আজি এ প্রভাতে রবির কর কেমনে পশিল প্রাণের পর, কেমনে পশিল গুহার আঁধারে প্রভাতপাখির গান৷ না জানি কেন রে এত দিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ৷ জাগিয়া উঠেছে প্রাণ, ওরে উথলি উঠেছে বারি, ওরে প্রাণের বাসনা প্রাণের আবেগ রুধিয়া রাখিতে নারি৷ থর থর করি কাঁপিছে ভূধর, শিলা রাশি রাশি পড়িছে খসে, ফুলিয়া ফুলিয়া ফেনিল সলিল গরজি উঠিছে দারুণ রোষে৷ হেথায় হোথায় পাগলের প্রায় ঘুরিয়া ঘুরিয়া মাতিয়া বেড়ায়- বাহিরিতে চায়, দেখিতে না পায় কোথায় কারার দ্বার৷ কেন রে বিধাতা পাষাণ হেন, চারি দিকে তার বাঁধন কেন৷ ভাঙ্ রে হৃদয়, ভাঙ্ রে বাঁধন, সাধ্ রে আজিকে প্রাণের সাধন, লহরীর পরে লহরী তুলিয়া আঘাতের পরে আঘাত কর্৷ মাতিয়া যখন উঠেছে পরান কিসের আঁধার, কিসের পাষাণ৷ উথলি যখন উঠেছে বাসনা জগতে তখন কিসের ডর৷
আমি চালিব করুণাধারা, আমি ভাঙিব পাষাণকারা, আমি জগত্ প্লাবিয়া বেড়াব গাহিয়া আকুল পাগল-পারা৷ কেশ এলাইয়া, ফুল কুড়াইয়া, রামধনু-আঁকা পাখা উড়াইয়া, রবির কিরণে হাসি ছড়াইয়া দিবরে পরান চালি৷ শিখর হইতে শিখরে ছুটিব, ভূধর হইতে ভূধরে লুটিব, হেসে খলখল গেয়ে কলকল তালে তালে দিব তালি৷ এত কথা আছে, এত গান আছে, এত প্রাণ আছে মোর, এত সুখ আছে, এত সাধ আছে-প্রাণ হয়ে আছে ভোর৷
কী জানি কী হল আজি, জাগিয়া উঠিল প্রাণ- দূর হতে শুনি যেন মহাসাগরের গান৷ ওরে, চারি দিকে মোর এ কী কারাগার ঘোর- ভাঙ্ ভাঙ্ ভাঙ্ কারা, আঘাতে আঘাত কর্৷ ওরে আজ কী গান গেয়েছে পাখি, এসেছে রবির কর৷৷
|