মুখ্য পৃষ্ঠা > অন্যান্য বিষয় > ওয়েবদুনিয়ার বিশেষতা 08 > কবিপক্ষ
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
রবীন্দ্র কবিতার খুঁটিনাটি- একান্তে ব্রততী


প্রশ্নঃ রবীন্দ্রনাথের কবিতায় কোন বিষয়টা আপনাকে বেশী আকৃষ্ট করে?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথের কবিতার কথা বলতে গেলে ওভাবে নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে বলা খুবই মুশকিল৷ তাঁর কবিতার মধ্যে জীবন দর্শন রয়েছে৷ তাঁর কবিতা পড়লে আমরা ভীষণ ভাবে অনুপ্রাণিত হই৷ কবিতাগুলি পড়ে মনে হয় আমারই কথা লেখা রয়েছে, চেতনাকে ভীষণ ভাবে স্পর্শ করে৷ অভিজ্ঞতাকে ছুঁয়ে যায়৷ তাঁর কবিতাকে মনের সঙ্গে ভীষণ ভাবে মেলানো যায়৷ তাই এক কথায় বলতে গেলে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা সার্বিক ভাবেই আমাকে আকৃষ্ট করে৷

প্রশ্নঃ কবিতায় ছন্দ বা শব্দ চয়ন এবিষয়ে আপনার কি মতামত?

উত্তরঃ ছন্দ বা শব্দ চয়নের কথা বলতে গেলে একই ভাবে আবার বলতে হবে তাঁর কবিতায় ব্যবহৃত শব্দ বা ছন্দ ভীষণ ভাবে মনের সঙ্গে মিলে যায়৷ মনের সঙ্গে একটা নিবিড় যোগসূত্র তৈরী করতে পারে৷ তিনি যেমন ছোটোদের জন্য কবিতা লিখেছেন, তেমনই বড়দের জন্যও অসংখ্য কবিতা লিখেছেন৷ আবার তাঁর কবিতায় ব্যবহৃত শব্দগুলি কেমন যেন বয়সের সঙ্গে তাল রেখে পাল্টাতে থাকে৷ রবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিতাগুলিকে এমন ভাবে শব্দ ব্যবহার করেছেন যে কবিতাগুলি আমি যখন ছোটোবেলায় পড়তাম, তখন কবিতার মানে একরকম মনে হত আবার যখন বড় হয়ে ঐ কবিতাগুলি পড়েছি তার মানে অত্যন্ত গভীর হয়ে ফুটে উঠেছে৷ কবিতাতে তিনি যেভাবে শব্দের ব্যবহার করেছেন একইরকমভাবে ছন্দের মধ্যেও রয়েছে যাদু৷ এক চৌম্বকীয় ক্ষমতা৷ যা প্রতি মুহুর্তে আকৃষ্ট করে৷


প্রশ্নঃ রবীন্দ্রনাথের কবিতা এবং এখনকার কবিদের মধ্যে কি পার্থক্য দেখতে পান আপনি?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত, জীবনানন্দ সব কবির কবিতার মধ্যে ভিন্নতা রযেছে৷ আগেই বলেছি রবীন্দ্রনাথের কবিতা যেন বয়সের সঙ্গে মিলে যায়৷ মনের সঙ্গে মিলে যায়৷ রবীন্দ্রনাথ তাঁর এক কবিতায় লিখেছিলেন ''আজ হতে শতবর্ষ পরে'' তাকে কেউ মনে রাখবে কিনা৷ কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে আমরা শতবর্ষকে যুগ যুগ ধরে মনে রাখব৷ তাঁকে কখনই ভোলা যাবে না৷

প্রশ্নঃ আপনার তো অসংখ্য ছাত্রছাত্রী৷ তারা রবীন্দ্রনাথের কবিতা কতটা পছন্দ করেন?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথের কবিতার আবেদন চিরকাল৷ খুব স্বাভাবিকভাবেই ছাত্রছাত্রীরা রবীন্দ্রনাথের কবিতা পাঠ করাই বেশী পছন্দ করে৷ ছাত্রছাত্রীরা এমনিতেই সারা বছরই রবীন্দ্রনাথের কবিতা পাঠ করে৷ কিন্তু বৈশাখ ও শ্রাবণের সময়ে ছাত্রছাত্রীদের রবীন্দ্রনাথের কবিতা বেশী আকৃষ্ট করে৷

প্রশ্নঃ কবির কবিতায় বাদ্যযন্ত্র বা আলোকের ব্যবহার করে আপনাকে কতটা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে?

উত্তরঃ আমি যে প্রথম যন্ত্রের ব্যবহার করেছি তা নয়৷ এর আগেও রবীন্দ্রনাথের কবিতার সঙ্গে যন্ত্র ব্যবহার হয়েছে৷ স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও কবিতার সঙ্গে মৃদঙ্গ ব্যবহার করতেন৷ তিনি সবসময় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন৷ তিনি পরীক্ষার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলতেন৷ রবীন্দ্রনাথের কবিতায় আলো বা বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে আমাকে অনেক আলোচনা বা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে৷ যে কোন বিষয়েই তো এটা হয়েই থাকে৷ তবে এই বিষয়ে আলোচনা বা সমালোচনা সবসময়ই ইতিবাচক হয়েছে৷

প্রশ্নঃ আপনার কাছে পঁচিশে বৈশাখ কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তরঃ এই দিনটি আমি কলকাতার বাইরে যাই না৷ বাইরে থেকে প্রতিবারই অনেকে আহ্বাণ করে কিন্তু আমি ঐ বিশেষ দিনটি কলকাতাতেই কাটাই৷ 1988 সাল থেকে পঁচিশে বৈশাখে জোঁড়াসাকোতে কবিতা পাঠ করি৷ এছাড়া নানা অনুষ্ঠানে যাওয়ার আমন্ত্রণ থাকে৷ মন ভরে কবিতা পাঠ করি৷


বাংলা ওয়েবদুনিয়ার হয়ে সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন সাংবাদিক সোমনাথ বিশ্বাস
অতিরিক্ত
প্রার্থনা
মানব দরদী রবীন্দ্রনাথ
অজানা রবীন্দ্রসঙ্গীত...একান্তে সুভাষ চৌধুরী
স্মৃতির টুকরোগুলো...একান্তে আশ্রমকন্যা রমা চৌধুরী
রবীন্দ্র জীবনী
পথ খুঁজে ফিরি