মুখ্য পৃষ্ঠা > অন্যান্য বিষয় > মুখোমুখি > সাক্ষাত্কার > বিস্ময়ের আর এক নাম ডাঃ প্রতাপ সিং হার্ডিয়া
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
বিস্ময়ের আর এক নাম ডাঃ প্রতাপ সিং হার্ডিয়া

চোখের দৃষ্টি না থাকলে জীবন অন্ধকার৷ কারণ একমাত্র চোখের মাধ্যমেই পৃথিবীর সৌন্দর্যকে উপভোগ করা যায়৷ এ পর্যন্ত্ ছয় লাখ মানুষের চোখের জ্যোতি ফিরিয়ে দিয়েছেন ডাঃ প্রতাপ সিং হার্ডিয়া৷ আর এই অবদানের জন্য গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও সামিল হয়েছে তার নাম৷ এবারের মুখোমুখির অতিথি হলেন ডাঃ হার্ডিয়া৷ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতকারের একটি বিশেষ অংশ তুলে ধরা হল৷

প্রশ্ন: স্কুলে পড়াকালীন আপনার স্বপ্ন কি ছিল?

উত্তর: আমি খুব দুষ্টু ছিলাম৷ আর এই কারণেই বাবা আমাকে মালহার আশ্রমে ভর্তি করে দিয়েছিলেন৷ আর এই আশ্রমে থাকাকালীনই আমি একা সব কিছু করতে শিখেছি৷ বাবার আশীর্বাদেই আমি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাই৷ তখন আমার ধারনা ছিল ডাক্তার হলে ভগবানের সমকক্ষ হয়ে যাব৷তখন আমার বাবা আমাকে বোঝান ডাক্তার হলেন মায়ের সমান৷ এককথায় যাকে দ্বিতীয় মা বলা যেতে পারে৷সেইজন্য কখনও অর্থের পিছনে ছুটো না৷ আর গরীবদের সেবা কর৷ ব্যস ওনার এই কথা স্মরনে রেখেই জীবনে সব কিছু করি৷

প্রশ্ন: এখনও পর্যন্ত আপনি কটা অপারেশনে সফলতা লাভ করেছেন?

উত্তর: এখনও পর্যন্ত আমি সাড়ে ছয় লাখেরও বেশী অপারেশন করেছি৷ আর এখন আর গোনার প্রয়োজন মনে করি না৷ আর অ্যাওয়ার্ড লাভ করারও কোন ইচ্ছে নেই৷

প্রশ্ন: আপনার নাম তো গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে সামিল হয়েছে৷ এতে আপনার কি অনুভূতি হয়েছে?

উত্তর: ওতে নাম সামিল হওয়ার পর আমি কোন বড় কিছু হয়ে যাই নি৷ আমার কাছে আমার কাজটাই বড়৷যদি আমি নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে কাজ করি সেটাই আমার কাছে বড় জিনিস হবে৷আমার বাবা আমাকে বলেছিলেন শরীরে চোখটা হল একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ৷ আর দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে গেলে চোখের কোন গুরুত্ব থাকে না৷ আমার এটাই চেষ্টা করি দূর দূর থেকে যে সব রোগীরা আমার কাছে আসেন তারা যেন কখনও নিরাশ না হন৷

প্রশ্ন: আপনার হাসপাতালে কি গরীবদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়?

