15-ই আগষ্ট ভোরে লালকেল্লায় তেরঙা পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়েই শুরু হয়ে যাবে দেশের স্বাধীনতার 60 বছর পূর্তি উত্সব৷ আর কোথায় বা মধ্য রাতে, আর সকাল হতেই গলির মোড় থেকে রাজপথে চলবে এই অনুষ্টান৷গরিব মানুষের মধ্যে জামাকাপড় বিলিও হবে৷ রাজনীতিবিদ থেকে ভি আই পি সকলেই তাদের ভাষনে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে চর্চা করবেন৷ উঠে আসবে নানা অজানা তথ্য৷ দেশের নানা সাফ্যলের দিক ব্যখ্যা করবেন নেতার আর সন্ধ্যা হতেই সকালের আলো কেমন যেন ফিক হয়ে যাবে৷ আর শহর থেকে রাজপথে চলবে অন্য আলোচনা৷
কিন্তু বাস্তবে স্বাধীনতার 60 বছর পরেও দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে নানা অস্বস্তিকর দৃশ্য৷ খাবারের দোকানের শিশুর খাবারের প্লেট ধোয়ার দৃশ্য থেকে হত দরিদ্র মানুষের জীবন সংগ্রামের ছবি৷ কোথাও জমি হারাদের হাহাকার তো তার পাশে পুঁজিপুতিদের দাপাদাপি৷ ঠিক এর জন্যই কি আমাদের দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখেছিলেন৷ হয়ত না, স্বপ্ন ছিল দুই বেলা ভার করে খেতে পাওয়ার আর স্বাধীন অধিকারের৷ 2001 সালে হিসাব অনুযায়ী শুধু পশ্চিমবঙে 8 লক্ষের বেশি শিশু শ্রমিক৷ বর্তমানে সংখ্যা জানার জন্য ন্যাশানাল কাউন্সিল ফর অপ্লায়েড ইকনমি রির্সাচ করছে৷
এই নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার আইনপ্রনয়্ন করেছে তবে বাস্তব তা ঠিক কি তা একটা ছোট্ট পরিসংখ্যান বুঝিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট৷ স্বাধীনতার ষাট বছরপরে এই তথ্য কতটা গর্বের তা ঠিক করবেন দেশের 100 কোটির বেশি জনগন৷ শোনা যায় দেশের আর্থিক শ্রীবৃদ্ধির কথা, শিক্ষার প্রসারের কথা আসলে বাস্তব আর প্রচারের ফারাক তো অনেকটা৷ একদিকে দেশের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে আমরা খুশিতে ড্গমগ৷ আর সেই দেশেই ঘটে চলে আমলাশোল৷
সরকার নির্বিকার ভাবে বলে এটা তো বিচ্ছিন ঘটনা৷ সংবাদ মাধ্যমে এনিয়ে অযথা বাড়াবাড়ি করছে৷ আসলে স্বাধীনতার 60 বছর পরেও বোঝা শক্ত কোন ঘটনা বিচ্ছিন৷ বাড়াবড় কারা করে জনগন নাকি সরকার৷ আমাদের দেশে নারী এখন পন্য৷ আর পাঁচটা সামগ্রীর মত কেনাবেচা হয়৷ সেখানে প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন খানিকটা বিনোদন৷ ইমরানা যে দেশের নাগরিক সে দেশেই থাকেন দেশের প্রথম মহিলা৷ তখন রাইসিনা হিলকে আজব দেশের রুপকথা বলেই মনে হয়৷ আর উন্নত ভারত গড়ার স্বপ্ন ভাল বিঞ্গ্পন হয়ে থেকে যায়৷
মনিপুরে যে দিন নগ্ন হয়ে আন্দোলনে সামিল হয়েছিল সেদিন অনেকেই বলেছিল এটা অন্যায়৷ আসলে সে দিনেও অনেকে বলেন নি কোনটা অন্যায়৷ মহিলাদের উপর অত্যাচার নাকি অত্যাচারিত হয়ে তাঁরা যে ভাবে প্রতিবাদের রাস্তা নিয়েছেন৷
গণতন্ত্রের নামে চলেছে চূড়ান্ত সব অগণতান্ত্রিক কাজ৷ ভূমিহীন কৃষকদের উপর পুলিশ গুলি চালায়৷ সেটা নন্দীগ্রাম হোক বা খাম্মাম৷ রাজনৈতিক ভুখন্ডের পরিবর্তনে রাজনৈতিক দল নিন্দা করে৷ আসলে যে ভোট,সেটা তো জনগনের হাতে৷ বির্দভ না খেয়ে কৃষক মরলে সরকার বলে খরা সঙ্গে লড়াই করার জন্য সরকার সচেতন৷ প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ ঘোষনা করেন, কিন্তু অর্থ নিয়ে নয়্ছয়ের সেই পুরোন কাহিনী৷ আসলে উন্নত প্রচার করার সঙ্গে নিজেকেও উন্নত হতে হয়৷
|