হে কবি হৃদয়ের পটে আছে আপনার ছবি৷৷ শুধু ভারতেই নয় সারা বিশ্বের মানুষের মনে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথের নাম ও ছবি রেখাঙ্কিত আছে৷ যুগ যুগ ধরে প্রবাহিত হয়ে চলেছে আপনার সৃষ্টির ধারা৷ স্রোতস্বিনী নদীর মত বয়ে চলেছে আপনার সুর৷ কবিতা মঞ্চে পাঠ করা হচ্ছে আপনার কবিতা৷ রবীন্দ্র নৃত্যে মুখরিত হচ্ছে নৃত্যসভাঘর৷ মাঝে মাঝে ভীষন অবাক লাগে৷ বিশ্ব কবি হলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী৷ সত্যিই তিনি হলেন ঐশ্বরিক প্রতিভা সম্পন্ন৷ জন্মসূত্রে তিনি হলেন জমিদার বংশের সন্তান৷ 1861 সালে 7 ই মে পৃথিবীতে এসেছিলেন তিনি৷ বাংলা তারিখটি ছিল 25 শে বৈশাখ৷ সমগ্র দেশ লাভ করেছিল এক কবিরূপী নক্ষত্রকে৷ যার কর্মের আলোর ছটায় সাহিত্য তথা কলা জগতের সমস্ত ক্ষেত্রে এসেছে জোয়ার৷ কলা ক্ষেত্রে হয়েছে শস্য শ্যামলা৷ দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর আর সারদা দেবীর সন্তান হলেন তিনি৷ জোড়াসাকোর ঠাকুর বাড়িতেই জন্মান তিনি৷ যৌথ পরিবার ছিল তাদের৷ রবীন্দ্রনাথের 11জন ভাই ছিল৷ আর বাড়ির সকল ভাই বোনদের থেকে বয়সে ছোট ছিলেন রবীন্দ্রনাথ৷ তাঁকে বাড়িতে সবাই রবি বলে ডাকত৷ রবি শব্দের অর্থ হল সূর্য৷ আর সূর্যের সেই প্রখর তেজ ছিল কবির বুদ্ধিমত্তায়৷
তবে তিনি যে পরিবেশের মধ্যে শিশুকাল অতিবাহিত করেছেন তাতে তিনি সাহিত্য, সঙ্গীত এবং থিয়েটারের ছোঁওয়া সব সময়ই পেয়েছেন৷ শিশুকালে অন্যান্য পুত্র সন্তানদের মত তিনি পিতার সাহচর্য খুব একটা লাভ করেন নি৷ কারন কর্মসূত্রে তাঁর পিতা দেবেন্দ্রনাথকে বেশীরভাগ সময়ই দেশে- বিদেশেই কাটাতে হত৷ বাড়ির ভৃত্যরা ছিল কবির বন্ধু৷ বনেদী জমিদার পরিবার৷ কবির মা বেশীরভাগ সময় অসুস্থ থাকতেন বলে সকল কাজের জন্য বাড়িতে চাকর নিযুক্ত করা হয়েছিল৷ বাড়ির ভৃত্যরাই কবির সকল খেয়াল রাখতেন৷ খাওয়া থেকে শুরু করে শিশুমনের সকল কৌতুহলী প্রশ্নের উত্তর দিতেন তারা৷ রামায়ন মহাভারতের কাহিনী বলার পাশাপাশি লক্ষ্মৌয়ের সেই গন্ডি কেটে বলতেন এই গন্ডির বাইরে বেরোলে রাবণ ধরে নিয়ে যাবে৷ আবার কবি মনকে সন্তুষ্ট করার জন্য তাঁরা কবিকে ভুতের গল্পও শোনাতেন৷ ঘরে থাকার সময় মাঝে মাঝেই জানলা দিয়ে তিনি বাইরের দৃশ্য দেখতেন৷ জানলায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তিনি দেখতেন দইওয়ালা কাঁধে বাকের মধ্যে দই নিয়ে যাচ্ছে৷ আর বলছে দই চাই দই চাই৷ আর এই স্মৃতিকেই পরে তিনি লিপিবদ্ধ করেছিলেন অমল ও দইওয়ালা নাটকটির মধ্যে৷ মাত্র আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লিখতে শুরু করেন৷ আর সেই লেখনী এরপর আর থামে নি৷
1873 তিনি ভারত ভ্রমনের মধ্যে দিয়ে তিনি তাঁর পিতার সান্নিধ্য লাভ করেন৷ তিনি তাঁর পিতার সঙ্গে উত্তর ভারত এবং হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল ভ্রমন করেন৷তাঁরা অমৃতসরের গুরুদুয়ারাতেও যান৷ ভ্রমনের সময় তিনি তাঁর ভ্রমনলব্ধ স্মৃতিকে কবিতায় লিপিবদ্ধ করতে ভোলেন নি৷ তখন কবির বয়স ছিল 11 বছর৷ পিতার কাছ থেকে তিনি সংস্কৃত, ইংরাজী, জ্যোতিষ এবং হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করেন৷ শিক্ষাজীবনের শুরুতে তিনি ওরিয়েন্টাল সেমিনারী স্কুলে ভর্তি হন৷ কবির শিশুমনে কনভেন্ট স্কুলের শিক্ষার দাগ কাটতে পারে নি৷ এরপর বাড়িতেই গৃহশিক্ষকের কাছে পড়াশুনা শেখেন৷ গৃহে সাময়িক জ্ঞান লাভ করার পর কবি বাংলা একাডেমি এবং সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে ভর্তি হন৷ কিন্তু কোন স্কুলেই তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশুনা করেন নি৷ 1874 সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় প্রথম তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়৷ এরপর সময়ের গতিতে কবির লেখনীর ধারা কবিতার ক্ষেত্রে সৃষ্টি করে নব নব অনবদ্য কবিতা৷ কবির জীবন ইতিহাস অনেক বিস্তৃত৷ কবির জীবনের পাতায় রয়েছে কবিতা, গান নাটক এবং গল্পগুচ্ছ৷ সঞ্চয়িতা, গীতাঞ্জলী কবির অনবদ্য সৃষ্টি৷ পৃথিবীর অস্তিত্ব যতদিন থাকবে সঞ্চয়িতা গীতাঞ্জলীও সাহিত্য ক্ষেত্রে জীবিত থাকবে৷ সাহিত্যের ভূমিতে আপনার সৃষ্টি অমর করেছে সাহিত্যকে আপনার জ্ঞানের দৃষ্টি৷৷ আপনি মহান আপনি ঈশ্বর হে কবি হৃদয়ের পটে রয়েছে আপনার ছবি৷৷
তথ্য সংগ্রহ জিনিয়া দত্ত
|