মুখ্য পৃষ্ঠা > অন্যান্য বিষয় > মুখোমুখি > সাক্ষাত্কার > বিখ্যাত উর্দু কবি: রাহত ইন্দোরী
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
বিখ্যাত উর্দু কবি: রাহত ইন্দোরী

মুখোমুখিতে এবারের অতিথি হলেন জনপ্রিয় উর্দু কবি রাহত ইন্দোরী৷ রাহত ইন্দোরীর কবিতা শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বের আরও 45 টা দেশেও প্রসিদ্ধি লাভ করেছে৷ রাহত সাহেবের কবিতা নিয়ে হিন্দী সিনেমা জগতেও বহু গান তৈরী হয়েছে৷ চলুন রাহত ইন্দোরীর কবিতা সম্বন্ধে জেনে নেওয়া যাক৷ রাহত ইন্দোরীর এই একান্ত সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন সাংবাদিক ভিকা শর্মা

প্রশ্ন: আপনি দশ বছর বয়স থেকেই ছবি আঁকা শুরু করেছিলেন?

উত্তর: আমি শখে ছবি আঁকতাম না৷ আমার পেশা ছিল ছবি আঁকা৷ এক কথায় বলতে পারেন আমি বাধ্য হয়ে ছবি আঁকতাম৷ প্রফেশনাল আর্টিস্ট হিসাবে মাত্র 12 বছর বয়সে আমি আঁকার ব্রাশ হাতে নিয়েছিলাম৷ এরপর আমি ছবি আঁকা শুরু করি৷ এই সময়ে আমি ফিল্মের ব্যানারও তৈরী করেছি৷

প্রশ্ন: আপনি আপনার প্রথম কবিতা কোথায় প্রথম পড়েছিলেন? তখন কি আপনি ভেবেছিলেন এর মধ্যে দিয়েই আপনার জীবন গড়বে৷

উত্তর: আমি উর্দু মিডিয়ামেই পড়াশুনা করেছি৷ তখন এমন অবস্থা একবার কোন উর্দু কবিতার বই পড়লেই পুরো বইটা আমার মনের মনিকোঠায় লিপিবদ্ধ হয়ে যেত৷ হঠাত্ করে এরকম কবিতা পড়তে পড়তেই আমি নিজেই কবিতা লিখতে শুরু করি৷ আর কি ভাবে কবি হয়ে উঠলাম বুঝতেও পারি নি৷ পরে বুঝতে পারি৷ পৃথিবীতে কবি হিসাবে পরিচিতি লাভ করি৷ এভাবেই পেন্টার থেকে কবি হয়ে উঠি৷

প্রশ্ন: কলেজে পড়াকালীন আপনার কবিতা সম্বন্ধে কিছু বলুন৷

উত্তর: 1972-73 সালে কলেজে পড়াকালীন আমি মঞ্চে কবিতা পাঠ করতাম৷ জীবনে প্রথম দেবাসের একটি কবি সন্মেলনে আমি প্রথম কবিতা পাঠ করি৷ এরপর থেকেই শ্রোতারা আমাকে ব্রেক দেয়৷ আমার কোন গডফাদার ছিল না৷ দুই বছরের মধ্যেই আমি ভারতে কবি হিসাবে পরিচিতি লাভ করি৷

প্রশ্ন: পাকিস্তানে প্রথম বার গিয়ে কি অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন?

উত্তর: 1986 সালের কথা৷ এর আগে যুদ্ধের ফলে প্রায় 10 বছর ভারত আর পাকিস্তানের সম্পর্ক ভাল ছিল না৷ দীর্ঘ সময় পরে এক দল কবি পাকিস্তানে যায়৷ কবিদের এই দলের মধ্যে অনেক মহান কবিরা সামিল ছিলেন৷ এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কবিরা হলেন সরদার কৌর মহেন্দ্র সিং বেদী, ফজা নিজামী, প্রফেসর জগন্নাথ আজাদ ভগেরথ৷ যখন আমরা প্রথমে করাচী ক্লাবে কবিতা বলতে যাই সেখানে কুড়ি হাজার শ্রোতা উপস্থিত ছিলেন৷ এই জাদুটা ছিল ভারতের কবিদের৷

প্রশ্ন: বিশ্বের কোন কোন জায়গায় আপনি কবিতা পাঠ করেছেন? বিভিন্ন জায়গার শ্রোতাদের মধ্যে কি পার্থক্য খুঁজে পেয়েছেন?

উত্তর: পৃথিবীর সব জায়গাতেই যারাই কবিতা পছন্দ করেন তারা সবাই একই ধরনের মানুষ৷ আজমগড়, লক্ষ্ণৌ, হায়দ্রাবাদ, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি সব জায়গাতেই এক৷ তবে বাইরে একটা পার্থক্য হল সেখানে শ্রোতাদের সংখ্যা খুব কম থাকে৷ ভারত পাকিস্তানে আমরা এক লাখ শ্রোতাদের সামনে কবিতা পাঠ করেছি৷ আর শ্রোতাদের কয়েক ঘন্টা বসে কবিতা শুনতে দেখেছি৷

প্রশ্ন: সিনেমায় আপনি কি ভাবে গেলেন?

