মুখ্য পৃষ্ঠা > অন্যান্য বিষয় > ওয়েবদুনিয়ার বিশেষতা 08 > কবিপক্ষ
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
অজানা রবীন্দ্রসঙ্গীত...একান্তে সুভাষ চৌধুরী

রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে নানা চর্চা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা হলেও তা কতটা যুক্তি যুক্ত তা নিয়ে দ্বিধায় স্বয়ং রবীন্দ্রসঙ্গীত বিশেষজ্ঞ সুভাষ চৌধুরী-- একান্ত সাক্ষাত্কারের মাঝেই খুঁচিয়ে তুলে ধরলেন রবীন্দ্র সঙ্গীতের নানা দিক৷ কিন্তু তাঁর মনেও নানা প্রশ্ন? পঁচিশে বৈশাখের শুভ লগ্নে এই বিষয়ে বাংলা ওয়েব দুনিয়ার সাংবাদিক সোমনাথ বিশ্বাসকজানালেন নিজের মূল্যবান মতামত৷

1) কপি রাইট উঠে যাওয়াতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের মান কতটা বিকৃত হয়েছে বলে আপনার মনে হয়?

কপিরাইট উঠে যাওয়াতে রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে কয়েক বছর মানুষ উত্তেজিত হবে বলে ভয় হয়েছিল৷কপি রাইট উঠে যাওয়াতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে কিছু কাজও হয়েছিল৷ এক্ষেত্রে অনেক গান বিকৃতও হয়েছে৷ কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে গান বিকৃত করার বিষয়টি বেশী দিন টেকে নি৷ কারণ রবীন্দ্রনাথের কম্পোজিশনের ব্যাপারে কিছুই বলার নেই৷ উনি শ্রেষ্ঠ কম্পোজার৷ আমার মনে হয় রবীন্দ্রসঙ্গীতের জন্যই রবীন্দ্রসঙ্গীত বেঁচে রয়েছে৷

2) রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ অপনার মনে হয় কি এই শিল্পীরা রবীন্দ্রসঙ্গীতের মান ধরে রাখতে পারছে?

এখনকার ছেলে-মেয়েদের আত্মসম্মানবোধ চলে গিয়েছে৷ তাদের মধ্যে এখন কম্প্রোমাইজের প্রবনতাটা বেশী৷ অগে কোন সঙ্গীতের অনুষ্ঠানে গেলে বোঝা যেত প্রকৃত অর্থে গান শিখেছে শিল্পীরা৷ কিন্তু বর্তমানে ছেলে-মেয়েদের গান না শিখে কি করে তাড়াতাড়ি নাম কামানো যায় তার দিকে বেশী ঝোঁক৷ এখনতো পয়সার জোরে অনায়াসে গান রেকর্ড করা যায়৷ তাই যাদের পয়সা আছে তারা ঠিক মতো গান না শিখেই ক্যাসেট বার করছেন৷ অনেকে অবার শিক্ষকদেরও কাজে লাগাতে চান৷ আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যে অনেক শিল্পীরাই তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য পয়সা দিয়ে গান রেকর্ড করছেন৷ আসলে কেউ আর গানের প্রকৃত বিষয় নিয়ে ভাবে না৷ সমাজের সঙ্গে মানুষও এখন নিম্নাভিমুখি৷ গান শিখতে গেলে গানের মনন নিয়ে চিন্তা করতে হবে৷ গানের বোধ নিয়ে চিন্তা করতে হবে৷ গানটির প্রকৃতি বুঝতে হবে৷ কিন্তু এসব তো দূরের কথা যেটি খুব সাধারণ বিষয় অর্থাত গানটি একবারও রিডিং পড়তেও চান না অনেকে৷

3) বর্তমানের এই পরিস্থিতি দেখে আপনার রবীন্দ্রসঙ্গীতের ভবিষ্যত নিয়ে কি মনে হয়?

আমি আগেই বলেছি রবীন্দ্রনাথ শ্রেষ্ঠ কম্পোজার৷ রবীন্দ্রসঙ্গীতের জন্যই রবীন্দ্রসঙ্গীত বেঁচে রয়েছে৷ তাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বা প্রকৃত অর্থে গান না শিখে গানকে বিকৃত করে বা পয়সার জোরে গানের ক্যাসেট বার করে রবীন্দ্রসঙ্গীত শেষ করা যাবে না৷ রবীন্দ্রসঙ্গীত যে রকম ছিলো সেরকমই থাকবে৷ তবে আমি স্বীকার করছি আগের থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীতের ক্যাসেট বিক্রি হওয়া অনেক কমে গিয়েছে৷ কিন্তু আমার মনে হয় একটু সমীক্ষা করে দেখলে দেখা যাবে রবীন্দ্রনাথের গানের রেকর্ডই বেশী হছে৷

4) পাশ্চাত্য সঙ্গীতের সুরে রবীন্দ্রনাথ অনুপ্রানিত হয়ে পাশ্চাত্য সুরের প্রয়োগ রবীন্দ্রসঙ্গীতে করেছিলেন৷ এই পাশ্চাত্য সুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের গানের যে মেলবন্ধন সে বিষয়ে আপনার কি মতামত?

