1950 সালের 26 শে জানুয়ারী৷ ভারতের ইতিহাসে এটি হল একটি ঐতিহ্য পূর্ন দিন৷ 15 আগষ্ট 1947 সালের পর আবার বিনিদ্র রজনী যাপন করেছিল আসমুদ্র- হিমাচল৷ স্বাধীনতার আড়াই বছর পরে ভারতবর্ষে রচিত হয়েছিল স্বতন্ত্র সংবিধান৷ সার্বভৌম রাষ্ট্রের কাছে সংবিধানের অর্থ যে কতটা জরুরী তা বিদগ্ধ ব্যাক্তি মাত্রেই জানান৷ আড়াই বছর আগে বৃটিশদের থেকে স্বাধীনতা লাভ করার পর, এই দেশের জন্য একটি লিখিত সংবিধান খুবই জরুরী ছিল৷ কেননা সংবিধান যে কোন দেশেই আইনী বিষয়কে চিহ্ণিত করে৷ তাই ভারতের সুশাসকেরা স্বাধীন ভারতের জন্য একটি লিপিবদ্ধ সংবিধানের জন্য সরব হয়ে ওঠেন৷ কেননা সংবিধানই প্রকৃতপক্ষে দেশের সকল জনগণকে মৌলিক অধিকার ও অন্যান্য অধিকার প্রদান করে থাকে৷ রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল এবং সুনির্দিষ্টভাবে চালানোর জন্য সংবিধান রচনা প্রত্যেক রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই অত্যন্ত জরুরী বিষয়৷
ভারতের সংবিধান রচনার ক্ষেত্রে বি.আর.আম্বেদকর, কামাথের অবদান খুবই উল্লেখযোগ্য৷ এছাড়াও আরো অনেকেই সংবিধান রচনার ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন৷ সে কারণে এই ব্যক্তিদের অবদান ভারতীয় ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে৷ কেননা স্বাধীনতার পর একটি লিপিবদ্ধ আইন প্রণয়ন না হলে স্বাধীনতার স্বাদ অনেকটাই তেতো হয়ে আসে৷ রাষ্ট্র পরিচালনা বিশেষত দেশের আইনী, প্রশাসনিক দিককেও আরও দৃঢ় করতে এই সংবিধানের প্রয়োজনীতা সত্যিই গুরুত্বপূর্ন৷
1950 থেকে 2008 এই দীর্ঘ আটান্ন বছরে অনেক পরিবর্তিত হয়েছে ভারতের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা৷ পঞ্চাশের দশকের সেই সমাজ আজ বদলে গেছে৷ সেই সময়ের প্রেক্ষিতে সংবিধান তৈরী হলেও ভারতের বর্তমান প্রেক্ষাপটেও অনেক পরিবর্তন এসেছে৷বদলে গেছে জীবন, বদলেছে ভাবনা, আর বদলিয়েছে দর্শন৷ গতিশীলতা এসেছে মানুষের ডেলি রুটিনে৷ বিশ্বায়নের জোড়ালো স্রোতে আছড়ে পড়েছে ফেমিনিজ্যম, নারী স্বাধীনতার মত বেশ কিছু আধুনিক ভাবনা৷ একই সঙ্গে মর্ডান ভাবধারার মধ্যে এসে ভিড় করেছে কতকগুলো বিতর্কিত বিষয়৷ যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সমকামিতা, প্রাক-বিবাহ যৌনাচার প্রভৃতি৷ স
ভারতের সংবিধানের ক্ষেত্রে একথা বলাই যায়, মোটামুটি বৃটিশ সংবিধান থেকে অনুপ্রাণিত হলেও, বহুবার নানা প্রয়োজনে সংশোধিত হয়েছে আমাদের এই সংবিধান৷ যা যুগ বা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার একটা প্রবণতা৷ কিন্তু সমসাময়িক ঘড়ির কাটা এত তাড়াতাড়ি চলছে যে তা সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে কিছু বিষয় নিয়ে ভাবনার সময় এসেছে৷ তা না হলে হয়তো কালের দাড়িপাল্লায় ওজন কমে যাওয়ার ভয় থাকবে৷ ভারতে এখনও সমকামিদের জন্য কোন আইন প্রণয়ন করা হয়নি৷ উল্টে বলতে গেলে সমকামিতা এদেশে নিষিদ্ধ৷ এ নিয়ে কথা বললে ধর্মের ধামাধাড়িরা রে রে করে উঠতে পারেন৷ কেউ বা পাল্টা প্রশ্ন করতে পারেন সমকামি বিষয় আমাদের ভারতে জরুরী কিনা? স্বাভাবিক ভাবেই এই সব কথা না বলার কোন কারণ নেই৷ কিন্তু তাই বলে বিষয়কে প্রয়োজনীয়- অপ্রয়োজনীয় বলে সেই বিষয়টিকে এড়িয়ে যাবার কোন কারণ কি আছে?
