পশুও মানুষের সমতুল্য কথা বলে নিজের শারীরিক অঙ্গভঙ্গীতে যা আমরা সচরাচর বুঝতে পারি না৷ মেরুদণ্ডহীন প্রাণীও নিজেদের ভাষায় কথা বলে৷ ভেবে অবাক | | একধরনের রাগী গরিলা আছে যে রেগে গেলে নিজের জীহ্বা বার বার বাইরে আনে আর ভিতরে নেয়৷ অন্য দিকে সরীসৃপ প্রাণী যে নিজেকে গুটিয়ে নেয় নিজের মধ্যে৷ কুকুর নিজের সামনের পা দুটিকে গুটিয়ে নেয় আরাম করে আর পেছনের ভাগ উপরের দিকে উঠানো থাকে, মাথা অনবরত নড়তে থাকে৷ |
| |
লাগছে তাই নয় কি? দুই শুঁড়ওয়ালা চিংড়ি মাছও কথা বলে এরা একে অন্যকে হলুদ ও সবুজ রশ্মির সাহায্যে মনের ভাব প্রকাশ করে থাকে৷ প্রায় 40 মিটার দূর থেকেও তারা এই রশ্মি দেখতে পায়৷ পুরুষ জোনাকিও অনবরত তার 'মার্স' ডট রশ্মি প্রকাশ করতে থাকে৷ অন্যদিকে স্ত্রী জোনাকি ঠিক তার দুই সেকেন্ড পরে সে নিজের রশ্মির চমকে জবাব দেয়৷ পুরুষ সঠিক সময়ে সেই রশ্মির পেছনে ধাবিত করে৷ স্ত্রী জোনাকি তা বুঝে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে সে পুনরায় রশ্মি প্রকাশ করে খবর ছেড়ে দেয়৷ রং যা পশুসঞ্চারের এক অভিন্ন ভাগ৷ ডিপ রঙের প্রাণী সব সময় বিষাক্ত হয়৷ যেমন ব্যাঙেরা বিপদ আসলে চমকপ্রদ পেট দেখাতে থাকে৷ পুরুষ ক্যাটলফিশ যখন কোনও কিছুর সামনে যায় তখন তার মুখের রং পরিবর্তন হতে থাকে৷ যদি ক্যাটলফিশের মুখের রং হালকা পরিবর্তন হয় তাহলে সে লড়াই করবে না৷ কিন্তু যদি গভীর রঙের হয়ে যায় তখনই বোঝা যাবে যে সে লাড়াই করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে৷মেরুদণ্ডওয়ালা প্রাণী মুখের হাব-ভাব তথা শরীরের অঙ্গভঙ্গীতে৷ অনেক হিংস্র পশু আছে যারা নিজের শরীরকে লম্বা করে নেয় পেছনের দিকে আর শরীরে পশম খাঁড়া করে দেয়৷ পাখা মেলে দেয় গলার থলি ফুলিয়ে দিয়ে মাথা অনবরত ঘুরাতে থাকে৷ একধরনের রাগী গরিলা আছে যে রেগে গেলে নিজের জীহ্বা বার বার বাইরে আনে আর ভিতরে নেয়৷ অন্য দিকে সরীসৃপ প্রাণী যে নিজেকে গুটিয়ে নেয় নিজের মধ্যে৷ কুকুর নিজের সামনের পা দুটিকে গুটিয়ে নেয় আরাম করে আর পেছনের ভাগ উপরের দিকে উঠানো থাকে, মাথা অনবরত নড়তে থাকে৷ যা খেলা করার সঙ্কেত দেয়৷ একই প্রকার দৃশ্য শিয়ালরাও করে থাকে৷ বাঘের বাচ্চাও লড়াই লড়াই খেলা করে বড় বাঘেদের দেখে অনুকরণ করে৷ পশুরা যখন নিজেদের মধ্যে খেলা করে তখন তারা খুব নরম স্বভাবের থাকে এবং নিজেদের নখের থাবা লুকিয়ে রেখে লড়াই লড়াই খেলতে থাকে৷ তাদের খেলা দেখে বোঝা যায় যে তারা লড়াই লড়াই খেলছে৷ শিকার করার সময় হায়নারা তাদের রণনীতির সংকেত দেয়৷ লেজের স্থিতী দেখে বোঝা যায় যে, পেছন করতে হবে এবং আবার ফেরত আসতে হবে৷ লেজকে বারবার নাড়ানোর সংকেত এটাই বোঝায়৷ খরগোশের মত সাদা লেজওয়ালা হরিণ নিজের লেজকে বারবার নাড়িয়ে এটাই সঙ্কেত দেয় যে, বিপদ আসন্নমান এবার সাবধান হওয়ার প্রয়োজন আছে৷ জলের পাখি আকাশে উড়বার সময় নিজের মাথাকে এমন ভাবে ঝাড়ি দেয় যাতে তার দলের পাখিরা বুঝতে পারে যে তাদের এখন একসঙ্গে আকাশে উড়তে হবে৷মৌমাছিরা সূর্যের দিকে মুখ করে নৃত্য করতে থাকে এবং সেই দিকেই তারা উড়তে থাকে৷ কারণ এতে বোঝা যায় যে সূর্য যে দিকে উদয় হয়েছে সে দিকেই খাবারের খোঁজ মিলবে৷ উদাহরণস্বরূপ, সকাল 6 টা থেকে বেলা 12 টা পর্যন্ত সূর্যের দিকে মুখ করে ওড়ার অর্থ এটাই বোঝায়৷ মৌমাছিদের নৃত্য দেখেই বোঝা যায় যে, তাদের খাদ্যের সন্ধান তারা পেয়ে গিয়েছে৷অন্যদিকে হাতি যার ভাষার পরিবর্তন বোঝা খুবই দুসাধ্য৷ বাস্তবে ভীষণই জটিল৷ হাতিরা যখন নিজের শুঁড় অন্য হাতির শুঁড়ের সঙ্গে জড়িয়ে খেলা করে তাতে বোঝা যায় তাদের বন্ধুত্বের সংকেত৷ আবার অন্যদিকে যখন তারা শুঁড় উঠিয়ে হোড়ে জোড়ে চিত্কার করে আর কানদুটিকে স্বশব্দে নাড়াতে থাকে তাতে বোঝা যায় যে বিপদের সংকেত দিচ্ছে৷ এমন করে শরীরের আচরণ দেখেও বোঝা যায় যে, নিকটেই কোথাও ভূমিকম্প হওয়ার সংকেত৷এত কিছু জানার পরে আপনার এবার বুঝতে পারছেন তো যে পশুর মধ্যেও মানুষের মত অনুভূতি লক্ষ্য করা যায়৷ তারাও কথা বলে৷ সাধারণত: আপনার বাড়িতে পোষা কোনও প্রাণী থাকলে তার সঙ্গে বেশীরভাগ সময় মেলামেশা করলে আপনিও বুঝতে পারবেন যে, সে কথা বলছে আপনার সঙ্গে শরীরের অঙ্গভঙ্গীর মাধ্যমে৷ শুধু আপনার জানার একাগ্রতাই আপনাকে তাদের সম্বন্ধে জানাতে পারবে৷ |