উত্তর: হ্যাঁ৷ আমার হাসপাতালে আমি সব গরীব রোগীদের সাহায্য করি৷ যদি 24 ঘন্টা কম বেতনের পুলিশ কর্মীর কাছ থেকে ফিস নিই তাহলে সে আমাকে কারো কাছ থেকে জুলুম করে অর্থ উপার্জন করেই ফিস দেবে৷ পরিশ্রম বর্জিত অর্থ আমি চাই না৷

প্রশ্ন: আপনি আপনার সাফল্য সম্বন্ধে কিছু বলুন৷

উত্তর: হ্যাঁ, কিছু সুবিধা পাওয়া গেছে৷যার সূত্রপাত আমিই করেছি৷ যেমন এশিয়া লেজর মেশিন প্রথমে আমিই শুরু করেছিলাম৷ আর আর্কের সার্জারী যা প্রথমে রাশিয়া এবং আমেরিকাতেই হত৷শিশুদের পাওয়ার বাড়ানোটা কি করে কমানো যায় সেই বিষয়টি নিয়েও আমি রিসার্চ করেছি৷

প্রশ্ন: কি উদ্দেশ্য নিয়ে আপনি নিঃশুল্ক শিবির করেন?

উত্তর: আমি বছরে দুই বার এই শিবিরের আয়োজন করি৷ 19 শে মার্চ আমার বাবার জন্মতিথিতে আর দ্বিতীয়টি 10ই আগস্ট বাবার মৃত্যু তিথিতে৷ 1981 সাল থেকে এই শিবির করছি৷

প্রশ্ন: আপনার সাফল্যের রহস্যটা কি?

উত্তর: আপনারা যুবা অবস্থায় ওজন কমানোর চেষ্টা করেন৷ সব থেকে বড় কথা হল শুদ্ধ ভাবনা৷ যদি সত্‍ চিন্তা থাকে তাহলে মানুষ যে কোন কাজই সঠিক ভাবে করতে পারবে৷

প্রশ্ন: বর্তমানে বেশীরভাগ মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করেন৷ তারা কি করে চোখের সুরক্ষা বজায় রাখবেন?

উত্তর: চোখের মাঝখানে 1 মিমি একটা পর্দা আছে একে ম্যাকুলা বলে৷ তবে ক্রমাগত ম্যাকুলাকে চাপ দেওয়া ঠিক না৷ এটা চোখের পক্ষে ক্ষতিকারক৷যারা দীর্ঘক্ষন কম্পিউটারের সামনে কাজ করেন তাদের মাঝে মাঝে চোখকে বিশ্রাম দেওয়া উচিত৷ তবে ডাইরেক্টর লাইটের সামনে দীর্ঘক্ষন থাকলে অথবা খুব বেশী পরিমান টিভি দেখলেও ম্যাকুলা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷

প্রশ্ন: সার্জারী ছাড়াই কি চশমার ব্যবহার রোধ করা যেতে পারে?

উত্তর: সার্জারী তো করতেই হয়৷ তন্ত্র-মন্ত্র আর তাবিজ দিয়ে চশমা ছাড়ানো যায় এটা আমি বিশ্বাস করি না৷এমনকি শুধুমাত্র ওষুধ প্রয়োগ করেও চশমার ব্যবহার রোধ করা যায় না৷ চোখের আকার বড় অথবা ছোট হলেই চশমার প্রয়োজন হয়৷

প্রশ্ন: ওয়েবদুনিয়ার পাঠকদের কি ম্যাসেজ দেবেন?

উত্তর: কখনও অর্থের পিছনে ছুটবেন না৷আর নিজের পেশার প্রতি সব সময় সত্‍ থাকবেন৷
এখানে তথ্য খুঁজুন
ভিডিও দেখুন
অতিরিক্ত
কমেডিয়ান রাজু শ্রীবাস্তব  
'বিগ ব্রাদার' খ্যাত শিল্পার সঙ্গে কিছুক্ষণ  
অনিল প্যাটেল - প্রেসিডেণ্ট অ্যাপোলো ইণ্ডাস্ট্রীজ, মেহসাপা গুজরাট  
প্রখ্যাত লেখিকা ঊর্মি কৃষ্ণ'র সঙ্গে এক সাক্ষাত্কার  
টম ক্রুজকে সঙ্গে চাইঃ শ্রদ্ধা শর্মা
'তুতক তুতক তুতিয়া'র জাদু এখনও রয়েছে- মিল্কিত সিং