ভারত শব্দটা যখন আমাদের কানের মধ্যে বাজে তখন এক শান্তি অনুভব হয়৷ যখন আমরা এই শব্দের স্বয়ং উচ্চারিত করি তখন আমাদের গর্বে বুক ফুলে ওঠে৷ বলিউডের বিখ্যাত নায়ক মনোজ কুমারের সিনেমার নায়কদের মত ভাবসাব আমাদের প্রত্যেক ভারতবাসীর হয়৷ শুধুমাত্র গর্বে বুক ফুলে উঠলেও রাষ্ট্রের কল্যাণ সম্ভব নয়৷ যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নিজেদের কর্তব্য এবং উত্তরদায়ীত্বটাকে সততাপূর্বক নেভাতে পারব না ততক্ষণ দেশেরও উদ্ধার হবে না কিংবা দেশবাসীরও হবে না৷
ভ্রষ্টাচার সমগ্র দেশের প্রগতিতে জগদ্দল পাথরের ন্যায় রয়েছে৷ প্রতি সপ্তাহে একটা না একটা ভ্রষ্টাচারের ঘটনা সামনে আসছে৷ রাজনীতি থেকে আইন পর্যন্ত ভ্রষ্টাচার তার শিকড় গেঁড়ে বসে রয়েছে৷ বাবু থেকে আইপিএস কিংবা আইএএস সবাই যেন ভ্রষ্টাচারে লিপ্ত রয়েছে৷ গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে যতই বিদেশী মুদ্রা ভান্ডারের খবরে আমরা উত্সাহিত হই না কেন আসল সত্য সবাই জানে৷
এটা সামনের ছবি হলেও এর পিছনের ছবি আজও এক ভয়ংকর অভিশাপ৷ সারা দেশে যতই বেশি সংখ্যায় পাঁচতারা হোটেল খুলুক না কেন, অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়৷ আজও দেশে এক-তৃতীয়াংশ লোকের অধিক সংখ্যক লোক গরিবী রেখার নিচে বসবাস করে৷ এর মানে হল আজও দুবেলার পেট ভরার মত খাবার তাদের কপালে জোটে না৷
শিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের প্রগতির গতি এরকমই কিছু কম৷ সারা দেশে 15 হাজার কলেজে 70 লক্ষ বিদ্যার্থী পড়াশুনা করে যা সারা দেশের যুব সংখ্যার মাত্র 7 শতাংশ৷ আজও প্রায় 1 লক্ষ বাচ্চা প্রাথমিক স্কুলের গন্ডিও পেরোতে পারে না৷ 17 কোটির মত বাচ্চা পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত আসতে আসতে পড়াশুনা ছাড়তে বাধ্য হয়৷ পুরো পৃথিবীতে 33 শতাংশ নিরক্ষর ভারতে রয়েছে৷ ভারতের গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী 70 শতাংশ লোকের অবস্থা খুব খারাপ৷ দেশে 80 শতাংশ রোগ অশুদ্ধ ও খারাপ জলের কারণে হয়৷
দেশের প্রায় 50 শতাংশ লোকের স্বচ্ছ শৌচালয়ের সুবিধা পায় না৷ গণতন্ত্রের 60 বছর পরও আজও মহিলারা শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে৷ প্রতিদিন কত মহিলা নির্যাতন, ধর্ষণের শিকার হয়, তার এক শতাংশও হয়ত আমরা জানতে পারি৷ গত দুই দশকে এক কোটির বেশি কন্যা ভ্রুণের হত্যা পেটের ভিতরই করা হয়েছে, সেখানে নারী স্বাধীনতা ও সুরক্ষার কথা বলা খুব বাজে শোনায়৷
ভারতের গণতন্ত্রের উপর কান্নার এই প্রক্রিয়া থামতে পারে না কারণ প্রতিটা জায়গায় ভ্রষ্টাচার রয়েছে হিমালয় পর্বতের মত৷ এই কারণে রাষ্ট্রের প্রচুর পরিমাণে বৈদিশিক মুদ্রা ভান্ডার থাকলে যেমন আমরা গর্ব করে বলতে পারছি, ঠিক তেমন 40 কোটি বেকার সংখ্যা আমাদের মুখকে লজ্জ্বাতে নতমস্তক করে দেয়৷ সারা দেশে বিকাস হয়েছে এটা ঠিক কিন্তু সেটা তাদেরই হয়েছে যারা প্রথম থেকেই বিকশিত ছিল৷ গত পাঁচ দশক ধরে নেতারা আমাদের মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে চলেছে৷ আজও জনসাধারণ প্রতীক্ষা করছে কবে দেশের উন্নতি হবে৷
|