ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে মাতঙ্গিনী হাজরা একটা উল্লেখযোগ্য নাম৷ আমরা বাঙালীরা তাঁকে গান্ধীবুড়ি বলে চিনি৷ তাঁর সম্বন্ধে যতটুকু জানা যায় তিনি 1869 সালের তমলুকের হোগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন৷ পিতামাতা খুব গরীব ছিলেন বলে তাঁর সাধারণ লেখাপড়াটুকুও হয়নি৷ সেই সঙ্গে খুব ছোটবেলাতে তাঁর বিয়ে হয়ে যায়৷
মাত্র 18 বছর বয়সে তিনি বিধবা হন৷ 1905 সালে তিনি গান্ধীজীর ভারত ছাড় আন্দোলনে যোগদান করেন৷ 1932 সালে তিনি লবণ বিরোধী পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন ও পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন৷ তিনি খুব শীঘ্র ছাড়া পেয়ে যান কিন্তু প্রকাশ্যে করের বিরোধীতা করতে থাকেন৷ এরপর তিনি বহরমপুরে 6 মাসের জন্য কারারুদ্ধ থাকেন৷ জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সক্রিয় সদস্য হন এবং চরকায় কাটা খাদি কাপড় নিজে হাতে তৈরী করতে থাকেন৷
1933 সালে তিনি শ্রীরামপুরে কংগ্রেস অধিবেশনে যোগ দেন এবং সেখানে ইংরেজ পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জে আহত হন৷ 1942 সালে কংগ্রেসের ভারত ছাড় আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন৷ তখন তাঁর বয়স 73 বছর৷ তিনি সেই আন্দোলনে প্রায় 6000 সমর্থক মিলে তমলুক পুলিশ স্টেশনের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন৷ শহরের পুলিশ সেসময় 144 ধারা জারি করে ও মাতঙ্গিনী হাজরাকে থামতে বলে৷
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে আর এক পা এগোলেই তারা গুলি চালাতে বাধ্য হবে৷ সে সময় তিনি তাদের সমস্ত সমর্থকদের এগোনোর জন্য বারণ করেন৷ তিনি নিজেই এগোতে থাকেন৷ পুলিশ তাঁকে উদ্দেশ্য করে গুলি চালায়৷ পুলিশ মোট তিনবার গুলি চালায়৷
শেষপর্যন্ত তিনি পুলিশের গুলিতে মারা যান৷ মারা গেলেও তাঁর হাতের ভারতীয় পতাকা শেষপর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে৷
|