মুখ্য পৃষ্ঠা > অন্যান্য বিষয় > ওয়েবদুনিয়ার বিশেষতা 08 > কবিপক্ষ
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
কবির আরশিতে কবি

সহেলি দা

আজ তাঁকে মনে করব কেন? শুধু আজ তিনি মনে পড়বেন কেন? মনে তো করতে হয় তখনই যখন ভুলে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা থেকে যায়৷ অল্প হলেও৷ তাহলে কি সত্যি মনে আছে কিনা তা বুঝে নিতে চাওয়ার একটি প্রচ্ছন্ন সতর্ক প্রচেষ্টায় নাম স্মরণ৷ হবে হয়ত৷ সে যাই হোক৷ বিশ্ব পাঠক কুলকে সবচেয়ে আক্রান্ত করেছেন যিনি, তিনি রবীন্দ্রনাথ৷ কখনও প্রকাশে আবার কখনও অপ্রকাশে৷ কবিরাতো সবসময় প্রকাশ করেন না, আড়াও করেন৷ এই তামাম পাঠক দুনিয়ায় যাঁরা কিনা কবি- পাঠক, (সেখানে স্বরণযোগ্য জীবনানঙ্গীর সতর্কবাণী, সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি) তাঁদের মেধা মননে অবলীলায় ধরা পড়ে এমন কিছু অমূর্ত স্তর যা কিনা বেশিরভাগেরই নাগালের বাইরে৷ সীমাবদ্ধতা থেকেই যায়৷ তবে আনন্দের বিষয় হল এই যে, কিছুটা হলেও তাঁদের সেই মূদ্রিত ভাবনার রসে জরিত হতে পারি আমরা৷ একটু একটু করে প্রতি মুহূর্তে পৌঁছে যেতে চায় রবীন্দ্রনাথের কাছে৷ তাঁকে বুঝতে চাওয়া জানতে চাওয়ায় অবশ্যই এরা আমাদের পথ পদর্শক৷

রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বিস্তর বহুমূখি আলোচনা গবেষণা ইত্যাদি হয়েছে এবং হয়ে চলেছে তাঁর পরবর্তী সাহিত্যিক গবেষকের কাজে৷ মজার কথা হল রবীন্দ্র নাথ নিজেকে কবি বলে ভাবতে এবং পরিচয় দিতে সবথেকে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন৷ সেই কবি রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে রবীন্দ্রত্তর কবিদের ভাবনা, শব্দ, লেখা জোখা নিয়ে দুচার কথা বিনিময় করতে করতে আশা করা যায় রবীন্দ্রকেই খানিকটা বোঝার চেষ্টা করা যাবে৷ তাঁর কাছে পৌঁচানোর আত্মিক প্রচেষ্টা করা হবে৷

