ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে বহু সংগ্রাম ও বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে ভারতের স্বাধীনতা এসেছে৷ দেখতে দেখতে স্বাধীনতার 60 বছর পূর্ণ হতে চলেছে৷ স্বাধীনতা শব্দের মধ্যে একটা স্বস্থি ও মুক্তি আছে৷ পরাধীন ভারতের রুপ ও স্বাধীন ভারতের রুপের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান লক্ষ্য করা যায়৷
পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশরা ভারতীয়দের শোষণ ও নির্যাতন করত৷ সেই শোষণ নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিপ্লবীরা বিদ্রোহ করেন৷ প্রত্যেক বিদ্রোহের পেছনে একটাই উদ্দেশ্য ছিল তা হল স্বাধীনতা অর্জন৷ এই রকম কয়েকজন মহান বিপ্লবীদের সম্বন্ধে বলতে চাই যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের প্রাণ উত্সর্গ করেছিলেন৷
নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস - GIVE ME BLOOD, I WILL GIVE U FREEDOM. নেতাজীর এই বাণী সমগ্র ভারতবাসীকে স্বাধীনতা চেতনায় জাগ্রত করেছিল৷ তাঁকে নেতাজী আখ্যায় ভূষিত করা হয়েছিল৷ ভারতের স্বাধীনতার আন্দোলনে নেতাজীর ভূমিকা চিরস্মরনীয়৷ তিনি আজাদ হিন্দ বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন৷ এই আজাদ হিন্দ বাহিনী দেশের বাইরে থেকে বিপ্লবী কার্যকলাপ পরিচালনা করত৷ আজাদ হিন্দ বাহিনীর তত্পরতায় স্বাধীনতা আন্দোলন নতুন পথে পরিচালিত হয়৷ আর আজাদ হিন্দ বাহিনীর আন্দোলন ব্রিটিশ শক্তির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল৷ স্বাধীনতার আগেই দেশ ছাড়েন নেতাজী৷ আর তার পরে ঠিক কি হয়েছিল তাই নিয়ে বিভ্রান্তির শেষ নেই৷
সত্যেন্দ্রনাথ বোস - সত্যেন্দ্রনাথ বসু ছিলেন একজন মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী৷ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন৷ তিনি মেদীনিপুরে আনন্দমঠ নামে এক বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন৷ বিপ্লবী আন্দোলনের এই গুপ্ত সমিতির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ৷ 1928 সালে মুজফরপুরে বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগে সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল৷ 1908 সালের 21 নম্ভেম্বর তাঁর ফাঁসি হয়েছিল৷
যতীন্দ্রনাথ দাস - ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে যতীন্দ্রনাথ দাস ছিলেন মহান বিপ্লবী৷ লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় লরেন্স গার্ডেনকে বোমা ছোঁড়ার জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ জেলে রাজনৈতিক বন্দিদের উপর অমানসিক অত্যাচারের প্রতিবাদে তিনি অনশন শুরু করেছিলেন৷ 63 দিন ধরে তিনি অনশন চালান৷ অবশেষে লাহোর জেলে তাঁর মৃত্যু হয়৷
এই মহান বিপ্লবীদের প্রয়াসের দরুন আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি৷ আজ তাদের উদ্দেশে রইল শত কোটি প্রনাম৷
|