'এ লেটার টু মাই ডটার', 'এ স্টোরি অফ এ গোল্ডেন রিভার' এই সব বহু প্রশংসিত তথ্যচিত্রগুলোর কথা উঠলেই মনে পরে যায় বিখ্যাত তথ্যচিত্র পরিচালক সৌমিত্র দস্তিদারের কথা৷ উত্তর-পূর্ব ভারত হোক কিংবা জ্বলন্ত গুজরাট, তাঁর ক্যামেরার লেন্স এবং ক্ষুরধার লেখনি কখনই থেমে থাকেনি৷ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন বাংলার এই তথ্যচিত্র পরিচালক৷শত ব্যস্ততার মধ্যেও মহিলাদের সমস্যা নিয়েও নিজের মতামত জানাতে ভুললেন না সৌমিত্র দস্তিদার৷ শিলিগুঁড়িতে এক আলোচনা সভার মধ্যে থেকেই নারী দিবস নিয়ে একান্ত সাক্ষাত্কার দিলেন বাংলা ওয়েবদুনিয়াকে৷
প্রশ্নঃ সমাজে নারীদের অবস্থান কোথায়?
উত্তরঃ স্পষ্ট করে বললে সমাজে নারীদের অবস্থান একেবারেই ভালো নয়৷ তথ্যচিত্র করতে গিয়ে আমাকে সারা ভারত ঘুরতে হয়েছে৷ চার-পাঁচ বছর আগেও বিহারে মেয়েদের 'ডলি উঠানা' হলে সেই পাল্কি প্রথমে গ্রামের সামন্তপ্রভুদের দরজায় দাড়াত৷ নতুন বধূকে প্রথমে ভোগ করত সেই সামন্তপ্রভু, তারপর সেই পাল্কি শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার অনুমতি পেত৷ এখনও ভারতের গো-বলয় গুলোতে এই ভাবে নারীদের উপর নির্যাতন চলছে৷ এমন কি একটা শুনলে আশ্চর্য হবেন, যখন আমার কন্যা সন্তান জন্মায় তখনও হাসপাতালের ডাক্তাররা আমাকে প্রথমে কথাটা বলতেই চাননি৷ খাস কলকাতায় এরকম হলে ধাক্কা লাগাটা স্বাভাবিক৷
প্রশ্নঃ এর পিছনে কারণ কি?
উত্তরঃ নানাবিধ কারণ রয়েছে৷ এর পিছনে রয়েছে ধর্মীয় কারণ৷ সামন্ততন্ত্রের একচ্ছত্র প্রভাব৷ আর ভারতের কাঠামোটা এখনও সেই সামন্ততান্ত্রিক৷ সেই কারণেই বেড়েছে সমস্যাটা৷
প্রশ্নঃ আপনি তো তথ্যচিত্র পরিচালক৷ ভারতের তথ্যচিত্রে নারীদের ভূমিকা কতটা?
উত্তরঃ ভারতের তথ্যচিত্রে নারীদের ভূমিকা যে তুলে ধরা হচ্ছে না তা কিন্তু নয়৷ এখন অনেক তথ্যচিত্র পরিচালকই ভালো কাজ করছেন৷ এক্ষেত্রে কবিতা যোশীর কথা বলা যায়৷ তিনি খুব ভালো কাজ করছেন৷ যদিও ডকুমেন্ট্রি সেভাবে প্রচার পায়নি, কিন্তু তা অনেকেই রীতিমত কাজ করছেন৷ আমি নিজে মণিপুরের উপর তথ্যচিত্র তৈরী করেছি, তাতে মণিপুরের মহিলাদের বিষয়টি তুলে ধরেছি৷ ফলে কাজ যে হচ্ছে না, সে ধারণা ঠিক নয়৷
প্রশ্নঃ গুজরাট থেকে নন্দীগ্রাম সব জায়গাতেই অত্যাচারিত নারী৷ এপ্রসঙ্গে আপনার বক্তব্য কি?
উত্তরঃ মহিলাদের উপর অত্যাচারের জন্য দায়ি সিস্টেম৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে দেখছি নারীদের টার্গেট করা হয়েছে৷ এমনকি বাম জমানাকেও এদিক থেকে সমালোচনার উর্দ্ধে নয়৷ কেননা সমাজতান্ত্রিক সমাজেও নারীরা সুরক্ষিত নয়৷ কেননা বামপন্থা রিজিড থাকলে সেই সমাজতান্ত্রিক সমাজের কোন মূল্য থাকে না৷ তাই সমাজকে পরিবর্তন করতে হবে৷ সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলাতে হবে৷
প্রশ্নঃ আপনি একজন মেয়ের বাবা৷ এই সমাজে আপনার মেয়ে কতটা সুরক্ষিত?
উত্তরঃ আমার মেয়ে কেন, অনেক মহিলাই এখানে সুরক্ষিত নেই৷ কেননা সমাজ ভীষণ খারাপ৷ এই সমাজ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ৷ এখানে নারীকে একজন ব্যক্তি হিসেবে নয়, দেখা হয় পণ্য হিসেবে৷ আরও পরিস্কার করে বললে নারীকে ফিজিক্যালি দেখা হয়৷ আর এর ফলেই যত বিপত্তি৷
|