ইতিহাসের দিকে তাকালে অনেক তথ্য সম্পর্কে আমরা জানতে পারি৷ এই তথ্য থেকেই আমরা জেনেছি বিগত দিনের নারীদের অনেক কাহিনী৷ জেনেছি নারীদের অবস্থান৷ কিন্তু বর্তমানে নারীদের চিত্রটা অনেকটা আলাদা৷ কিন্তু কি এই চিত্র? বাংলা জগতের বিখ্যাত গায়িকা হৈমন্তী শুক্লা এক একান্ত সাক্ষাত্কারে বর্তমান সমাজের নারীদের অবস্থা নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন বাংলা ওয়েবদুনিয়ার সাংবাদিক সোমনাথ বিশ্বাসের কাছে৷
প্রশ্ন: এই বিশ্বায়নের যুগে নারীরা কি স্বাধীনতা পেয়েছে? উত্তর: হ্যাঁ স্বাধীনতা পেয়েছে৷ বর্তমান যুগে নারীরা বেশ স্বাধীন৷ নারীরা এখন সক্রিয়৷ নারীরা সমাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে৷ আমার ক্ষেত্রেই বলি, স্বাধীনতা না পেলে আমি এত দূর এগুতে পারতাম না৷ স্বাধীনতা পেয়েছিলাম বলেই আমি গায়িকা হতে পেরেছি৷ আমাকে অনেকে এখন চেনে৷ স্বাধীনতার অভাব থাকলে এত সাফল্য অর্জন করতে পারতাম না৷ আগে যেখানে নারীদের বদ্ধ করে রাখা হত এখন তা আর হয় না৷ আর সেই জন্য নারীরা এখন দ্রুত এগিয়ে চলেছে৷
প্রশ্ন: বর্তমানে নারীদের অবস্থান কোথায়? উত্তর: বর্তমানে নারীদের শিক্ষা দীক্ষার অভাব রয়েছে৷ নারীদের আরও শিক্ষিত করতে হবে৷ এখনও আমরা দেখতে পাই যে অনেক মহিলাকে ডাইনি আখ্যা দিয়ে মারধোর করা হচ্ছে বা গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ ভ্রুন হত্যা করা হচ্ছে৷ আমি মনে করি অশিক্ষার কারণেই এই ঘটনা গুলি ঘটছে৷ বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বা নিম্ন শ্রেণীর মধ্যে এখনও যথেষ্ট পরিমাণে জ্ঞানের অভাব রয়েছে৷ আর এই অজ্ঞানতার জন্য গ্রামের মহিলাদের মধ্যে এখনও শিক্ষার প্রসার তেমনভাবে হয় নি৷ এই অজ্ঞানতা ও অশিক্ষার জন্য সরকার ও এই সমাজকে দায়ী করব৷ আমি মনে করি শিক্ষা ব্যবস্থা বিশেষ করে গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত হওয়া উচিত৷
প্রশ্ন: নারী জাতির উপর যে নির্যাতন হচ্ছে সে বিষয়ে আপনার মতমত কি? উত্তর: এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা অত্যাচারীত, নির্যাতিত৷ আর এই অত্যাচারের জন্য এই সমাজ সাধারণত পুরুষ জাতিকেই দায়ী করে৷ তবে সব ক্ষেত্রে না হলেও অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরাও দায়ী থাকে৷ তাদের অশোভনীয় আচরনের জন্যও এই সমস্ত ঘটনা গুলি ঘটে যায়৷ আবার অন্য দিকে দেখতে গেলে মহিলারা ভাবপ্রবন হয়৷ যার ফলে তাদের জীবনে নানা সমস্যায় পড়তে হয়৷ বিশেষ করে অনেক মহিলাই ভালোবাসাতে ব্যর্থ হন৷ আবার অন্য দিকে দেখলে দেখা যাবে নিম্ন শ্রেণীর মহিলাদের উপরই বেশী নির্যাতন হয়৷ এর জন্য শিক্ষাও একটি বিশেষ কারন বলে অমি মনে করি৷
প্রশ্ন: বর্তমানে কলসেন্টার বা অন্যান্য আইটি সেক্টরগুলিতে মেয়েরা প্রায় নির্যাতিত হচ্ছে৷ এ ব্যাপারে আপনি কি বলবেন? উত্তর: আমি মনে করি যাদের উপর নির্যাতন করা হয় তারা ভালো আচরণের মহিলা নয়৷ এই যে আমি এত বছর ধরে গান গাইছি৷ আমাকে এত লোক চেনে৷ কিন্তু আমি তো ভালোভাবেই রয়েছি৷ আমাকে তো কোনরকম সমস্যাই পরতে হয়নি৷ বরং আমাকে সবাই ভদ্রমহিলা বলেই চেনে৷ আসলে নির্যাতনের বিষয়টি মেয়েদের আচরনের উপরেই নির্ভর করে৷
প্রশ্ন: নারী দিবসে আপনি আপনার মহিলা শ্রোতাদের কি বলবেন? উত্তর: আমি আগেই বলেছি মেয়েরা ভাবপ্রবন হয়৷ আমি মনে করি মহিলাদের এই ভাবপ্রবনতা কমাতে হবে৷ নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে৷ কারণ মেয়েদের পুরুষদের উপর নির্ভর হতে হয়৷ এর কারণ মেয়েরা পুরুষদের থেকে শারীরিক ভাবে দূর্বল৷ এছাড়াও আমি মনে করি মেয়েরা পুরুষের উপর নির্ভর করতে ভালোবাসে৷ আমার বাবা মারা যাওয়ার পর হেমন্ত মুখোপাধ্যায় আমাকে মেয়ের মতো গাইড করেছিলেন৷ এখনও আমি আমার ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে কোন কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি৷ তবে আমি মনে করি মেয়েদের একটু বুদ্ধি করে সতর্ক হয়ে চলা উচিত এবং একটু কঠোর হওয়া উচিত৷
|