'রবীন্দ্রনাথের যুগ চলে গেছে'- এরকমই একটি উত্তি করেছিলেন বুধদেব 1938 এর প্রগতি সাহিত্যের সম্মেলনের বক্তৃতায়৷ তিরিশ বা চল্লিশ দশকের বাঙালি কবির কাছে রবীন্দ্রনাথই ছিলেন প্রধানতম সমস্যা৷ দুভাবে সম্ভব ছিলো সেই সমস্যার মোকাবিলা করা৷ ' রবীন্দ্রনাথ ও উত্তর প্রবন্দ্ধে আলোচনা করছেন বুদ্ধদেব, রবীন্দ্রনাথকে এড়িয়ে গিয়ে অথবা তাঁকে আত্মসাত্ করে৷ রবীন্দ্র পরবর্তী যে কোন শক্তিশালি কবির পক্ষে প্রথম উপায়টি অর্থাত্ রবীন্দ্রনাথকে এড়িয়ে যাওয়া ছিল অসম্ভব৷ আজও একই ভাবে তা সত্যি৷ বোখাপড়ার এক দীর্ঘ পথ প্রয়োজন হয়েছিল তাঁর৷ বুদ্ধদেব রচিত " বাইশে শ্রাবণ" কবিতাটির কয়েকটি পংতি একটুন ভাবি যদি, " আমার প্রথম প্রেম - সর্বশেষ প্রেম তাও তুমি৷/ কৌশলে বিশ্বেরে আমি আবিষ্কার করেছি তোমারি দৃষ্টি দিয়ে- জীবন যৌবন মন উঠেছে কুসুমি/ কটাক্ষে তোমার৷ আজ মধ্য বয়সে প্রান্তে এসে/ আজও দেখি জীবন সর্বস্ব তুমি৷ তোমারি গভীর/ উত্স হতে আমি উত্সারিত৷" কবিতার শব্দগুলি বুদ্ধদেবের এক মুহূর্তের বিলাস নয়, প্রায় জীবনব্যাপী রবীন্দ্র চর্চার সাক্ষ৷ বলতে পারি বুদ্ধদেবের রবীন্দ্রনাথ৷ একেবারে ভিন্ন মেরু পথের কবি জীবনানন্দ রবীন্দ্র- প্রয়াণের পটভূমিতে 'রবীন্দ্রনাথ' নামে যে কবিতাটি রচন করেন, তাতে জীবনানন্দীয় মননে এক দূরত্ব বোধহই আক্রান্ত করে কবিতাটিকে৷ "পতঞ্জলি, প্লেটো, মনু ওরিজেন, হোমরের মতো/ দাঁড়িয়ে রয়েছ তুমি একটি পৃথিবী-ভাঙা-গড়া-শেষ করে দিয়ে কবি,/ দানবীয় চিত্রদের অন্তরালে আপনার ভাস্বরতা নিয়ে,/ নিকটে দাঁড়িয়ে আছে নিবিড় দানবী৷/ অথবা ছবির মত মনে হয় আমার সপ্নানদোষে ম্লান চোখে,/ অল্প আলোকের থেকে সেই পুরাণ-পুরুষ সব/ চলে যায় অনুমেয়, অজ্ঞেও আলোকে৷" আলাদা করে চিনে নেওয়া যায় যে শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে, সেই শক্তিও ছিল ভীষণ ভাবে রবীন্দ্র আক্রান্ত৷ এঅনই একটি কবিতা- " বসন্ত আসে, বগানে ফুটেছে চেরি/এই তো সময়- ব্রিজ বাঁধা হল শেষ/ যদি তুমি করে অভ্যাস বসে দেরি/ কাছে আসে অনিমেষ৷" রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, "পথ হল দেরি, ঝরে গেল চেরি/ দিন গেল বৃথা, প্রিয়া৷/তবুও তোমর ক্ষমাহাসি বহি/ দেখাদিল আজেলিয়া৷" সাদৃশ্যগুলি এত কাছাকাছি যে নিদেশ করারও প্রয়োজন হয়না৷ কি গভীর প্রভাব ছিল রবীন্দ্রনাথ শক্তিরও৷ তাঁকে এড়িয়ে যাওয়া যায়?

রবীন্দ্রনাথ বুঝি তাই 'সব অস্থিরতার তলায় একটি বিশ্বাসের নিষ্ক্য আশ্রয়৷ বোধহয় বাঙালির প্রথম ও সর্বশেষ প্রতীক পুরুষ৷ আলোকরঞ্জনের একটি কবিতার লাইন অনুরণিত হচ্ছে মল্বে৷ কবিতাটি রবীন্দ্র বিষয়ক নয় মোটেই৷ তবে! রবীন্দ্র ভাবনায়, পাঠে, রবীন্দ্র ঐশ্বর্যে পাঠক যে অসীমের সন্ধান পায় তখন মনে হয় তুমি আছ বলেই না 'সারা ঘর শুধু জানালা জানালা জানালা৷'
অতিরিক্ত
রবীন্দ্রনাথ ও উত্তর আধুনিক চিন্তা
কবি যখন চিত্রকর
রবীন্দ্র চিন্তার বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা
প্রণাম করি পায়ে, বন্ধু বলে দুহাত ধরি নে
রহস্যময় রাজ বাড়ি: ইরাবতী
বিবি ও রবি