ক্যাপ্টেন আর. হর্ষত হলেন একজন তরুন ভারতীয় সেনা৷ অসীম বীরত্বের জন্য এই বছর তাঁকে অশোক চক্র সন্মানে সম্মানিত করা হবে৷ তিনি দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন৷ তাই 59 তম গনতন্ত্র দিবসের দিন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল সেনাবাহিনীর সর্ব্বোচচ সন্মান অশোক চক্র হর্ষদের নামে উত্সর্গ করবেন৷ এর সঙ্গে ক্যাপ্টেন হর্ষদের নাম দেহরাদুনের ভারতীয় সেনা অ্যাকাডেমির বলিদান মন্দিরে অঙ্কিত করা হবে৷ ক্যাপ্টেন হর্ষদের পুরস্কারটি গ্রহন করার জন্য হর্ষদের মা চিত্রাম্বিকা এবং বাবা রাধাকৃষ্ণান নায়ার দিল্লীতে গেছেন৷
ক্যাপ্টেন হর্ষদকে ইসরাইলের অস্ত্র সম্বন্ধীয় বিশেষ প্রশিক্ষনের জন্য পাঠানো হয়েছিল৷ ক্যাপ্টেন হর্ষদের মা ভারতীয় সেনা অ্যাকাডেমির বলিদান মন্দিরটি দেখে বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন৷ হর্ষদ তাঁর মাকে বলেছিল যারা মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হয়ে যায় তাদের নাম এখানে লেখা হয়৷ চোখ ভর্তি জল নিয়ে ক্যাপ্টেন হর্ষদের মা বলেন, " মার্চে ওর বাড়িতে আসার কথা ছিল৷ ও বলেছিল আমি বাড়িতে গেলে অন্যদের উপর চাপ পড়ে যাবে৷ এটাই ছিল ওর শেষ কথা যেটা আমি ওর মুখ থেকে শুনেছিলাম৷" ক্যাপ্টেন হর্ষদের বাড়ি ত্রিবান্দমে৷ চিত্রাম্বিকার দ্বিত্বীয় সন্তান হলেন হর্ষদ৷ হর্ষদের বড় ভাই হলেন সমাজ কর্মী আর ছোট ভাই হলেন ইঞ্জিনিয়ার৷ হর্ষদের বাবার কাছ থেকে জান যায় ছোট বেলা থেকেই হর্ষদের সৈনিক হবার ইচ্ছা ছিল৷ ও সৈনিক স্কুলে পড়ার জন্য জেদ করেছিল বলেই হর্ষদকে তাঁর বাবা মা সৈনিক স্কুলে ভর্তি করেছিল৷ দ্বাদশ শ্রেনীতে পড়ার সময়ই ক্যাপ্টেন হর্ষদ সর্বশ্রেষ্ঠ ক্যাডারের খেতাব অর্জন করেছিল৷ খেলা ধুলাতেও হর্ষদ খুব ভাল ছিল৷
এন ডি এর পড়া শেষ করার পর হর্ষদ দেহরাদুনের সেনা অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হন৷ 2002 সালে হর্ষদ কাশ্মীরে তাঁর ট্রেনিং সম্পূর্ন করেন৷ 2007 সালের 7ই মার্চ ক্যাপ্তেন হর্ষদের রেড ডেবিল্স একজন জঙ্গিকে বেশ কিছু অস্ত্র সমেত গ্রেপতার করেন৷ ভারত পাকিস্তানের সীমানায় অনবরত যে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ চলছে এই জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে সেই তথ্য জানতে পারা যায়৷ এই তথ্য জানার পর ক্যাপ্টেন হর্ষদ তাঁর টিম নিয়ে দুই সপ্তাহ কুপবাড়া অঞ্চলে ছিলেন৷ এই অভিযানে অসফল হবার পর তিনি বাড়িতে যাবার জন্য আবেদন করেন৷
কিন্তু আবার তিনি গোপণ খবর পান যে কুববাড়াতে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঘটছে৷ তখন হর্ষদ রেড ডেবিলসকে নিয়ে কুপবাড়াতে যান৷ সেনা জঙ্গি সংঘর্ষে অনেক জঙ্গিদের মৃত্যু হয়৷ কিন্তু এই অভিযানকে সফল করতে গিয়ে ক্যাপ্টেন হর্ষদের হাঁটুতে গুলি লাগে৷ কিন্তু গুলি লাগা সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন আহত অবস্থাতে তিনি অদম্য সাহসের পরিচয় দিয়েছেন৷ ঐ আহত অবস্থাতেও তিনি তিনজন জঙ্গিকে মেরেছেন৷ আর এর সঙ্গে তার সৈনিক বন্ধুদের মনোবল জুগিয়েছেন৷
গভীর ভাবে আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি মোর্চা থেকে দূরে সরে যান নি৷ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তিনি তাঁর সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন৷ কিন্তু পাহাড়ের লুকিয়ে থাকা এক জঙ্গি এই বীর সৈনিকের উপর প্রচন্ড ভাবে গুলি বর্ষন করে৷ আর একটা গুলি হর্ষদের ঘাড়ে এসে লাগে৷ আর এই গুলি লাগার সঙ্গে সঙ্গেই হর্ষদ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন৷ দেশমাতৃকাকে রক্ষা করতে গিয়ে হর্ষদ দেশের জন্য শহীদ হয়ে যান৷
|