'কাবুল এক্সপ্রেসে' আফগানিস্থানের তালিবান জঙ্গি গোষ্ঠীর সন্ত্রাসকে নিয়ে নাড়াচাড়ার পর বলিউডের নির্দেশক কবীর খান গড়েছেন নিউইয়র্ক৷ এখানেও ছবির প্রেক্ষাপটে রযেছে সন্ত্রাস৷ তবে একেবারে 9/11 এর ঘটনা নয়, আমেরিকাতে এই সন্ত্রাসবাদী হামলা হওয়ার পরে সারা বিশ্ব জুড়ে যে সামাজিক পরিবর্তন এসেছে তাঁকে ঘিরেই গড়া হয়েছে এই ছবির চিত্রনাট্য৷ তবে নামটা নিউইয়্র্ক, কারণ ঘটনাটা সেখানকার৷
কবীর খানের নিউইয়্র্ক নিয়ে উত্তেজনার শেষ ছিল না৷ কারন এক তো দীর্ঘদিন ধরে চলা ধর্মঘটের পর মুক্তি পেয়েছে এই ছবিটি৷ বড় ব্যানার৷ তার উপর ছবির স্টারকাস্ট একেবারেই নতুন৷ বলিউডে এই ছবির তারকারা নতুন না হলেও এই প্রথম কোন ছবিতে তারা একসঙ্গে অভিনয় করলেন৷ নতুন জুটি বললে ভুল হবে না৷ ঘটনাটা গড়া হয়েছে তিন বন্ধুকে কেন্দ্র করে৷ ওমর (নীল),মায়া(ক্যাটরিনা)আর স্যাম (জন)৷ এদের মধ্যে ওমর তাঁর প্রাণের শহর আমেরিকাতে প্রথম বার যায়৷ উচ্চতর বিদ্যার্জনের জন্যই তাঁর আমেরিকায় পাড়ি দেওয়া৷
IFM
IFM
সেখানে ইউনিভার্সিটিতে তাঁর স্যাম আর মায়ার সঙ্গে আলাপ হয়৷ হাসি, মজা আনন্দকে ঘিরেই তাদের জীবন কাটে৷ কিন্তু হঠাত করে এমন কিছু ঘটে যা তাদের জীবনকে রাতারাতি বদলে দেয়৷ এফ বি আই এজেন্ট রোশানের( ইরফান খান)উপস্থিতিতে তাদের জীবনে নানা উত্থান পতন ঘটে৷ এই প্রেক্ষাপটেই ছবির কাহিনী গড়া হয়েছে৷ আমেরিকার উত্কৃষ্ট লোকেশান, উপযুক্ত স্টারকাস্ট তার উপর জমজমাট চিত্রনাট্য তিন ঘন্টা দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখবে৷ কাহিনী লেখার সময় লেখক অত্যন্ত মনযোগ সহকারে চরিত্র গুলোকে লিখেছেন৷
IFM
IFM
ছবির মূল চাবিকাঠিটা দ্বিতীয় অধ্যায়ে৷ সেখানে ক্লাইমেক্সটা অসাধারন ভাবে ফুটিয়েছেন নির্দেশক কবীর খান৷ তিনি কিছু বাস্তব চিত্রকে তুলে ধরেছেন৷ জন, ক্যাটরিনা, নীল এই জুটিকে দর্শকরা প্রথমবার একসঙ্গে অভিনয় করতে দেখবেন৷ তবে চমকপ্রদ অভিনয় ও আকর্ষণীয় লুকের সুবাদে তারা তাদের প্রিয় জুটি হয়ে উঠতে পারেন৷ জনের কেরিয়ারের বেস্ট পারফরমেন্স বললেও ভুল হবে না৷
অপরদিকে নীল নিতিন মুকেশও ফ্লপের বিপর্যয় কাটিয়ে এই ছবির মধ্যে দিয়ে প্রমাণ করেছেন অভিনয়টা তিনি জানেন৷ ক্যাটরিনার গ্ল্যামার তাঁকে মোহময়ী করে তুলেছে৷ শুধু সৌন্দর্যেই নয়, অভিনয়টাও তাঁর এক কথায় ব্রিলিয়ান্ট৷ ইরফান সব সময়েই শ্রেষ্ঠ৷ সবে মিলে নিউইয়্র্ককে যশরাজ ব্যানারের উত্কৃষ্ট ছবি বললে অত্যুক্তি হবে না৷