মুখ্য পৃষ্ঠা > মনোরঞ্জন > ভ্রমণ > বঙ্গ দর্শন > চলুন বেড়িয়ে আসি চার ধাম
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
চলুন বেড়িয়ে আসি চার ধাম

উত্তরাঞ্চলের প্রধান চারটি তীর্থক্ষেত্র হল বদ্রীনাথ,কেদারনাথ, গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী যা আদি-অন্ত কাল ধরে হিন্দু তথা ভারতীয় এবং বিদেশী সকল তীর্থযাত্রীদের কাছে আর্কষণের কেন্দ্রবিন্দু৷ পূজো উপলক্ষ্যে কর্মব্যস্ত বাঙালী বেরিয়ে পড়ে দেশে-বিদেশে নানা প্রান্তে৷এই উপলক্ষ্যে আপনিও বাংলা ওয়েবদুনিয়ার সঙ্গে ঘুরে আসুন চার ধামে৷ এই পর্যায়ে আমাদের প্রথম দর্শনের স্থান-বদ্রীনাথ৷

বদ্রীনাথ-

ভারতের উত্তরাখন্ডের উত্তরে 3110 কি.মি. উচ্চতায় ঋষি গঙ্গা ও অলকানন্দা নদী-র সঙ্গম স্থলে বদ্রীনাথ অবস্থিত৷ হিন্দু
WDWD
ধর্মীয় সূত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটি একসময় 'বদ্রীবন' নামে এক ঘন জঙ্গলে ঢাকা সাধু-সন্তদের তপস্যা করার স্থান ছিল৷ সুউচ্চ নীলকন্ঠ পর্বতের কাছে বদ্রীনাথ 'নর ও নারায়্ণ' পাহাড় দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল৷ অশোকের রাজত্ব কালে এই মন্দিরটি বৌদ্ধদের মন্দির হিসাবে পরিচিত ছিল৷ কিন্তু 'স্কন্দপুরান' অনুযায়ী ভগবান বদ্রীনাথের মূর্তি 'নারদ কুন্ড' থেকে উদ্ধার করে আদিগুরু শঙ্করাচার্য তা মন্দিরে স্থাপন করেন৷ মন্দিরে স্থাপিত পদ্মাসনে অধিষ্ঠিত ভগবান বিষ্ণুর মূর্তিটি কষ্টি পাথরে তৈরী৷ মন্দিরে বদ্রীনাথের মূর্তি ছাড়াও ব্রক্ষ্মা, বিষ্ণু, মহেশ, হনুমান, কালি- সকলের মূর্তিই আছে৷ ভক্ত যে

রূপে তার আরাধ্যকে দেখতে চান এখানে তাঁর দর্শন পাওয়া যায়৷

মন্দিরটি তিন ভাগে বিভক্ত৷প্রথম ভাগ 'গর্ভগৃহ', যেখানে ভগবান বদ্রীনাথের মূর্তি সোনার মোড়কে আচ্ছাদিত আছে৷ দ্বিতীয় ভাগ 'দর্শন মানস', যেখানে পূজোর কাজ হয়ে থাকে এবং শেষ অংশটি হল 'সভা মন্ডপ' যেখানে সকাল 6.30 থেকে দুপুর 1 টা এবং বিকাল 4টে থেকে রাত 9টা পর্যন্ত সময়ে ভক্ত সমাগম হয়ে থাকে৷ বেদমন্ত্র-র উচ্চারণ ও ঘন্টার আওয়াজ মন্দিরে এক অন্য পরিবেশের সৃষ্টি করে৷

মন্দির সন্নিবিষ্ট দুটি গরম জল কুন্ড 'নারদ কুন্ড' এবং সূর্য কুন্ড' তে তীর্থয়াত্রীরা পূণ্যস্নান সেড়ে দেবদর্শনে যান৷ খুব কাছেই 'বসুধরা' জলপ্রপাতটি মাত্র 4.5 কি.মি. দূরত্বে অবস্থান করছে৷ ভক্তদের কাছে চারধামের মধ্যে প্রধান হল 'বদ্রীনাথ' কারণ ভগবানের প্রতি ভক্তি ও বিশ্বাসের প্রথম ধাপ হল এটি৷

বদ্রীনাথ মন্দিরের ঠিক পেছনের দিকে একটি উপত্যকা আছে যেখান থেকে নীলকন্ঠ পর্বতের চূড়ায় ওঠার পথটি এই স্বর্গীয় ভূমির নৈসর্গিকতাকে স্বরূপ প্রদান করেছে৷ ভোরবেলায় নীলকন্ঠ পর্বতের চূড়া দেখতে ভীষণ ভালো লাগে৷

