সুন্দরী বেপরোয়া মেয়ে৷ মুখ চালানোর সঙ্গে সঙ্গে হাত চালাতেও সে পারদর্শী৷ কবীর আর কুহু দুজনেই বিপরীত্ স্বভাবের৷ ওদের দুজনকে নিয়ে প্রেম কাহিনী তৈরী করার ধারনাটা বেশ সুন্দর৷ ছবির চরিত্র নির্বাচন তো ঠিক হয়েছিল৷
তবে নির্দেশক শচিন খোট আর লেখক অনিল পান্ডে এই চরিত্রগুলোকে নিয়ে সম্পূর্ণ কাহিনীকে পরিপূর্ণ রুপ দিতে পারেন নি৷ কুহু তাঁর প্রেমিককে ভোলার জন্য কবীরের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে৷ কবীরের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর পরেও কুহু তাঁর পুরোনো প্রেমিককে ভুলতে পারে না৷ তখন কুহু কবীরের থেকে দূরে চলে যায়৷ কবীর কুহুকে খুঁজতে থাকে৷ কিন্তু সে কুহুকে খুঁজে পায় না৷ শেষে পুরো ফিল্মী কায়দাতেই ওদের দুজনের মিলন হয়৷
ছবির গল্পটা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত৷কিন্তু এই কাহিনীকে ছবির নির্দেশক আর লেখক পর্দাতে ঠিকমত পেশ করতে পারেন নি৷ কবীরের থেকে নিজেকে দূরে সরানোর জন্য কুহু কলকাতা কেন যায় ছবিতে সেই বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা হয় নি৷ কুহু চলে যাওয়ার পর কবীর কুহুকে একবারের ত্বরেও খোঁজে না৷ কুহুকে ই-মেল, এসএমএস এবং ফোন করার বদলে সে একটা গাছের মধ্যে ম্যাসেজ লিখতে থাকে৷ তবে কাহিনী লেখক ঐ গাছটাকে এত গুরুত্ব কেন দিয়েছেন তা বোঝা দায়৷ কারন সমগ্র ছবিতে কবীর এবং কুহু একবারও ঐ গাছটার কাছে যায় নি৷
কবীর কেন হঠাত তাঁর ফোন নাম্বার বদলে ফেলে? কুহু কেন হঠাত গৌরব কাপুরকে বিয়ে করতে রাজী হযে যায়? কবীর সম্বন্ধে গৌরব কি করে সব তথ্য জানে? গৌরবের মাধ্যমে কবীর কেন কুহুর সঙ্গে সাক্ষাত করে না? ঐ সব তথ্যের কোন উত্তর পাওয়া যায় না৷ শচিন খোটের এই ছবিটা দেখে মনে হয় ছবি বিষয়ে তাঁর বিশেষ কোন অভিজ্ঞতা নেই৷ ছবিতে এমন কিছু দৃশ্য আছে যা গল্পের উপর কোন প্রভাব ফেলে না৷ ছবিতে কবীর আর কুহু একটা বিল্ডিং এ দেখা করে৷ ঐ বিল্ডিংটা কার? ওরা ঐ বিল্ডিং-এ কেন দেখা করত? সে বিষয়ে কিছুই বলা হয় নি৷
কুহুর মোবাইল কবীর সকাল বেলায় ফিরিয়ে দিতে যায়৷ এরপর ওরা একটা রেস্তোরাতে যায়৷ সেখান থেকে বেরোতে বেরোতে রাত হয়ে যায়৷ এই দৃশ্য গুলোর মধ্যে কোন তারতম্য খুঁজে পাওয়া যায় না৷ ছবিতে একই দৃশ্য বার বার দেখানো হয়েছে৷
তবে এই ছবির প্রধান আকর্ষন হল মল্লিকা আর রণবীর শৌরীর অসাধারন অভিনয়৷ দুজনেই তাদের চরিত্রের গভীরে ঢুকতে সমর্থ হয়েছেন৷ এই ছবিতে জিনাত আমন, টিনু আনন্দ, সুস্মিতা মুখার্জী এবং ভারতী আচরেকার সংক্ষিপ্ত ভূমিকায় নজরে এসেছেন৷ সবে মিলে আগলী অর পাগলী হল শুধু আগলী এরমধ্যে সিনেমার মাধুর্য একেবারেই অনুপস্থিত৷
|