মুখ্য পৃষ্ঠা > অন্যান্য বিষয় > মুখোমুখি > সাক্ষাত্কার > প্রখ্যাত লেখিকা ঊর্মি কৃষ্ণ'র সঙ্গে এক সাক্ষাত্কার
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
প্রখ্যাত লেখিকা ঊর্মি কৃষ্ণ'র সঙ্গে এক সাক্ষাত্কার

সাহিত্যে উর্মি কৃষ্ণ এমন একজন ব্যক্তিত্ব যিনি তাঁর সহজ, সরল লেখনীর মাধ্যমে এক বিশিষ্ট স্থান অর্জন করেছেন৷ রাজ্য আর জাতীয় স্তরের বিভিন্ন পুরস্কার তার ঝুলিতে৷ বর্তমানে তিনি অম্বালা ক্যান্টের গল্প লিখন মহাবিদ্যালয়ের নির্দেশিকা৷

বিগত 36 বছর ধরে নিয়মিত ভাবে প্রকাশিত পত্রিকা 'শুভতারিকা'র সম্পাদকও তিনি৷ 40 বছর ধরে ঊর্মি দেবীর সৃজনশীলতা অবাধ গতিতে এগিয়ে চলেছে৷ তাঁর বিষয় থেকে বাধ পড়ে সমসায়িক যে কোন ধরনের ঘটনা৷ তবে হাস্য-ব্যাঙ্গ, ভ্রমনাত্মক, বড় গল্প, উপন্যাস এবং শিশু সাহিত্য ক্ষেত্রে তার রচনা অত্যন্ত আকর্ষনীয়৷

ওয়েবদুনিযা খানিক সময় কাটিয়েছে এই লেখিকার সঙ্গে, তার কিছু মুহূর্ত,

* আপনার লেখালেখি শুরু কি ভাবে?

আমার যাত্রা ইন্দোরের সাহিত্য সমিতি থেকে শুরু হয়েছিল৷ তখন আমি ছোট ছোট গল্প লিখতাম৷ তা রেডিও স্টেশন থেকে প্রসারিত হতে শুরু করে৷ এখান থেকে শুরু হওয়া যাত্রা মহারাজা কৃষ্ণ জৈন পর্যন্ত পৌঁছায়৷ আর তারপর 'শুভতারিকা' র সম্পাদক রূপে এই যাত্রা এখনও চলছে৷ শ্রী কৃষ্ণ, কাহিনী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ছিলেন৷ আমি তাঁর থেকে অনেক নির্দেশ পেয়েছি৷ তখনই তাঁকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ মহারাজা কৃষ্ণ জৈন পোলিওগ্রস্থ ছিলেন৷ এই সিদ্ধান্ত আমার পরিবারকেও প্রভাবিত করেছিল৷

* এই সিদ্ধান্ত নেওযার পরে নিশ্চিই বেশ কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল-

সেই সময় খুবই কঠিন ছিল৷ এক শ্রীমন্ত পরিবারের মেয়ের বিয়ে করার সিদ্ধান্ত এমন একজন ব্যাক্তিকে যিনি চলতে পর্যন্ত পারে না, তা পরিবারের পক্ষে মেনে নেওয়া খুবই কষ্টপ্রদ ছিল৷ দু বছর আমার এডজাস্ট করতে লেগেছিল, পরে সব কিছু সহজ হয়ে গিয়েছিল৷ পরিবারের লোক ছাড়াও শ্বশুর বাড়ির লোকেরাও খুব সহযোগিতা করেছে আর সন্মানও দিয়েছে৷

* লেখনীর কোন দিকে আপনি নিজেকে সহজে মেলে ধরতে পারেন?

আমি শিশু সাহিত্য, ব্যাঙ্গ, উপন্যাস, ভ্রমণ, ছোট ছোট প্রবন্ধ লিখেছি৷ কিন্তু গল্প লেখার কৌশল আমি খুব সহজ ভাবে আপন করে নিতে পেরেছি৷ নিজেকে অনেক বেশী করে ব্যক্ত করতে পেরেছি গল্প লিখতে গিয়ে৷ কারণ আমরা যা কিছু দেখি বা শুনি তা গল্পের মাধ্যমে ব্যক্ত করা যায়৷ একজন মহিলা গভীর ভাবে অন্যের চরিত্র বা জীবন কে অনুভব করতে পারে৷

* আজকাল মহিলা লেখনী আর মহিলাদের নিয়ে লেখার একটা প্রবণতা শুরু হয়েছে৷ আপনি একজন লেখিকা আবার মহিলা, আপনি কি মনে করেন সাহিত্য কে এভাবে বিভাজন করা যেতে পারে?

আমার মনে হয় ভাবনার দিক থেকে মহিলারা একই স্তরে থাকে, কিন্তু লেখনীতে তার পরিবেশ আর অনুভব ব্যক্ত হয়৷ আমি সাহিত্যকে এভাবে বিভাজিত করার পক্ষে নই৷

* এখনকার দিনে সাহিত্যের মূল্য বিঘ্নিত হচ্ছে, আপনি কি তা মানেন?