বদ্রীনাথ মন্দিরের পূজারী 'রাওয়াল' নামে পরিচিত যিনি কেরালার নাম্বুদ্রীপাদ ব্রাক্ষ্মণ৷ আদিগুরু শঙ্করাচার্যও একজন নাম্বুদ্রীপাদ ছিলেন৷ এরা সংস্কৃত ও পুজার বিধিবিধান সম্পর্কে যথেষ্ঠ জ্ঞানী হন৷ বদ্রীনাথ মন্দির কমিটি এবং তেহরি গাড়োয়ালের মহারাজা যৌথভাবে এই পুজারী নিযুক্ত করেন৷

জ্যোতিষী ও পন্ডিতদের মতামত নিয়ে মন্দির কমিটির চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার মন্দির খোলার দিন ধার্য করেন৷ সাধারণতঃ এপ্রিল মাসের শেষ বা মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এই মন্দির খোলা হয়৷ অখন্ড জ্যোতি দর্শনের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান হয়ে থাকে৷ মন্দির বন্ধ করাও হয় এই ভাবেই৷ নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সাধারণতঃ মন্দির বন্ধ করা হয়৷ মন্দির বন্ধ করার অনুষ্ঠানে মন্দিরের সকল সদস্য এবং পুরোহিতেরা সকলে মন্দির থেকে জোশীমঠ-এ নেমে এসে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করে থাকেন৷

পঞ্চবদ্রী: ভগবান বদ্রীনাথ উত্তরাখন্ডের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নামে পূজিত হন৷যেমন:

বিশাল বদ্রী: এই স্থানটি বদ্রী বিশাল নামে পরিচিত৷ ভক্তরা পূজোর সময় এখানে 'জয় বদ্রী বিশাল' ধ্বনী দিয়ে থাকেন৷

যোগধ্যান বদ্রী : মহাভারত খ্যাত রাজা পান্ডু 'পান্ডুকেশ্বর' নামক স্থানে ভগবানের ধ্যান করেছিলেন সেই সময থেকে এখানে ভগবান 'যোগধ্যান' রূপে পূজিত হন৷এই স্থানটি জোশীমঠ থেকে 20 কি.মি. এবং বদ্রীনাথ থেকে 25কি.মি. দূরত্বে অবস্থান করছে৷

ভবিষ্য বদ্রী : এই স্থানটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 2744 মিটার এবং জোশীমঠ থেকে 17কি.মি. দূরত্বে অবস্থিত৷এটি একটি ছোট শহর৷

বৃধ বদ্রী : এই মন্দিরে ভগবান বদ্রীনাথ খুব অল্প সময়ের জন্য আদিগুরু শঙ্করাচার্য দ্বারা পূজিত হয়েছিলেন৷জোশীমঠ থেকে পিপলকোটি যাওয়ার পথে অনিমঠে এই মন্দিরটি অবস্থিত৷

আদি বদ্রী : গুপ্ত কালের অনেক মন্দির এখানে দেখা যায়৷
কিন্তু এঅখান কার সবথেকে বেশী আকর্ষণীয় মন্দির হল নারায়ণ মন্দির যেখানে কালো পাথরের তৈরী ভগবান বিষ্ণুর মূর্তি দেখা যায়৷কর্ণ প্রয়াগ থেকে রাণীক্ষেত যাওয়ার পথে 16 কি.মি. দূরত্বে আদি বদ্রী মন্দির টি অবস্থিত৷

কোন পূণ্যার্থী যদি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন যে তীর্থভ্রমণে তার সমস্ত পাপের স্খলন হয় তাহলে বদ্রীনাথ ও পঞ্চবদ্রী দর্শনের সঙ্গে তার বদ্রীনাথ যাত্রা সার্থক হয়৷

কেমন করে যাবেন
হরিদ্বার থেকে বদ্রীনাথ যাওয়ার জন্য সবথেকে কাছের রেলওয়ে স্টেশন হল ঋষিকেশ এবং কোটদুয়ারা৷ যা হরিদ্বার থেকে 24 কিমি দূরে অবস্থিত৷ ঋষিকেশ থেকে বদ্রীনাথ যাওয়ার জন্য ট্যাক্সি বা বাস পাওয়া যায়৷ বাস ঋষিকেশ থেকে কোটদুয়ারা হয়ে রুদ্রপ্রয়াগ হয়ে বদ্রীনাথ যায়৷ কোটদুয়ারা থেকে রুদ্রপ্রয়াগের দুরত্ব হল 171 কিমি এবং রুদ্রপ্রয়াগ থেকে বদ্রীনাথের দুরত্ব হল 159 কিমি৷

আশা করি এই পর্যায়ের ভ্রমণ আপনাদের আনন্দ দিয়েছে৷ এর পরের পর্যায়ে আমরা দেখে আসব চারধামের আরেক ধাম কেদারনাথ৷
1 | 2 | 3  >>  
অতিরিক্ত
পর্যটকদের কাছে আকর্ষিত শিলং
রোমাঞ্চের নিস্পত্তি মৃত্যুতে
চলুন বেড়িয়ে আসি চার ধাম
রাজপাড়ার কাহিনী
নীল রাজ্য " ফিনল্যান্ড "
সাংস্কৃতিক স্থান পন্ডিচেরী