মুখ্য পৃষ্ঠা > অন্যান্য বিষয় > ওয়েবদুনিয়ার বিশেষতা 08 > প্রজাতন্ত্র দিবস
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
সেই সুদিনের অপেক্ষায়
বলতে চেয়েছিলাম অনেকবার কিন্তু বলার অবকাশ হয়ে উঠে নি৷ মনের কথা৷ সমাজের কথা৷ সেই সমাজ যেই সমাজে আমরা বাস করি৷ যেই সময়ের কথা বলছি সেই সময় কর্মসূত্রে আমাদের সল্টলেকে যেতে হত৷ সল্টলেক নামটা শুনলেই কেমন ভয় ভয় লাগে৷ আরে সল্টলেক মানেই তো সুন্দর সুন্দর বাড়ি আর নির্জন রাস্তা৷ দিনের বেলাতেও সল্টলেকের বেশীরভাগ রাস্তাতেই খুব কম সংখ্যকই মানুষ দেখতে পাওয়া যায়৷ আমি ছিলাম আর আমার সঙ্গে আমার এক বান্ধবী৷ সময়টা ছিল অক্টোবর মাস৷ ঠিক পূজোর আগের মুহুর্তটা৷

আর আমরা বেরিয়ে ছিলাম পুজোর স্টোরি কভার করতে৷এই রকমই এক স্টোরি কভার করে আমরা ফিরছি৷তখন আমি ফ্রিলানসিং করি, একটি সংবাদপত্রে৷ সময় তখন দুপুর বারো কি সাড়ে বারো, সূর্য ঠিক মাঝ আকাশে প্রখর ভাবে আলো ছড়াচ্ছিল৷ আর আমাদের চোখে সেই প্রখর রোদ এসে পড়ছিল৷ প্রথমে বুঝতে পারছিলাম না৷ কিন্তু হঠাত আমার বান্ধবী আমাকে বলল আমাদের একটা মারুতি ধাওয়া করছে৷ আমরা তো ফুটপাত ধরে হাঁটছিলাম৷ আর সেই মারুতিটা একদম স্পিড কম করে আমাদের সঙ্গে চলার চেষ্টা করছিল৷ জানিনা সেই মারুতির ভিতর কারা ছিল৷ ঈশ্বরের অসীম কৃপায় আমাদের চলার গতি যেন কেমন করে বেড়ে গেল আমরা নিজেও বুঝতে পারলাম না৷ প্রায় দৌড়ানোর মত অবস্থায় আমরা দুজনেই হাঁটা শুরু করলাম৷ কপাল ভাল ছিল৷ ক্রসিং আসতেই জানিনা কি মনে করে মারুতিটা আমাদের পাশ কাটিয়ে চলে গেল৷

সেদিন বুঝেছিলাম রাস্তায় বেরিয়ে এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়লে মনের কি অবস্থা হয়৷ এটা তো অত্যন্ত সাধারন ঘটনা শহরতলীর অলিগলিতে এরকম ঘটনা আকছারই ঘটে৷ এর থেকে আরও জঘন্য ঘটনা ঘটে কিন্তু কাক পক্ষীও এর সম্বন্ধে জানতে পারে না৷ রাস্তায় বেরোলেই শুনতে হয় কিছু অশ্লীল মন্তব্য৷ কানে শোনার পরই মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে যায়৷ দিন বদলাচ্ছে যুগ পাল্টাচ্ছে কিন্তু বদলাচ্ছে না সমাজ৷ গত বছর অর্থাত 31 শে ডিসেম্বরের রাতে মুম্বইতে দুই জন মহিলাকে জঘন্যভাবে শ্লীলতাহানি করা হয়৷ সেই সময় ওদের সঙ্গে ওদের দুজন বন্ধুও ছিল৷ মুম্বই এর জুহু বীচের সামনে ওদের ঘিরে ধরে ছিল 80 জনের বেশী কালো হাত৷ ছিড়ে দেওয়া হয়েছিল ওদের জামা কাপড়৷ ঘটনাস্থলে একজন ফটোগ্রাফারও উপস্থিত ছিলেন৷ তিনি কয়েদ করেছিলেন তাঁর ক্যামেরার লেন্সে নিগ্রহের সেই জঘন্য দৃশ্য৷ পরের দিন প্রত্যেকটি নিউজ চ্যালেন গুলোর পর্দায় ভেসে উঠছিল সেই ভয়াবহ দৃশ্য৷

এই সমাজে আমরা বাস করি, যেই সমাজ মেয়েদের নিরাপত্তা দিতে পারে না৷ শুধু ভারতীয়রাই নয় বিদেশিনীরাও ভারতে এসে নিগ্রিহীত হন৷ গত কয়েকদিন আগেই খবরের কাগজে পড়লাম একজন বিদেশীনি নিগ্রীহিত হয়েছেন রাজস্থানের পুস্করে৷ এই নিয়ে একবার নয় পুস্কর বোধ হয় এই জন্যই ভারতের মধ্যে বিখ্যাত হয়ে উঠছে৷ প্রতি বছরই পুস্করে প্রচুর পরিমানে বৈদেশিক পর্যটক আসেন৷ এটি একটি ধার্মিক স্থল৷ এখানে প্রতি বছর মেলা বসে৷ কিন্তু এখানে এসে প্রতিবারই বঞ্চনার শিকার হন ভিন দেশী মহিলারা৷ শুধু তাই নয় শারীরিকভাবেও তারা নিগৃহীত হন৷

এই ধরনের ঘটনা বার বার ঘটার ফলে শুধু ভারতের প্রশাসনই নয় সামাজিক দুর্বলতার দিকটিও প্রকট হয়ে উঠে৷ ভারতের মাটিতে কোন বিদেশী মহিলার সন্মান যাওয়া মানে ভারতেরও অপমান৷ বিশ্বের অন্য সব দেশের মানুষের মনে ভারতের সেই ছবিটাই বদ্ধমূল হয়ে যাবে যে ভারত এমন দেশ যেখানে নারীরা হামেশাই হন নিগৃহীতা৷ একবার সন্মান হারিয়ে গেলে, সেই সন্মান আর ফিরিয়ে আনা যায় না৷ সমাজে বাঁচা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়৷ সেই সব মহিলাদের কথা ভাবুন তো যারা শারীরিক ভাবে নিগৃহীতা হয়েছেন৷ সারাটা জীবন তাদের সেই মানসিক যন্ত্রনার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাতে হবে। গণতান্ত্রিক দেশে সকলেরই স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার আছে৷ কিন্তু এই 57 তম গণতন্ত্র কি আমাদের নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত করবে? এমন দিন কি আসবে যখন তরুনীরা রাস্তাঘাটে ইভটিজিং শিকার হবে না৷ মহিলারা হবেন না নির্যাতিত৷
অতিরিক্ত
'কিছু প্রশ্নের উত্তর পেলাম না'
এক টুকরো ছাব্বিশ