উত্তর: সিনেমার প্রতি আমার বিশেষ কোন আকর্ষণ ছিল না৷ গুলশান কুমার 'শবনম' নামে একটি ছবি তৈরী করছিলেন৷ আমার কবিতার দুটো পঙতি তাঁর সিনেমার থিমের সঙ্গে একেবারে পারফেক্ট ছিল৷ মুম্বাই থেকে আমাকে অনেকবার ডেকে পাঠিয়েছিল৷ তারপরে আমি মুম্বাই গেছিলাম৷ এক সপ্তাহে আমার 14 টা গান রেকর্ড করা হয়েছিল৷ 'আশিয়ানা' নামে একটা অ্যালবাম তৈরী করা হয়েছিল৷ সেখানে অনু মালিকের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়েছিল৷ এখনও তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক আছে৷ তবে আমি আমার শর্ত অনুযায়ীই কাজ করি৷ ফিল্মে কাজ করার জন্য আমাকে খুব একটা স্ট্রাগল করতে হয় নি৷ মহেশ ভাটের সঙ্গেও আমি অনেক ছবিতে কাজ করেছি৷ মহেশ ভাটের সঙ্গে আমার প্রথম ছবি হল সার৷

প্রশ্ন: আপনি কোন কোন সিনেমার গান লিখেছেন?

উত্তর: আমার প্রায় 33 টা ছবি রিলিজ করেছে৷ এর মধ্যে দশটা ছবি গোল্ডেন জুবিলী হয়েছে৷ 'ইস্ক', 'মুন্নাভাই এম বি বি এস', 'খুদ্দার', 'ম্যায় খিলাড়ি তু আনাড়ি', 'মিশন কাশ্মীর' এবং 'মার্ডার' এই ছবিগুলো জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে৷ মুন্নাভাই এর সব গানই হিট হয়েছে
WDWD


প্রশ্ন: আপনি কবি হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছেন৷ বংশপরম্পরায় কি আপনার সন্তানেরা এই পেশাই গ্রহণ করবে?

উত্তর: এটা রাজনীতির ক্ষেত্র নয়৷ আমি সি এম আমার সিটটা আমি আমার ছেলেকে দিয়ে যাব৷ তবে বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যের প্রতিও মানুষের ঝোঁকটা কমছে৷ শায়রীর যুগটা শেষ হতে চলেছে৷ এখন ফিল্মে শায়রীর কোন ভূমিকা নেই৷ সেইজন্য নতুন প্রজন্মদের এই পথে ঠেলে দিতে আমি একেবারেই চাই না৷

প্রশ্ন: এই যুগের কবিদের আপনি কি ম্যাসেজ দেবেন?

উত্তর: আমি বললাম ওরা শেষ প্রজন্ম৷ এই পরম্পরাকে ওরাই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে৷ ওরা ওদের দায়িত্ব পালন করছে৷ ওদের কলম দিয়ে শেষ যে পঙতিটা ওরা লিখবে তা যেন সমাজের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে৷

প্রশ্ন: কবিদের মধ্যে আপনার পছন্দের কবি কে?

উত্তর: সবার কবিতাই পড়েছি৷ তবে দুটো চারটে জাংশান আসে যেখানে দাঁড়িয়ে পড়ি৷ প্রথম জংশনটা হল গালিব৷ অপর জংশনটা হল ফিরাক গোখরপুরী৷ এরপর কালিদাস থেকে মহাদেবী বর্মা সকলের লেখাই ভাল লাগে৷

প্রশ্ন: নতুন প্রজন্মদের মধ্যে এমন কোন শায়র আছেন যাকে আপনি সাহায্য করতে এগিয়ে যাবেন?

উত্তর: এই যুগে অনেক ভাল ভাল কবি আছেন৷ যেমন করাচীর আহমদ মুস্তাক, লাহোরের জফরে ইকবাল, জুবে রিজমি৷ এই যুগের কবিদের মধ্যে এদের নাম সামিল রয়েছে৷

প্রশ্ন: ওয়েবদুনিয়ার দর্শকদের কি ম্যাসেজ দেবেন?

উত্তর: দ্রুতগতির যুগে আমাদের জীবনের গতিও বেড়েছে৷ বিদেশে গিয়ে আমি জানতে পেরেছি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের নানা জায়গায় আমাদের দেশের খবর পৌঁছে যাচ্ছে৷ আমার একান্ত ইচ্ছা আপনাদের ওয়েবদুনিয়া সমাজের উন্নতিতে এগিয়ে আসুক৷
ভিডিও দেখুন
এখানে তথ্য খুঁজুন
অতিরিক্ত
সুরিন্দরের ভূমিকায় পরিবর্তিত শাহরুখ  
প্রসিদ্ধ ব্যঙ্গকার ডঃ শিব শর্মা  
ইণ্ডিয়ান আইডল খ্যাত অমিত ট্যাণ্ডন  
মানলে সব সত্যি না মানলে কিছু নয়  
আমার নয় সকল কৃষকদের সন্মান  
বিস্ময়ের আর এক নাম ডাঃ প্রতাপ সিং হার্ডিয়া