আজ থেকে পঁয়ত্রিশ বছর আগে ইউরোপ থেকে একজন এদেশে বেড়াতে এসেছিলেন৷ তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: 'ভারতবর্ষে আপনি কী দেখতে চান?' তিনি বলেছিলেন: 'তুষার ধৌত হিমালয়, তাজমহল এবং মহাত্মা গান্ধী৷' বোঝা যায় ধন-সম্পত্তি বা ক্ষমতা এর কোন কিছুই মহাত্মার সাফল্যের কারণ ছিল না৷ কিছু বিশেষ ভাল গুণই তাঁকে করে তুলেছিল বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব৷
তিনি যা শেখাতেন তা তিনি নিজে করতেন৷ তিনি যেমন একদিকে কারও ক্ষতি করেন নি তেমনি কেউ ক্ষতি করলেও তাকে শয়তান হিসাবে চিহ্নিত করতেন না, বরং তাঁর ভাল চাইতেন, তিনি সকল সময়ে সকলের ভাল চাইতেন৷ সকলের প্রতি ভালবাসা দিয়ে তাঁর দৃষ্টি, আজীবন কাজ করে যাওয়া, ভালবাসা ছড়িয়ে দেওয়া এই সকল গুণের কারণেই তিনি তো ভারতের 'মহাত্মা'৷ 1869 সালের গুজরাতের আরবসাগরের তীরে পোরবন্দরে জন্মান মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী৷ 1888 সালে তিনি বিলাতে গেলেন আইন পড়তে৷ এখানেই বাইবেলের কিছু অংশ প্রথম পড়লেন এবং অত্যন্ত অনুপ্রাণিত হলেন৷ আইন ব্যবসায় নামবেন ঠিক করে তিনি 1891 সালে ভারতে ফিরলেন৷ কিন্তু অত্যন্ত লাজুক প্রকৃতির হওয়ায় এই পেশায় বিশেষ সুবিধা করতে পারলেন না৷ 1893 সালে তিনি ভারতীয় ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব করতে চাকরি নিয়ে চললেন দক্ষিণ আফ্রিকায়৷ সেদেশে পৌঁছবার কিছু পরেই, তিনি বর্ণবিদ্বেষের শিকার হলেন, টিকিট থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ট্রেনে এক সাদা চামড়ার সাহেবের সাথে ভ্রমণ করার অপরাধে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হ'ল৷ সহযোগী ভারতীয়দের সাথে তিনি আপন অধিকার রক্ষার প্রয়োজনে আন্দোলনে নামলেন, তাঁর অহিংসা অস্ত্রটিকে তিনি প্রথমবারের জন্য প্রয়োগ করলেন৷তিনি ভারতীয় শ্রমিকদের উপর অন্যায্য কর চাপানোর বিরোধিতা করলেন, ভারতীয়দের ভোটের অধিকার এনে দিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন৷ 1904 সালে তিনি জোহানেসবার্গের বাইরে ফিনিক্স ফার্ম নামে এক সম্প্রদায় গড়ে তুললেন, পাঁচ বছর পরে তা হয়ে উঠল টলস্টয় ফার্ম৷ 1907 সালে চালু হ'ল এক নতুন আইন, তা হ'ল, ভারতীয়দের দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকতে হলে রেজিস্টার করতে হবে, আর এ আইনের বিরোধিতায় সরব হলেন৷ প্রকাশ্যেই ভারতীয়রা তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড পোড়ালেন৷ 1913 সালে বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে আর খনি শ্রমিকদের নিয়ে আর একটি বড় আন্দোলনে সাফল্য পেলেন গান্ধী৷
|