স্বাধীনতার পূর্বে অর্থাত্ 1942-এর ভারত ছাড় আন্দোলনের সময় আসমুদ্রহিমাচল সকলের মুখে ছিল ইংরেজ ভারত ছাড়ো৷ এরপর একের পর এক বিরোধ প্রর্দশনের দরুন বৃটিশ সরকার ভারতের স্বাধীনতার বিষয় নিয়ে ভাবতে শুরু করে৷ ইংরেজ শাসনে আরেকটি দিক হল ভারতকে ভাগ করার নীতি৷ সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের সহায়্তায় জুনাগর, হায়্দ্রাবাদ ও জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের সীমানার মধ্যে রাখা হয়৷ বাকি অংশ পাকিস্তানের মধ্যে চলে যায়৷ তখন থেকে কাশ্মীর সমস্যার শুরু হয়৷ স্বাধীনতার পরে রির্জাভ ব্যাঙ্ক ও ইমপিরিয়াল ব্যাঙ্কের জাতীয়করণ করা হয়৷ বিজয়লক্ষী পন্ডিতকে সংযুক্ত রাষ্ট্রসংঘের মহাসভার অধ্যক্ষ রুপে নির্বাচন করা হয়৷ বহুমুখী নদী পরিকল্পনার যোজনা নেওয়া হয়৷ হিন্দিকে রাষ্ট্র ভাষারুপে ঘোষণা করা হয়৷ সাম্প্রদায়িকতাকে নস্যাত্ করে ধর্ম নিরপেক্ষ শাসন ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হয়৷ জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতার নীতিকে লঙ্ঘন করে সংরক্ষনের নীতিকে গ্রহণ করা হয়৷ এখন প্রশ্ন হল স্বাধীনতার 60 বছরে আমরা কতটা লাভবান হয়েছি৷
যারা লাভবান হয়েছেন তাদের আগামী প্রজন্ম হয়্ত তাদের নৈতিক পতনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করবেন অথবা পীড়িত বা অপমানিত হয়ে জীবনযাপন করবেন৷ অধিকাংশ বৃদ্ধ অতীতের কথা মনে করে বর্তমান অবস্থার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন৷ তাদের মতে এখনকার থেকে ইংরেজ শাসন বা রাজা মহারাজাদের শাসন ভাল ছিল৷ এখন প্রশ্ন হল ইংরেজ তথা রাজা মহারাজাদের শাসন কোন দিক দিয়ে ভাল ছিল? রাজা মহারাজাদের শাসনকালে এক টাকায় 5 কিলো গম পাওয়া যেত৷ সোনার ভরি ছিল 18 টাকা৷ সেই সময় মানুষের জীবনযাপন নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে?
তারা কিভাবে উর্পাজন করত, কি পরিমাণ ফসল উত্পন্ন হত, পানীয় জলের ব্যবস্থা কেমন ছিল, যাতায়াতের কি ব্যবস্থা ছিল আর শিক্ষা ব্যবস্থা কেমন ছিল? শিক্ষার ক্ষেত্রে সমাজের উচ্চবর্গের ছেলে মেয়েরা পড়াশুনা করার সুযোগ পেত৷ রাজা মহারাজারা প্রজাদের সব জমি ও সম্পদ কেড়ে নিতেন৷ এর প্রতিবাদে প্রজারা কিছু করতে পারতেন না৷ যদিও ইংরেজ শাসনকালে ভারতের অনেক উন্নতি হয়েছে৷ এর সব অর্থ সাধারণ মানুষের থেকে জুলুম করে আদায় করা হত৷
ইংরেজ শাসনের সময় দেশের সাধারন মানুষের আর্থিক অবস্থা ছিল খুব খারাপ৷ কৃষকেরা যা আয় করত তা ঋণ শোধ করতেই চলে যেত৷ এছাড়া সে সময়ের সামাজিক অবস্থা ছিল দুর্বিষহ৷ জাতিভেদ প্রথা, সাম্প্রদায়িকতা, অস্পৃশ্যতা, অন্ধবিশ্বাস, বাল্যবিবাহ, পণ প্রথার মত কঠোর অনুশাসন সমাজকে একধাপ পিছিয়ে নিয়ে যায়৷
পরাধীন ভারতের সঙ্গে স্বাধীন ভারতের তুলনা করলে অনেক বিষয় আমাদের সামনে আসবে যাতে এটা প্রমাণিত হয় যে স্বাধীনতার 60 বছরের মধ্যে আমাদের দেশের অনেক উন্নতি হয়েছে৷ প্রথমত আমাদের দেশে এখনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম আছে, জোট সরকার সফলভাবে দেশের উন্নতির ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে৷ পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে আমরা একাধিকবার জিতেছি৷
বিশ্ব রাজনীতিতে দেশ এক গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেছে৷ 103 কোটি জনসংখ্যার প্রাথমিক চাহিদার অনেকটাই পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে৷ বিদেশী মুদ্রার সংকট কাটিয়ে একশ কুড়ি কোটি আরব ডলার নিবেশ করে বিশ্বের বাজারে ভারত নিজের ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়েছে৷ কেবলমাত্র রাশিয়া নয়, আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান, ফ্রান্স ও ইউরোপের অনেক দেশ আজ ভারতের সঙ্গে সর্ম্পক করতে সক্ষম হয়েছে৷
আমাদের দেশে যে পরিবর্তন এসেছে এতে তা কেবল একজন দর্শক হিসাবেও দেশের একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে নিজের ভূমিকা পালন করতে হবে৷ আর তার পরেই নিজের অধিকারের দাবি করা যুক্তি সঙ্গত হবে৷ নিজের লক্ষ্য ঠিক রাখতে পারলে নিজের সঙ্গে দেশের উন্নতিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করা যাবে৷ এখন আমাদের সংগ্রাম ইংরেজদের বিরুদ্ধে নয়, অশিক্ষা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে৷ আর এই লড়াইতে প্রত্যেককে নিজ ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করতে হবে৷ স্বাধীনতার 60 বছর সার্থক কারণ আজ প্রযুক্তি থেকে কৃষি সমস্ত ক্ষেত্রে বিপ্লব হয়েছে৷ আর আমাদের দায়িত্ব এই উন্নতির ধারা বজায় রাখা৷
|