
ভারতের প্রথম সফলতম মহিলা আইপিএস অফিসার কিরণ বেদি আগামী তরুন প্রজন্মের কাছে এক দৃষ্টান্ত স্বরুপ৷ তিনি তাঁর কর্মজীবনে প্রমাণ করেছেন পুলিশ বিভাগকেও মহিলারা অনায়াসেই চালাতে পারেন৷ বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষনতা আর সাহস এই হল কিরণের তিন হাতিয়ার৷ এই হাতিয়ারকে অবলম্বন করেই তিনি তাম্র কর্মজীবনে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য নজির গড়েছেন৷ চলুন কিরণ বেদীর মুখ থেকেই তা শুনে নেওয়া যাক৷ কিরণ বেদীর এই সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন সাংবাদিক ভিকা শর্মা ও গায়িত্রী শর্মা৷
প্রশ্ন: আপনি য্খন আইপিএসে নির্বাচিত হয়েছিলেন তখন আমাদের সমাজে মহিলাদের পুলিশ বিভাগে যাওয়া ভালো নজরে দেখা হত না৷ আপনার পরিবারের লোকেরাও কি এর বিরোধিতা করেছিল?
উত্তর: পরিবারের তরফ থেকে যদি কোন অসম্মতি থাকত তাহলে আমি আজ এই স্থানে পৌঁছাতাম না৷ হ্যাঁ ঐ সময় মহিলাদের পুলিশের চাকরীতে যাওয়াটা ভালো নজরে দেখা হত না৷
প্রশ্ন: আপনার এই সফলতার পিছনে আপনার স্বামীর কতটা সাহায্য করেছে?
উত্তর: আমার সব সফলতাতেই আমার স্বামী আমাকে সাহায্য করেছে৷ আমার সব সফলতাকেই ও নিজের সফলতা বলে মনে করে৷
প্রশ্ন: 'আপকে কচাইরি' এই শো এর মধ্যে দিয়ে মানুষের দুর্দশার কথা আপনি জানতে পেরেছেন৷ এই শো টি করে আপনি কি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন?
উত্তর: এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে আমি সামাজিক প্রয়োজনীয়তার কথা অর্থাত বর্তমানে কি ধরনের ফোরম জরুরী তা জানতে পেরেছি৷ আজ এই অনুষ্ঠানটা মানুষকে ন্যায় পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে৷
প্রশ্ন: ভারতীয় ন্যায় প্রণালী যা তাতে সঠিক বিচার পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়৷ মানুষের জীবনের অর্ধেক সময় কেটে যায়৷ এরজন্য কি আপনি ন্যায় ব্যবস্থাকেই দায়ী বলে মনে করেন৷
উত্তর: হ্যাঁ এটা সত্যি ন্যায় পেতে দীর্ঘ সময় লাগে৷ আদালতে মামলার শুনানি হতেও কয়েক বছর লেগে যায়৷ মানুষের ন্যায় পাওয়ার বিশ্বাসটাই হারিয়ে গেছে৷ সেই কারণে তারা অন্য রাস্তা খোঁজার চেষ্টা করে৷ আদালতে মামলার সংখ্যা অনেক বেশী৷ কিন্তু সেই তুলনায় বিচারকের সংখ্যা কম সেই কারণে বর্তমানে লোক আদালতের জনপ্রিয়তা বাড়ছে৷
প্রশ্ন: আপনি নিজের প্রয়াসে তিহার জেলকে আশ্রমে পরিণত করেছেন৷ আপনার কি মনে হয় দেশের সব জেলকেই আশ্রমে পরিণত করা উচিত?
উত্তর: তিহার জেলে আমি যা করেছি দেশের সব জেলেই তা হতে পারে৷ এরজন্য স্বয়ংসেবী সংস্থাকে এর কার্যে নিযুক্ত করা উচিত৷
প্রশ্ন: ভারতে আজও মহিলার আজও নির্যাতিত হন,অত্যাচারিত হন৷ এর পিছনে কি কারণ রয়েছে?
উত্তর: ওদের ঠিকমত লালন পালন করা হয় নি৷ উপার্জন করার প্রশিক্ষণ ওরা পায় নি৷ ওরা যা পড়তে চায় তা ওরা পড়তে পারে না৷ যে কাজ ওরা করতে চায় তা করতে পারে না৷ সেই কারণে ঘরের কাজ করেই ওরা সারা জীবন কাটিয়ে দেয়৷ বিয়েটা তাদের জীবনের মূল আঁধার হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ যা হওয়া উচিত নয়৷ যদি বিয়েটা সফল হয় তাহলে জীবন সার্থক অন্যথায় বর্বাদ হয়ে যায়৷
প্রশ্ন: দেশের প্রধানমন্ত্রী কেমন হওয়া উচিত?
উত্তর: দেশের প্রধানমন্ত্রী সত এবং দৃঢ়তা সম্পন্ন হওয়া উচিত৷ তাঁর পিছনে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন থাকাও জরুরী৷
প্রশ্ন: আপনি কেন রাজনীতিতে আসেন নি?
উত্তর: কারণ এতে আমার কোন আগ্রহ নেই৷ পাব্লিক লাইফেও আমার একশো শতাংশ আগ্রহ রয়েছে৷ কিন্তু পলিটিক্যাল লাইফে একেবারেই নেই৷
|