কিছুদিন আগেই মহিলাদের প্রাকবিবাহ যৌনাচার নিয়ে দক্ষিনী অভিনেত্রী খুশবুর বক্তব্যে অনেকেই ক্ষুদ্ধ হয়েছিলেন৷ অনেকেই হয়ত এই দক্ষিনী ফিল্মস্টারের মন্তব্যে খুশী হন নি৷ হয়ত ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও এধরণের মন্তব্যকে ভালো ভাবে মেনে নেয় নি৷ কিন্তু এখানেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, যে সমাজ সেই প্রাচীনকাল থেকেই পুরুষদের বহুগামিতার কথা মনেপ্রাণে সমর্থন করে এসেছে৷ শুধু তাই নয়, পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রাক- যৌনাচারের ক্ষেত্রেও কোথাও যেন কিন্তু কিন্তু ভাবের খুবই অভাব৷ কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে এরকম কথা উঠলেই সবাই কেমন যেন মারমুখী হয়ে ওঠেন৷ কেন? সে কারণ অনেকেই জানেন৷ আসলে ভারত কেন বহু সমাজই এখনও মণেপ্রাণে পুরুষতান্ত্রিক৷ এখনও মনে করা হয় সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব বিবাহিত মহিলার৷ এপ্রসঙ্গে এক সাংবাদিক বান্ধবীর কথা মনে পড়ে যায়৷ যাকে কিনা নিজের পেশার জন্য বহু গঞ্জনা শুনতে হয়েছিল৷ তাঁর অপরাধ ছিল সে কর্মসূত্রে রাত করে বাড়ি ফিরত৷ আর অনেক সময়ই সাংসারিক নিয়ম পালনে অপারগ হলে কটুক্তি শুনতে হত সেই মহিলা সাংবাদিককে৷ শুধু তাই নয় সে সন্তান ধারণ করবে কি করবে না, সেই ক্ষেত্রেও ঐ শিক্ষিতা মহিলার কোন মতামত প্রকাশের সুযোগ ছিল না৷ শুধু বাড়িতেই নয়, কর্মক্ষেত্রেও বহু জায়গায় তাকে শুনতে হয়েছিল কুমন্তব্য৷ কেননা সে নারী৷ তাই এই সব নিয়ে এখন ভাববার সময় এসেছে৷ এরই সঙ্গে যোগ করুন নির্বাচনে মহিলাদের জন্য 33 শতাংশ আসন সংরক্ষন নিয়ে আলোচনা হলেও কোন সুরাহা হয়নি৷ এখনও সে নিয়ে তর্ক, বিতর্ক হচ্ছেই৷ কাজের কাজ কিছুই হয়নি৷
সবশেষে বলা ভাল আমরা কেউই সংবিধান বিশেষজ্ঞ নই৷ কিন্তু স্বাধীন ভারতের নাগরিক হিসেবে প্রজাতন্ত্র দিবসে কিছু প্রশ্ন মনে উঠে আসে৷ সেটাই তুলে ধরা হল৷
|