গীতা কৈরী, সাংবাদিক বাংলা ওয়েবদুনিয়া কথায় আছে যেখানে নারীর সম্মান হয়, সেখানেই দেবতার বাস হয়৷ এটি আমাদের ভারতের মূল সংস্কারের মধ্যে পরে৷ নারী শান্তি ও শক্তি দুটোরই প্রতিক এইজন্য আমরা আমাদের দেশ ও জন্মভূমিকে ভারতমাতা বলে সম্বধন করি৷ পুরাকাল থেকেই নারী পুরুষের অধীন হয়ে থেকে এসেছে৷ কিন্তু এখন সময় পরিবর্তন হয়েছে৷ নারী স্বাধীনভাবে বাঁচতে শিখছে৷ নিজের স্বতন্ত্রতা তৈরি করেছে৷ বর্তমান যুগে নারীর আলাদা এক মর্যাদা হয়েছে৷ জীবনের প্রত্যেক স্তরে নারী নিজের একটি স্থান দখল করেছে৷
আজকের যুগে নারী এই পুরুষশাসিত সমাজের আত্মশক্তি৷ এই শক্তির মাধ্যমে সমাজের ভবিষ্যত সুন্দর হবে৷ ইতিহাস এই কথার সাক্ষী৷ আমাদের ইতিহাসে নক্ষত্রের মত উজ্জ্বল হয়ে রয়েছেন অনেক বিরাঙ্গণা৷ ভারতের ইতিহাসে এই উজ্জ্বল নক্ষত্ররা নতুন পথের দর্শন করিয়েছেন৷ আজ আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসে ভারতীয় বিরঙ্গনা মহিলাদের সম্মান জানাচ্ছি৷ যাঁদের দেখে নারী জাতির জীবনের অনেক উন্নতি হয়েছে৷ এই বিরঙ্গনা যাঁরা দেশের প্রতি নিজেকে সমর্পণ করেছেন৷ প্রতিবদ্ধতা ও পরাক্রমি ও পুরুষশাসিত সমাজে নিজেদের লক্ষ্যে নিবিষ্ঠ থেকে যে বিরত্ত্বের পরিচয় দিয়েছেন তাঁদের নমন করি৷
ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মী বাই যাঁর নাম সোনার অক্ষরে লেখা৷ যিনি এই পুরুষশাসিত সমাজে থেকেও আত্মশক্তির সহায়তাতেই পুরুষের মত লড়াই করেছেন তিনিই তো ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মীবাই৷ তাঁর সময়ে ভারতে রাজত্ব করছিল ইংরেজ৷ তাঁদের সামনে সকলে মাথা নত করে নিয়েছিল৷ কিন্তু ঝাঁসির রাণীর সঙ্গে ইংরেজদের কড়া মোকাবিলা করতে হয়েছিল এবং পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল ইংরেজ সরকার৷
মীরা বাই যাঁর ভজনে কৃষ্ণভক্তির মুক্তা ছড়িয়ে পড়ে৷ ভগবান কৃষ্ণের এই ভক্ত এই সংসারে বিশ্ব প্রসিদ্ধ৷ কৃষ্ণের প্রতি তাঁর মনোবল ও গভীর প্রেম নিজের পতি রাণার আকর্ষণ, রাজস্ব সব ত্যাগ করে কৃষ্ণপ্রেমে লীন হয়ে বিষ পান পর্যন্ত করেছিলেন৷ কিন্তু কৃষ্ণের প্রতি এই একাগ্রতা ও প্রেম কৃষ্ণকে দুর্বল করে দিয়েছিল৷ যার ফলে মীরা বাইয়ের বিষ পান অমৃত হয়ে গিয়ে মীরা কৃষ্ণ অঙ্গে বিলীন হয়ে যান৷ এমন প্রেমে নিষ্ঠতা ভারত ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না৷
একজন উল্লেখনীয় মহিলা, যাঁর নাম ভারতে ভীষণ সম্মানের সঙ্গে উচ্চারন করা হয়৷ তিনি হলেন, "কস্তুরবা"৷ তাঁকে ছাড়া মহাত্মা গান্ধী সফলতার সহিত ইংরেজের বিরুদ্ধে অহিংসার দ্বারা লড়াই করতে পারতেন কি? কস্তুরবা গান্ধী মহাত্মা গান্ধীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন৷ স্বতন্ত্রতা সংঘর্ষের সময়ে কস্তুরবা গান্ধী অনেক কবিতা লিখেছিলেন৷ তিনি অনেক ভালো ভালো কবিতা রচনা করেছিলেন৷ কস্তুরবা গান্ধীর নাম সাহিত্যেও খুব সম্মানের সহিত উচ্চারন করা হয়৷ সাহিত্যেও তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল৷
|