
হাসা খুবই সহজ ব্যাপার৷ কিন্তু মানুষকে হাসানো একেবারেই সহজ নয়৷ আজকের মুখোমুখিতে আমাদের অতিথি হলেন এমন এক ব্যক্তি যিনি তাঁর কবিতার মধ্যে দিয়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটান৷ মানুষকে সাময়িক সময়ের জন্য জীবনের নানা দুঃখ ভুলে হাসতে বাধ্য করেন৷ চলুন কবি অশোক চক্রধরের সঙ্গে কিছুক্ষন কাটানো যাক৷
প্রশ্ন: আপনার শিশুকাল কোথায় অতিবাহিত হয়েছে?
উত্তর: আমার শিশুকাল যেখানে কেটেছে সেটা হল ব্রজের ক্ষেত্র৷ আমার জন্মস্থান হল খুর্জা৷ খুর্জা থেকে ইলিয়াজ আসার জন্য মাঝপথে এলাহবাদ পড়ে৷
প্রশ্ন: কি কারণে আপনি আপনার ভাবটা ব্যক্ত করার মাধ্যম হিসাবে পদ্যকে বেঁছেছেন? পদ্যের তুলনায় গদ্যে কি আপনার অভিরুচি ছিল না৷
উত্তর: এমন নয় যে আমি গদ্য রচনা করি নি৷ আমি অনেক কাহিনী, স্মৃতি কাহিনী ইত্যাদি লিখেছি৷ হ্যাঁ এটা মানছি আমি গদ্যের তুলনায় অধিক পদ্য রচনা করেছি৷ এর পিছনেও একটা কারণ রযেছে৷ কারণ আমার বাবা কবি ছিলেন৷ আমাদের বাড়িতে অহরহ কবিরা আসতেন৷ ছোটবেলা থেকেই কবিতা এবং পদ্ম লেখাতে আমার বেশী আগ্রহ ছিল৷
প্রশ্ন: বর্তমানে ছন্দ মিলিয়ে কথা বলার চল হয়েছে৷ এদিক ওদিক থেকে শব্দ নিয়ে ছন্দ মিলিয়ে কবিতা রচনা করা হয়৷ আপনি এই বিষয়ে কি বলবেন?
উত্তর: আমি তো বলব বর্তমানের কবিরা ছন্দ মেলানোর জন্যও বেশী পরিশ্রম করেন না৷ আগে হিন্দী সিনেমার গানেও ছন্দ মেলানোর প্রচলণ ছিল৷ কিন্তু বর্তমানে ছন্দ মেলানোর বদলে তাল এবং লয়ের উপর বেশী জোর দেওয়া হয়৷ শব্দ এখন গৌণ হয়ে গেছে৷ মিউজিকেই এখন বেশী জোর দেওয়া হয়৷
প্রশ্ন: আপনি কি মানেন একজন উত্কৃষ্ট মানের কবি হওয়ার জন্য ব্যাকরন জ্ঞান থাক জরুরী৷ ভাল চিন্তাভাবনা থাকা জরুরী৷
উত্তর : আমার মতে ব্যাকরণের জ্ঞানের তুলনায় আত্মজ্ঞান থাকা বেশী জরুরী৷যদি আপনি কারো মনের উপর প্রভাব না ফেলতে পারেন, কারো মনের ভাব না বুঝতে পারেন আপনি কখনও একজন ভালো সাহিত্যিক হতে পারবেন না৷
প্রশ্ন: বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত জীবনে অত্যাধিক দুঃখ পেলে অথবা অত্যাধিক আনন্দে মানুষ কবি হয়ে যায়৷ আপনার কবি হওয়ার পিছনে কি রাজ রযেছে?
উত্তর:এটা সত্যি কথা কখনও কখনও দুঃখই হাসির কারণ হয়ে দাঁড়ায়৷ আমি তো আমার মায়ের উপর যে অত্যাচার হযেছে তা থেকে প্রেরণা নিয়েই প্রথম কবিতা লিখতে শুরু করেছিলাম৷ যৌথ পরিবারে থাকার ফলে আমার মায়ের উপর যে অত্যাচার হয়েছে তা থেকে প্রেরণা নিয়েই আমি কবিতা লিখতে শুরু করি৷ একবার গ্রামে ঝড়ে আমাদের বাড়ি ভেঙে গেছিল৷ আমাদের বা ড়ির সামনে জেঠুর ঘরটা শুধুমাত্র টিকে ছিল৷ জেঠু আমাদের ভাঙা ঘর দেখে দাড়ি হাতাচ্ছিলেন৷ তখন আমি বন্ধুদের ডেকে যে কথা বলি সেটাও কবিতা :
'আ মেরে প্যায়ারে ভুচাল তাউজি কে কাট গয়ে গাল৷ '
প্রশ্ন: আপনার মতে হাস্য কবিতা কি? হাস্য কবিতা আর ব্যঙ্গের মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তর: হাস্য হল নির্মল আনন্দের অনুভূতি যা আপনার শরীরে ভৌতিক রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে৷ যার ফলে পুরো শরীরই আনন্দে মেতে উঠে৷ চিন্তা রহিত বিষয়টিকেই ব্যঙ্গ বলা হয়৷হাস্যর জন্য কোন কারণের প্রয়োজন হয় না৷ কিন্তু ব্যঙ্গের জন্য কারণ থাকা জরুরী৷
প্রশ্ন: অনেক সময় ব্যক্তিগত জীবনে নানা কারণে মনে দুঃখ অনুভূত হয়৷ মন উদাস থাকে৷ সেই সময়ে মানুষকে হাসানো কতটা মুশকিলের?
উত্তর: দেখুন আমার উদ্দেশ্য হাসানো নয়,হাসির কারনটা খোঁজা৷ আমি হাসি তৈরি করি৷ আমি অন্য হাস্য তারকাদের মত জন্মগত ভাবে হাসাতে শিখি নি৷ আমি কবিতা এমন ভাবে মানুষের সামনে পাঠ করি যার ফলে মানুষ হাসতে বাধ্য হয়৷
প্রশ্ন: আপনার পছন্দের কবিতার কোন এক পঙক্তি উদ্ধৃত করুন৷
উত্তর: ইয়ে ঘর দর্দ কা, পর্দে হটা কে দেখো গম হ্যায় হসি কে অন্দর, পর্দে হটা কে দেখো লহরো কে ঝাগ হি তো পর্দ বনে হুয়ে হ্যায় গহরা বড়া সমন্দর পর্দ হটা কে দেখো এ চক্রধর, ইয়ে মানা, হ্যায় খামিয়া সভি মে কুছ তো মিলেগা বেহতর, পর্দে হটা কে দেখো৷
|