বলিউডের গ্ল্যামার কুইন মাধুরী তাঁর সুন্দর হাসি ও অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন৷ যশরাজ ব্যানারের আজা নাচ লে ছবিটির মধ্যে দিয়ে মাধুরী বলিউডে পুণরায় অভিনয় শুরু করেছেন৷ বিয়ের পর মাধুরী আমেরিকাতে চলে যান৷ দীর্ঘ ছয় বছর পর তিনি আবার অভিনয় শুরু করেছেন৷ 30 শে নভেম্বর এই ছবিটি মুক্তি পাবে৷ মাধুরীর ফ্যানরা এই ছবিটির জন্য অপেক্ষা করে আছেন৷ ছবির প্রসঙ্গে মাধুরী বলেন যে বলিউডে অভিনয় শুরু করার বিষয়ে এই ছবিটি থেকে অন্য কোন ভাল ছবি ছিল বলে আমার মনে হয় না৷ এখন দর্শকদের উপরে ছবিটির ভাগ্য নির্ভর করছে৷ মাধুরীর সঙ্গে সাক্ষাতকারের একটি অংশ তুলে ধরা হল৷
আপনি আবার অভিনয় শুরু করলেন বলিউডে ফিরে আসার সিদ্ধান্তটা কি আপনার পক্ষে কঠিন ছিল?
হ্যাঁ৷ দীর্ঘ সময় পর পুণরায় শুরু করা সত্যিই কঠিন৷ এছাড়া দীর্ঘ সময় পরে কাজ শুরু করলে সবার আগ্রহ থাকে কি ছবিতে অভিনয় করছি? কোন চরিত্রে অভিনয় করছি? মানুষ অনেক বেশী আশা রাখেন এতে একটা মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়৷ তখন এটাই মনে হয় আমি কি ভাল করছি? দর্শকেরা কি আমার অভিনয় পছন্দ করবেন? এইরকম নানা প্রশ্ন মনে ঘুরপাক খেতে থাকে৷ এছাড়া আমার দুটো বাচ্চা আছে৷ ওদের সব দায়িত্ব আমাকে পালন করতে হয়৷ আমি প্রথমে ভেবেছিলাম মুম্বই এর সঙ্গে ওরা মানিয়ে নিতে পারবে কিনা? কারণ এতদিন ওরা মুম্বই এর বাইরে ছিল৷ এই নিয়ে আমি চিন্তিত ছিলাম৷কিন্তু ওরা শুটিং এর সময় খুব মজা করেছে৷ আমার বড় ছেলেতো হিন্দী বলছে এমন কি হিন্দী গানও গাইতে শুরু করেছে৷
এই ছবিটা আপনি কি করে পেলেন?
ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে নাচ করার পর যশজী আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল তুমি কি সিনেমায় পুণরায় অভিনয় করবে?আমরা শুধু কথা বলেছিলাম৷ আমি এটা কথাটিকে অত গভীরভাবে নিয় নি৷ পরে আদিত্য চোপড়া এই বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেন৷এর আগে যশরাজ ব্যানারের দিল তো পাগল হ্যায় ছবিটিতে আমি অভিনয় করেছি৷ এই ব্যানারের প্রতিটি কাজ খুব শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে হয়৷ এরা যা কথা দেয় সেটা সবসময় পূরণ করে৷যশজীর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে৷ কি ভেবে আপনি আজা নাচ লে ছবিটিতে সম্মতি দিয়েছেন?
পশ্চিমের সংস্কৃতি হাওয়া আমাদের দেশে প্রবেশ করেছে৷ এই কারণে আমাদের সাংস্কৃতিক কলাগুলো লুপ্ত হতে বসেছে৷ এরমধ্যে একটি হল থিয়েটার৷এই ছবিটির মধ্যে আমরা আমাদের সংস্কৃতির ছোঁয়াটি পাব৷ ছবির গল্পটি বর্তমান যুগের সঙ্গে একেবারে মানানসই৷
এই ছবিতে আপনার চরিত্রটির সম্পর্কে কিছু বলুন?