রবীন্দ্রনাথের পাশ্চাত্য সঙ্গীতে, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে, ফোক সব বিষয়েই অগাধ জ্ঞান ছিলো৷ এছাড়াও তিনি একটি গান লেখার সময় গানের খুঁটিনাটি বিচার করেই লিখতেন৷ তাই পাশ্চাত্য সঙ্গীতের সুরের উপর রবীন্দ্রনাথ কথার প্রয়োগ করে এক অদ্ভুত চলন দেখিয়েছেন৷ যেমন রবীন্দ্রনাথের "এই তো ভালো লেগেছিলো" গানটিতে কোমল সুর ও সুদ্ধ সুরে অদ্ভুত ভাবে কর্ড চেঞ্জ করা হয়েছে৷ এছাড়াও তাঁর গানে অনেক কারুকার্য ছিলো৷ অনেক গানই সুরের ওঠানামার চলনের ফলে বিদেশী বিদেশী মনে হয়৷ তার কিছু কিছু গানে সঞ্চারী ও অভোগের মধ্যে এক অসাধারন পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়৷ গান লেখার সময় তিনি সব দিকেই পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার করেই গান লিখতেন৷ যেমন "তুমি কোন কাননের ফুল.....কোন স্বপনের পারা" গানটিতে একটি অদ্ভুত শব্দ চয়ন করেছিলেন৷ এই গানটিতে 'পারা' শব্দটি মতনের পরিবর্তে ব্যবহার করেছিলেন৷ কোন স্বপনের 'পারা' অর্থাত কোন স্বপ্নের মতো৷ অবার অন্যদিকে গানের মধ্যে ছন্দের প্রয়োগও তিনি অদ্ভুত ভাবে করতেন৷ যেমন "তুমি আমার কাছে এসেছ" গানটিতে প্রত্যেক চতুর্থ লাইনের শেষে তিনি অদ্ভুত ভাবে ছন্দ মিলিয়ে লিখেছিলেন ...... স্নেহে এসেছ, ....... ভালোবেসেছ, ....... এক তড়িতে ভেসেছ৷ অর্থাত তিনি একটি গান লেখার সময় সমান গুরুত্ব দিতেন৷ এছাড়াও সুর, তাল, লয়ের ক্ষেত্রেও এক অদ্ভুত মেলবন্ধন লক্ষ্য করা যায়৷

5) তানপুরা ও এসরাজের সঙ্গে রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং আধুনিক যন্ত্রের সঙ্গে রবীন্দ্রসঙ্গীত কোন বিষয়টি বেশী গ্রহনযোগ্য বলে আপনার মনে হয়?

রবীন্দ্রসঙ্গীত আগে এসরাজের সঙ্গে গাওয়া হত৷ কিন্তু বর্তমানে অনেক যন্ত্র আবিষ্কার হওয়ার ফলে এখন রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গেও তা বাজানো হয়৷ এতে খারাপের কিছু নেই৷ রবীন্দ্রনাথের গানে চড়াই উতরাইয়ের সুন্দর কারুকার্য রয়েছে৷ এছাড়া কর্ডের কথা আগেই বলেছি৷ সেই সবদিকগুলি ভালো করে দেখে নিয়ে গানের প্রকৃতি বুঝে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করলে কোন ক্ষতি নেই৷

6) ছবিতে রবীন্দ্রসঙ্গীতের ব্যবহারের বিষয়ে আপনার মতামত কি?

আমার মতে ছবিতে রবীন্দ্রসঙ্গীতের ব্যবহারের ফলে রবীন্দ্রসঙ্গীত আরও জনপ্রিয় হবে৷ তাই রবীন্দ্রসঙ্গীত ছবিতে ব্যবহার ভালোই হয়৷ তবে খুব সচেতনতার সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত৷ ছবির সিনের চরিত্র ও রবীন্দ্রসঙ্গীত দুটি ক্ষেত্রেই মিল রেখে এই সঙ্গীত ব্যবহার করা উচিত৷ অনেক সময় দেখা গিয়েছে কোন কোন ছবিতে কোনকিছুর উপরেই লক্ষ্য রাখা হয় নি৷ এমনকি গানটিকে ঠিক মতো কম্পোজও করা হয় নি৷ যেমন কিছুদিন আগেই একটি বাংলা ছবিতে একটি রবীন্দ্রসঙ্গীতকে খুব বাজেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে৷

7) ব্যক্তিগত ভাবে আপনি 25শে বৈশাখ কিভাবে কাটান?

এই দিনটিতে সাধারনত টিভিতে রবীন্দ্রনাথের অনুষ্ঠানগুলি শুনে এবং বই পড়ে কাটায়৷ কোন কোন বার বাইরে কোন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন থাকলে শেখানে যেতে হয়৷ আমি মনে করি এই বিশেষ দিনটিতে সবারই সবাইকে রবীন্দ্রনাথের বই দেওয়া উচিত৷ সবার পক্ষে সবসময় হয়ত বই দেওয়া সম্ভব নয়৷ তবে আমার মনে হয় রবীন্দ্রনাথকে জানতে গেলে বা বুঝতে গেলে তার বই গুলি পড়া খুব প্রয়োজন৷
অতিরিক্ত
স্মৃতির টুকরোগুলো...একান্তে আশ্রমকন্যা রমা চৌধুরী
রবীন্দ্র জীবনী
পথ খুঁজে ফিরি
একান্তে শ্রীকান্ত আচার্য
কবির আরশিতে কবি
রবীন্দ্রনাথ ও উত্তর আধুনিক চিন্তা