মুখ্য পৃষ্ঠা >  অন্যান্য বিষয় > ওয়েবদুনিয়ার বিশেষতা 07 > স্বাধীনতা দিবস
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
বন্দেমাতরম আমাদের সংস্কৃতি
বেবদুনিযা
NDND
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহ্বান বলেছেন বন্দে মাতরম গানটির অর্থ কেবল রাষ্ট্র ভক্তি গীতি নয়৷ অন্যদিকে এই গানটি আমাদের প্রতিমুহূর্তে সেসব মহান আর্দশ ও সংকল্পের সঙ্গে জুড়ে রাখে যারা আমাদের দেশের মানুষকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপ্রানিত করেছিলেন৷ ভারতের স্বাধীনতার 60 বছর পরেও বন্দেমাতরম গানটি নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে৷

বর্তমান সময়ে কিছু বুদ্ধিজীবি সম্প্রদায়ের মানুষ বঙ্কিমচন্দ্রকে দ্বিরাষ্ট্রবাদী তত্বের জনক বলে অভিহিত করেছেন৷ একাধিক রাজনৈতিক দল এই বিষয়টিতে নিজেদের মতামত দিয়ে বিষয়টিকে আরও জটিল করে দিয়েছেন৷ পাকিস্তানের এক সংবাদপত্রে স্বনামধন্য সাংবাদিক বন্দেমাতরমকে কুখ্যাত সঙ্গীত বলে লিখেছেন৷ তিনি বঙ্কিমের অর্থকে ধূর্ত বলে ব্যাখ্যা করেছেন৷ মজার বিষয় যার সর্ম্পকে এই মন্তব্য করেছেন তিনি আজীবন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন৷

1474 সালে বঙ্গ দর্শনে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছিলেন বাংলাদেশ শুধু মাত্র হিন্দুদের মিলিত শক্তি নয়৷ বহু প্রজন্ম থেকে বাংলাদেশে হিন্দু ও মুসলিমরা এক সঙ্গে বাস করছেন৷ সবার হির্তাথে এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধের আহ্বান করছি৷ যদি মুসলিম বিরোধী হতেন তাহলে নিজের উপন্যাস সীতারামের একটি পাতায় তিনি বলতেন না যে তোমরা হিন্দু ও মুসলমানকে এক বলে মনে না করলে হিন্দু ও মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের বসতিযুক্ত এই জমিকে সুরক্ষিত রাখতে পারবে না৷ তোমরা যে ধর্ম রাজ্যের কল্পনা করছ তা পাপের রাজ্যতে পরিণত হবে৷ কিন্তু বঙ্কিমের কোন উপন্যাসে এই ধরনের জাতি বিরোধী বক্তব্য নেই৷

এখন প্রশ্ন উঠছে বন্দেমাতরম কি ইংরেজ বিরোধী ছিল না? কিন্তু নব বুদ্ধিজীবি সম্প্রদায়ের লোকেরা এই গানকে ইংরেজদের বিরোধী মনে না করে মুসলিম বিরোধী বলে মনে করেন৷ তবে ইংরেজরা গানটির মূল অর্থ ঠিক বুঝতেন৷ স্যার বেলেটাইন চিরোল 'ইণ্ডিয়ান আনরেষ্ট' নামক গ্রন্থে লিখেছেন বন্দেমাতরম হল ভয়ঙ্কর দেবী যে ইংরেজ দমনের সতত আহ্বান৷

পুস্তক প্রকাশিত হওয়ার আগে জী এ গ্রিয়ারর্সণ টাইমস পত্রিকায় বলেছিলেন বন্দেমাতরমে মা যাকে বলা হয়েছে উনি হলেন মৃত্যু আর বিনাশের দেবী৷ আমাদের নেতাদেরও এবিষয় নিয়ে কোন ভ্রম ছিল না৷ বিপিন চন্দ্র পাল তার একটি লেখনীতে বলেছিলেন গানে মা বলতে রাষ্ট্রকে বোঝানো হয়েছে৷ শ্রী অরবিন্দ 1908 সালে লিখেছিলেন যে এটি কেবল শুধু মাত্র রাষ্ট্রগীত নয়, এটি শুদ্ধ ও পবিত্র মন্ত্র যা মনে প্রেরণার সঞ্চার করে৷ এই প্রেরণা লেখক আনন্দমঠে পেয়েছিলেন তাই তাকে ঋষি উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল৷

1885 সালে হরিশ চন্দ্র হলধরের একটি তৈল চিত্রে এই গানের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়৷ বলিদান আর দেশপ্রেমের জ্বালা আজও এই গানের থেকে ম্লান হয়ে যায় নি৷ গুজরাটে অক্ষরধাম মন্দিরে জঙ্গিরা গুলি চালাবার আগে বন্দেমাতরম ধ্বনি দিয়েছিলেন৷ বঙ্কিমচন্দ্র কিন্তু গান থেকে দেশপ্রেমের প্রেরণা পেতে গানটি লিখেছিলেন৷ এ আর রহমান যখন বন্দেমাতরম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মা তুঝে সেলাম গানটি রচনা করেন তখন সেই গান সারা দেশে জনপ্রিয় হয়েছিল৷ এমত অবস্থায় সেলাম ও প্রনাম নিয়ে ঝগড়া সৃষ্টি হচ্ছে কিভাবে?

বন্দেমাতরম শব্দটি যে প্রেরণার সৃষ্টি করে তা ইতিহাসের অংশ৷ এর মধ্যে কোন সংস্কৃত শব্দ নেই৷ এর মধ্যে লুকিয়ে আছে আমাদের সংস্কৃতি৷ বন্দেমাতরম সংস্কৃত না সংস্কৃতি এই নিয়ে নব বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয়েছে৷ এখন বন্দেমাতরম আমাদের জাতির রক্তে আগুন জ্বালিয়ে দেয়৷
অতিরিক্ত
স্বাধীনতা আন্দোলনে বিপ্লবীদের অবদান
এক বিপ্লবীর আত্মকথা
অহিংসার পূজারী মহাত্মা
স্বাধীনতার 60 বছরে ভারতীয় সিনেমা