এই ছবিতে দিয়া নামে চরিত্রটিতে আমি অভিনয় করেছি৷ সুচিন্তিত ধারনা ও স্বতন্ত্র বিচারের দ্বারা জীবনে যে কোন সিদ্ধান্ত নেয় দিয়া৷ দিয়া তাঁর ভালবাসার খাতিরে নিজের গ্রাম ছেড়ে নিউইয়র্কে চলে যায়৷ বিয়ের পরে ও বুঝতে পারে যে একজন খারাপ মানুষকে ও ভালবেসেছে৷ তখন ও নিজের গ্রামে ফিরে আসে৷ গ্রামবাসীরা ওর উপর রেগে থাকে৷ তার উপর গুরুজীর থিয়েটারটিকে ও বাঁচাতে চায়৷ দিয়া সেই রকম চরিত্রের মেয়ে যে সমস্যার সমাধান করতে জানে৷ সমস্যায় পড়ে সে কখনও দূর্বল হয় না৷ ও খুব আশাবাদী থাকে এবং সবসময় আগের কথা চিন্তা করে৷ ও বিশ্বাস করে প্রত্যেক মানুষের মধ্যে ভাল গুণ রয়েছে৷
এতদিন পর আপনি শুটিং করলেন৷ শুটিং এর প্রথম দিনটা কেমন লেগেছিল?
খুব ভাল৷ প্রথম দুই ঘন্টা একটু আশঙ্কায় ছিলাম৷ কোন ভুল তো হচ্ছে না৷ কিন্তু দু ঘন্টা পর আমি ভুলে গেছিলাম যে দীর্ঘ ছয় বছর পরে আমি শুটিং করছি৷
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রীতে কোন পরিবর্তন এসেছে বলে আপনার মনে হয়েছে?
আমি অনেক পরিবর্তন দেখলাম৷ এখন বিভিন্ন বিষয়ের উপর ছবি তৈরী করা হচ্ছে৷ সমস্ত কাজ সুনির্দিষ্ট উপায়ে হচ্ছে৷ ডায়্লগ প্রথমেই দিয়ে দেওয়া হয়৷ আমার মনে আছে আগে যখন আমি শুটিং-এ যেতাম অনেকবার এরকম হয়েছে আমি জানতাম না যে আমাকে কি বলতে হবে৷ এখন এরকম হয় না৷ এটা তারকাদের পক্ষে সুবিধাজনক৷ ওরা সবাই প্রস্তুতি নিয়ে আসে৷ এতে কাজও তাড়াতাড়ি এগোয়৷ এখন সিক সাউন্ডে শুটিং করা হয়৷ এতে ডাবিং এর প্রয়োজন হয় না৷ এখন ভেজা ফ্রাই এবং খোসলা কা ঘোসলার মত ছবি সফল হয়৷ তাই বলা যায় ভারতীয় সিনেমায় এক অনন্য পরিবর্তন এসেছে৷ নির্দেশক অনিল মেহতার সঙ্গে কাজ করে আপনার কেমন মনে হয়েছে?
এর আগে আমি ভাবতাম আমার মত ধের্যশীল ব্যক্তি পৃথিবীতে দ্বিতীয় আর কেউ নেই৷ কিন্তু অনিলের সঙ্গে সাক্ষাত হওয়ার পর আমার ধারনা বদলেছে৷ পরিস্থিতি যে রকমই হোক না কেন অনিল কখনও আশা হারান না৷ তারকাদের তাদের মত করে অভিনয় করার সুযোগ দেন৷
আজা নাচ লের পর আপনি কি অন্য কোন ছবিতে অভিনয় করবেন?
আমি এখনও এই ব্যাপারে কিছু চিন্তা করি নি৷
|