লোকসভায় বাজেট পেশ করতে আর কিছু দিন বাকি৷ আর তার আগেই বামফ্রন্টের দাবি জনমুখী বাজেট৷ বামফ্রন্টের তরফে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের দিকে নজড় রেখেই বাজেট হওয়া দরকার৷ সেই সঙ্গে কৃষি ক্ষেত্রে একটু বেশী লক্ষ্য রাখতে হবে৷ সিপিএম, সিপিআই এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের তরফে জানানো হয়েছে যে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যে প্রতিশ্রুতি করা হয়েছিল তা পূরণ করতে হবে এই বাজেটের মধ্যে দিয়ে৷ সেই সঙ্গে শহর এবং গ্রামীণ অঞ্চলে পেশা ক্ষেত্র বৃদ্ধি করা৷ এক্ষেত্রে 60 কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে৷
সিপিআই নেতা এ.বি. বর্ধন এবং এস সুধাকর রেড্ডির জানিয়েছেন যে, এবারের বাজেটে কৃষকদের দিকে একটু বাড়তি নজড় দিতে হবে৷ কারণ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যে ভাবে কৃষক হত্যার ঘটনা ঘটেছে তাতে ভারতের এক অন্য রূপ প্রকাশ করে৷ এই আত্মহত্যার অন্যতম কারণ কৃষকদের ধার শোধ করতে না পারার ক্ষমতা৷ এই কারণে তারা কৃষকদের ঋনের হাত থেকে বাঁচতে একটি কমিশন গঠনের কথা বলেছেন৷সেই সঙ্গে কৃষি ঋণের হার কমিয়ে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে৷
অন্যদিকে সিপিএমের নেতা বাসুদেব আচারিয়া জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যাতে মূল্যবৃদ্ধি না হয় সরকার যেন সেদিকে নড়র দেয়৷ একই সঙ্গে বেকার সমস্যা কমানোর জন্য সরকারকে নানা নতুন পদ্ধতি বের করার কথাও জানিয়েছেন বাসুদেব আচারিয়া৷ কিন্তু সিপিআই নেতা গুরুদাস দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, বাজেট নিয়ে বেশী কিছু আশা করার নেই৷ কেননা এই সরকার প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ৷ এই সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে৷ বহু বারই সরকার কথা দিয়েও, কথা রাখতে ব্যর্থ৷ তাঁর কথায়, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই বাজেট করা হবে৷
কর প্রদানের ক্ষেত্রেও এক পরিবর্তন চেয়েছে বামফ্রন্ট৷ তাদের যুক্তি, বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে তা আদপেই ঠিক নয়৷ এবারের বাজেটে বামফ্রন্টের দাবি কৃষি উন্নতির দিকে নড়র দেওয়া৷ সেচ ব্যবস্থার উন্নতি, সারের ক্ষেত্রে ভর্তুকি বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়েছে৷ একই সঙ্গে মানবিক দিক থেকে ভারতের আরও উন্নতি করা উচিত৷ কেননা এতে মানব উন্নয়ন তালিকায় ভারতের অবস্থান 126৷ ভারতের অসংখ্য শিশু এখনও প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত৷ এবারের বাজেটে এই বিষয়গুলোর জোড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে৷
|