সাহিত্য আয়নার মত৷ সমাজ, সময় যেই স্থিতিতে আছে তার প্রভাব পড়ে সাহিত্যের ওপরে৷ যেমন ভাবে আয়নায় দেখে আমরা মুখের দাগ মুছে ফেলি তেমনি সাহিত্য ও আমাদেরকে সমাজের প্রতিচ্ছবি দেখায়৷ কিন্তু সাহিত্যের কিছু ক্ষেত্রেও পরিবর্তন করা জরুরী, তা না হলে সাহিত্য টিঁকে থাকতে পারবে না৷ সময়ের ছাঁকনিতে ছেঁকে নেওয়ার পরে যে সাহিত্য টিঁকে থাকতে পারবে তাই হবে আসল সাহিত্য৷ সময়ের ঘূর্নীতে সমাজ নিজে যদি পতনশীল হয় তবে সাহিত্যেও তার প্রভাব পড়বে৷ কিন্তু সাহিত্য এর সবসময় সঠিক পথ দেখানো উচিত৷

* আপনি গল্প লেখন মহাবিদ্যালয়ের নির্দেশিকা, আপনি কি মনে করেন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গল্প লেখা আরও উন্নত হতে পারে?

গল্প লেখা রচনাত্মক লেখা, আর রচনাত্মক লেখা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও উন্নত হয়৷ সঠিক পথের নির্দেশ সব শিক্ষার ক্ষেত্রেই প্রয়োজন৷ লেখার ক্ষেত্রে দক্ষতা থাকা ঈশ্বরের দান হতে পারে, কিন্তু তাকে ঠিক ভাবে প্রতিপালন করার দায়িত্ব আমাদের৷
সাহিত্য এমন এক প্রদীপ যার আলো হাত দিয়ে ঘিরে রাখলেও প্রকাশিত ঠিক হয় ই৷ যেহেতু সাহিত্যের দায়িত্ব সমাজ কে সঠিক দিশা দেখানো তাই তারও সঠিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে৷

* বিগত 36 বছর ধরে 'শুভতারিকা' পত্রিকা প্রাকাশিত হচ্ছে, সম্পাদনার ক্ষেত্রে আপনাকে কোন কোন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে?

মহারাজ কৃষ্ণের সঙ্গেই আমি পত্রিকার কিছু কিছু কাজ দেখতাম৷ শুরুতে স্লাইকোস্টাইল বের হত৷ আজ এর বিস্তার এত বেশী হয়ে গেছে যে ভারত ছাড়াও এটি আরও 15 টি দেশে প্রকাশিত হয়৷

*শুভতারিকা র তত্ত্বাবধানে হিন্দী ছাড়া অন্য ভাষার শিবির আয়োজিত হয়, তার রূপরেখা সম্পর্কে কিছু বলুন-

এটি দু থেকে তিন দিনের একটি আয়োজন৷ এখানে নতুন লেখক এবং যারা আগে থেকেই লিখছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে৷ নতুন লেখকেরা নিজেদের লেখনীর ভুলভ্রান্তি বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গে তা শুধরে নিতে পারে৷ আর এর সঙ্গে নানা লেখকের সঙ্গী হয়ে সাহিত্যের নানা বিষযে আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞান বৃদ্ধি করতে পারেন৷

* আপনি অনেক পুরষ্কার পেয়েছেন কিন্তু কোন পুরষ্কার-এ সন্মানিত হয়ে বেশী ভালো লেগেছে?

পুরষ্কার পেয়ে আমি আনন্দিত৷ এটি আমাদের সৃজনকে ব্যাপকতর স্বীকৃতি দেয়৷ কিন্তু 'মন মায়াবর' ভ্রমন বৃত্তান্ত সন্মানিত হওযার পর বিশেষ খুশী হয়েছিলাম কারণ তা আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা ছিল৷ সেখানে এমন বৃত্তান্ত ছিল যেখানে আমি আমার স্বামীর সঙ্গে গিয়েছিলাম৷ তাই এই লেখনী সন্মানিত হওয়ায় আমি ভীষণ খুশী হয়েছিলাম৷

আপনি নতুন লেখকদের জন্য কি বলতে চাইবেন?

আমি আপনাদেরই একজন তাই কিছু নির্দেশ দেওয়ার যোগ্য বলে আমি নিজেকে মনে করি না৷ কিন্তু এটুকু বলতে চাই লেখন বা যেকোন ক্ষেত্র ,সফলতা হঠাত করে পাওয়া যায় না৷ বলা হয় শিখরে স্থান সবসময় খালি থাকে৷ কিন্তু আপনি সোজা সেখানে পৌঁছাতে পারবেন না৷ আপনাকে প্রথম ধাপ থেকেই এগোতে হবে৷ তাই তাত্ক্ষনিক সফলতার স্বপ্ন না দেখে নিজের কাজ সত্ভাবে করে যান৷ শিখরে পৌঁছ্তে সুবিধা হবে৷
এখানে তথ্য খুঁজুন
ভিডিও দেখুন
অতিরিক্ত
টম ক্রুজকে সঙ্গে চাইঃ শ্রদ্ধা শর্মা
'তুতক তুতক তুতিয়া'র জাদু এখনও রয়েছে- মিল্কিত সিং