মুখ্য পৃষ্ঠা > অন্যান্য বিষয় > ওয়েবদুনিয়ার বিশেষতা 08 > পয়লা বৈশাখ
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
বাংলার পয়লা তারিখ
ব্যুরো রিপোর্ট, বাংলা ওয়েবদুনিয়া
[ব্যুরো রিপোর্ট, বাংলা ওয়েবদুনিয়

বাঙালী নাকি বদলে যাচ্ছে? প্রশ্নটা হরদম শোনা যায় লোকাল ট্রেনে, বাই ওয়ান বাসে, টিভির চ্যানেলের বিজ্ঞাপণের বিজ্ঞাপণে, ম্যাগাজিনের ফ্রন্ট পেজে, ইন্টারনেটের ই-মেলে, ব্রেকফাস্ট-লাঞ্চ-ডিনারের টেবিলে৷ বিশ্বায়নের ধাক্কায় বাঙালী সম্পর্কে এ প্রশ্ন বারে বারে উঠে এসেছে৷ বাঙালীর নাকি রুচি বদলাচ্ছে৷ বদলে যাচ্ছে চিন্তন-মনন-দৃষ্টিভঙ্গি৷ ভেতো বাঙালী এখন আর ভেতো বাঙালী নেই৷ সে এখন 'রুটো' বাঙালী হয়ে উঠেছে৷ বাঙালী ডায়েট কন্ট্রোল, ফিগার কনশাস৷ বাঙালী মেয়েরা এখন শাড়ি নয়, সালোয়াড় নয়- জিনস টপ পড়ে৷ বাঙালী ছেলেরা ছেঁড়া জিনসের ফাঁকে বাইকে পৃথিবী খুঁজে বেড়ায়৷ দিলখুসা, বসন্ত কেবিন, কফি হাউস আজও হয়তো আছে৷ কিন্তু বারিস্তা, সিসিডি-এর ঠান্ডা ঘরে বাঙালী তনয়-তনয়ারা এখন কফির কাপে চুমুক দিচ্ছে৷

বাঙালী বাংলা অক্ষর ভুলতে চাইছে৷ বাঙলা ছেড়ে বাঙালী এখন ইংরেজীর অ্যালফাবেটে নিজেকে সঁপে দিয়েছে৷ 'ঠাকুমার ঝুলি' ছেড়ে বাঙালী কিশোর হ্যারি পটারে মুখ গুঁজেছে৷ বাড়ির তাকে দাদু বা বাবার কেনা কিরীটি অবনিবাসে ধূলো জমে উঠেছে৷ কিন্তু ধূলো ঝাড়বার কেউ নেই৷

রোদে তাপা পড়ন্ত গ্রীষ্মের বিকেলে ঝালমুড়ি, সিঙ্গারা খাওয়া বাঙালীর মধ্যে অনেক অনেক পরিবর্তন এসেছে৷ কিন্তু সত্যি এসেছে কি? না আসেনি৷ কেননা তা না হলে চৈত্র সেল আর বাংলা ক্যালেন্ডারের ফাঁকে 'পয়লা বৈশাখ' আসতো না৷ হত না সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে, স্নান করে গুরুজনদের প্রণাম করা৷ বন্ধু-বান্ধবীর সঙ্গে আড্ডা৷ দুপুরে ভাত-ডাল-মাছ তেল তেল পাতে কবজি চুবিয়ে পাত পেরে খাওয়া৷ বিকেলে গড়ের মাঠ, ময়দানে শাড়ী পরা প্রেমীকার লাজুক মুখের দিকে তাকিয়ে একটু হাত ছুঁয়ে দেখা৷

একটা দিনের আদরে বাঙালীর একটু হলেও বাঙালীয়ানায় মেতে ওঠা৷ কেননা দিনটা বাঙালীর পরম আপন, নিজের দিন৷ 'পয়লা বৈশাখ'৷ বাংলার নববর্ষ৷