|
জৈন ইরিগেশন স্টীম লিমিটেড ভারতের কৃষিক্ষেত্রের একটি বিখ্যাত কোম্পানী৷ প্রায় 2200 কোটি টাকার এই কোম্পানীর 22 প্রকার উত্পাদনের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের 150 টি দেশে তাদের সেবাকার্য প্রদান করে চলেছে৷ মাইক্রো ইরিগেশন ক্ষেত্রে এই কোম্পানী আজ পৃথিবীতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে৷ ওয়েবদুনিয়া চ্যানেলের জন্য এই কোম্পানীর সংস্থাপক এবং অধ্যক্ষ ভবরলাল জৈন (ভাউ) এর সঙ্গে ড: ঊষা শর্মার আলোচনার বিশেষ কিছু অংশ ---
* 7000 টাকার পুঁজি নিয়ে শুরু করা এই ব্যবসা ক্ষেত্রে আপনাকে কি কি সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়েছে? সংঘর্ষ থেকে উত্কর্ষতায় পৌঁছানোর এই যাত্রাপথ সম্পর্কে আপনি কিছু জানান৷
মানুষ যা কিছুই করুক না কেন কোন মাধ্যম থেকে হঠাত কোন সম্পত্তি প্রাপ্ত হলে সে হাওয়াতে উড়তে থাকে৷ আর তার ফলে মানুষের বিকাশ ধীরে ধীরে কমতে থাকে৷ আমি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করি কারণ আমি সন্মানের সঙ্গে সঙ্গে নানা অপযশকেও মেনে নিয়েছি৷ মানুষের সব রকম পরিস্থিতিতে মানিয়ে চলার এই ক্ষমতা মানুষকে জীবনে চলার পথে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে মহান মানব করে গড়ে তোলে৷ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং আর চিদাম্বরমের সঙ্গেও এমন ঘটনাই ঘটেছে৷ আমি আজ তাদেরকেই অনুসরণ করে চলছি৷
স্বপ্ন দেখা কোন খারাপ কাজ নয়৷ আমিও আমার ব্যবসার উন্নতি নিয়ে স্বপ্ন দেখি৷ আমি নানাক্ষেত্রে কাজ করতে চেয়েছি৷ হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ব্যাঙ্কিং, মাইন্স বা বিজ্ঞাপন সব কিছু নিয়েই আমি কাজ করতে আগ্রহী৷ সেই সময় আমার কাছে 12 টি প্রকল্প ছিল যার মধ্যে কয়েকটা আমি দেখাশোনা করতে পেরেছি আর কয়েকটা প্রকল্পের দেখাশোনা আমি করতে পারিনি৷ তখন ইক্যুইটির অবস্থাও বদলে গিয়েছিল৷ আই টি আর টেলি কমিউনিকেশন সেক্টরে আমি লিডারশিপ দিতে পারিনি৷ এরজন্য আমার অনেক শেয়ারহোল্ডার, সাপ্লায়ারদের আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়তে হয়েছিল৷ এই আর্থিক সংকটের দায়িত্ব আমি নিজের ওপরে নিয়ে একটি সূচনার মাধ্যমে সকলের কাছে থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করে নিয়েছিলাম৷ সেই সময় যে ইরিগেশনের শেয়ার মাত্র নয় টাকায় নেমে গিয়েছিল তা পরবর্তী কালে 700 টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল৷ আজকে তা 45 টাকায় স্থির হয়েছে৷ কঠোর পরিশ্রম আর দৃঢ় সংকল্পের দ্বারা আমরা সেই দুঃসময় কাটিয়ে আজকের দিনে এসেছি৷
* সমাজ সেবায় আপনি আগ্রহী, আপনার শুরু করা 'অনুভূতি নিবাসী' শিক্ষণ সংস্থা ভবিষ্যতের নাগরিকদের কিভাবে তৈরি করতে প্রস্তুত?
আজকাল কর্পোরেট জগতের মাধ্যমে কিছু বিষয় সামনে এসেছে, যা সামাজিক উত্তর দায়িত্ব রূপে দেখা যাচ্ছে৷ প্রায় সকলেই এই বিষয়ে আলোচনা করে থাকেন৷ আমার মনে হয়, আপনি সামাজিক দায়িত্বকে কর্তব্য মনে করে পালন করলে তা ঠিক নয়৷ সমাজ আমাদের জীবনের অনিবার্য দিক৷ সমাজ আর আত্মীয়-স্বজন ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না৷ আমাদের নিত্য ব্যবহারের এক গুরুত্বপূর্ন অঙ্গ৷ আপনার কাছে প্রচুর ধন-সম্পত্তি এলে আপনি প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য সামাজিক কাজ করেন, আপনার দায়িত্ব মনে করে তা করেন না৷ যেভাবে আমরা আমাদের সন্তান বা আত্মীয় - স্বজনের প্রতি দায়িত্ব পালন করি তেমন করে আমাদের সমাজকে ভালোবেসে তার প্রতি দায়িত্ব পালন করা উচিত৷ এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সব রকম প্রতিষ্ঠান গুলিকে সামনে এগিয়ে আসতে হবে৷ সমাজ সেবার মাধ্যমে লাভ বা পাবলিসিটি পাওয়ার জন্য নয়, সমাজের জন্য তার সেবা করার উদ্দেশ্য নিয়ে এই কাজে এগিয়ে আসতে হবে৷ আমি 25 - 26 বছর বয়স থেকেই সমাজ সেবার কাজে আগ্রহী ছিলাম৷ ধর্ম এবং সমাজ সংক্রান্ত অনেক কাজ আমি করেছি৷ আমার সব থেকে বড় উদ্দেশ্য ছিল এমন এক রেসিডেন্সি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা যেখানে ছাত্র- ছাত্রীরা শিক্ষার সঙ্গে সংস্কারও পাবে৷ আমার এই স্বপ্ন 'অনুভূতি নিবাসী' শিক্ষা কেন্দ্রের দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে৷ এখানকার প্রত্যেক শিক্ষার্থী শিক্ষিত ও সংস্কারী নাগরিক হিসাবে পরিচিত হবে৷ এখন আমি গরীব শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করতে চাই৷
* রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিলের দ্বারা 'পদ্মশ্রী' সন্মানে সন্মানিত হতে পেরে আপনার কি অনুভুতি হয়েছিল?
কর্তৃপক্ষ আমাকে এই সন্মানের যোগ্য মনে করলেও আমি নিজেকে এই সন্মানের যোগ্য বলে মনে করি না৷ এই সন্মান আমার নয়, আমি কৃষিক্ষেত্রে যে কাজ করছি এর পুরো কৃতিত্ব তার প্রাপ্য৷ আমি একে কৃষি দেবতা তথা কৃষকদের সন্মান বলে মনে করি৷ কৃষক হল পরিশ্রমের প্রতীক৷ আমি কৃষকদেরকেই এই সন্মান অর্পন করছি৷
|