কোনও একটি গ্রামে একটি ব্রাক্ষ্মণ পরিবার বাস করত৷ ব্রাক্ষ্মণের চন্দ্রসেন নামে একটি পুত্র সন্তান ছিল৷ সে ছোটো থেকেই চোর প্রবৃত্তির ছিল৷ বড় হয়েও নিজেকে পরিবর্তন করতে পারেনি৷ বরং প্রবৃত্তি আরও বৃদ্ধি করে দিয়েছিল৷ ধীরে ধীরে সে খারাপ সঙ্গতের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল৷ চুরি-ডাকাতি-জুয়া-ছেনতাই ইত্যাদিতে যুক্ত হয়ে পড়েছিল৷
চন্দ্রসেনের কুকর্মের কথা মা জানতেন কিন্তু বাবার কাছে জানাতের না৷ তার মা তাঁর কুকর্মের কথা লুকিয়ে রাখতেন৷ এরজন্যই সে কুকর্মের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিল৷
একদিন ব্রাক্ষ্মণ একবার পূজা করে ফিরছিলেন পথে দেখলেন যে, দু'টি যুবক একটি সোনার আংটির জন্য নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করছে৷ একজন বলছে এই আংটি আমি চন্দ্রসেনের কাছ থেকে জিতেছি৷ অন্যজন বলছে, অমি জিতেছি৷ এই সকল বিষয় দেখে শুনে ব্রাক্ষ্মণ দু:খী হলেন৷ তিনি ওই যুবক দু'টিকে বুঝিয়ে তাদের ঝগড় বন্ধ করিয়ে আংটিটি নিয়ে নিলেন৷
ঘরে ফিরে ব্রাক্ষ্মণ তাঁর পত্নীকে চন্দ্রসেনের কথা জিজ্ঞাসা করলেন৷ উত্তরে ব্রাক্ষ্মণ পত্নী বললেন, 'এই এখানেই কোথাও খেলছিল তো?' আসল কথাটি হল যে গত পাঁচদিন যাবত ধরে চন্দ্রসেন ঘরেই ফেরেনি৷
ব্রাক্ষ্মণ কখনই প্রস্তুত হবেন না যে তাঁর পুত্র চন্দ্রসেন চোর৷ এই চিন্তা-ভাবনা করে সবসময় পুত্র চন্দ্রসেনের অপরাধকে গোপন করে রাখতেন৷ কোনও একদিন চন্দ্রসেন নিজেরই ঘর থেকে কিছু চুরি করতে যাচ্ছিল কিন্তু এমন সময় রার সঙ্গী সাথীরা তাকে একা ছেড়ে পালিয়ে গেল৷
রাস্তার ধারে একটি মন্দিরে কির্ত্তন হছিল৷ ক্ষুদিত চন্দ্রসেন সেই কির্ত্তনে বসে পড়ে৷ আর সেই দিন শিব রাত্রি ছিল৷ ভক্তগন শিবের উপরে বিভিন্ন ধরনের ফল-প্রসাদ অর্পণ করছিল৷ চন্দ্রসেন সেই ফল-প্রসাদগুলোকেই চুরি করার পরিকল্পনা করছিল মনে মনে৷ কির্ত্তন করতে করতে কিছু কিছু ভক্তগন ঘুমিয়ে পড়েছিল৷ সেই সুযোগে চন্দ্রসেন ভোগ চুরি করে পালাতে গেল৷
মন্দির থেকে বাইরে বের হতে না হতেই একজন ভক্তের ঘুম ভেঙে গেল৷ ভক্তটি চন্দ্রসেনকে চুরি করে পালাতে দেখে চোর-চোর বলে চিত্কার করে ওঠে৷ ভক্তরা চন্দ্রসেনের পেছন ধাওয়া করে৷ ক্ষুদিত চন্দ্রসেন পালাতে পারল না ও লাঠির প্রহারে আঘাত পেয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে গেল৷
শিবের দূত ও যম দূত একই সঙ্গে মৃত চন্দ্রসেনকে নিতে পৃথিবীতে আসেন৷ যম দূতের কথা অনুযায়ী চন্দ্রসেন নরকে যাওয়ার অধিকারী৷ কারণ আজ পর্যন্ত চন্দ্রসেন শুধুই পাপ করে এসেছে৷ অন্যদিকে শিব দূতের কথা অনুযায়ী চন্দ্রসেন স্বর্গের অধিকারী৷ কারণ সে শিব ভক্ত ছিল৷ চন্দ্রসেন গত পাঁচ দিন ক্ষুদিত অবস্থায় থেকে শিবের ব্রত করেছিল ও রাতির জাগরণ করেছিল৷
শিব পূজার যে নৈবেদ্য চুরি করেছিল সে খেতে পারেনি৷ সেই নৈবেদ্য খাওয়ার আগেই সে প্রাণ হারিয়েছিল৷ এইজন্যই সে শিব দূতের কথা অনুযায়ী স্বর্গস্থানের অধিকারে চন্দ্রসেন৷ এই কথা ভগবান শিব বলেছেন৷ সুতরাং যোম দূত খালি হাতেই ফিরে গেল৷ এই প্রকারে চন্দ্রসেন ভগবান শিবের সত্সঙ্গ মাত্র উদ্ধার হল৷ কথায় আছে সত্সঙ্গে স্বর্গ, বাস অসত্ সঙ্গে নরক বাস৷
|