মুখ্য পৃষ্ঠা > অন্যান্য বিষয় > ওয়েবদুনিয়ার বিশেষতা 08 > মহিলা দিবস
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
দরকার আরও বেশী শিক্ষা
অভিনেত্রী ও মডেল জুন মালিয়ার ইন্টারভিউ

সমাজ যত এগিয়ে চলে এগিয়ে চলে মানব সমাজও৷ আর এই মানব সমাজ এগোনোর পিছনে রয়েছে নারী ও পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াস৷ মৌচাক ছবিতে একটি গানের লাইনে উঠেএসেছিল নারী-পুরুষ সমান সমান৷ কিন্তু নারী জাতি এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আজও অবহেলিত, নির্যাতিত৷ নারীজাতির একটা বৃহত অংশ আজও অন্ধকারে আচ্ছন্ন৷

বাংলা জগতের অভিনেত্রী জুন মালিয়াকে অনেকেই চেনেন৷ কিন্তু অভিনেত্রীর আগে তিনি একজন নারী৷ তাই 8ই মার্চ নারী দিবসকে কেন্দ্র করে বাংলা জগতের বিখ্যাত এই অভিনেত্রী তাঁর ভাব ব্যক্ত করলেন বাংলা ওয়েবদুনিয়ার সাংবাদিক সোমনাথ বিশ্বাসের কাছে৷

প্রশ্ন: নারী দিবস নিয়ে আপনার কি মতামত৷

উত্তর: আমাদের দেশে এখনও অধিক শতাংশ মহিলা পিছিয়ে রয়েছেন৷ এর গাণিতিক ব্যখ্যা করলে প্রায় 80 শতাংশ দাঁড়াবে বলে আমার মনে হয়৷ বিশেষ করে গ্রামের মহিলারা তো একেবারে পিছিয়ে রয়েছে৷ বলা বাহুল্য এই মহিলারা শিক্ষার ব্যাপারে এখনও অনেক অনেক পিছিয়ে এরা কুসংস্কারে আচ্ছন্ন৷ একটু অন্য ভাষায় বলতে গেলে এই নারীদের অবস্থান কুয়োর ব্যাঙের মতো৷

প্রশ্ন: এই বিশ্বায়নের যুগে নারীরা কতটা সুরক্ষিত?

উত্তর: নারীদের এখনও সুরক্ষার যথেষ্ট অভাব রয়েছে৷ চলতি পথে নারীদের প্রায়সই ছেলেদের কটুক্তি শুনতে হয় অর্থাত আমরা যাকে ইভটিজিং বলি৷ রাস্তাঘাটে বেরুলে সে চিত্র প্রায় চোখে পড়ে৷ কিছুদিন আগে আমাকেও কয়েক জন ছেলে টিজ করেছিল৷ তারা প্রত্যেকেই অনুর্ধ আঠারো৷ সবাই ভালো ঘরের ছেলে৷ এখানে ভালো বলতে পয়সায়ালা ঘরের ছেলে৷ আর সব থেকে বড় কথা এরা প্রত্যেকেই স্কুলের ছেলে ছিল৷ আমি এ ব্যাপারে ঐ ছেলে গুলোর থেকে তাদের বাবা-মাদের দোষ দেব৷ কারণ তাদের যথাযত শিক্ষার অভাবে এই অনুর্ধ বাচ্চাছেলেগুলো খারাপ পথ বেছে নিয়েছিল৷ এর জন্য তাদের স্কুল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল৷ কিন্তু পরে আমি ঐ স্কুলের শিক্ষক মহাশয়কে অনুরোধ করি তাদের স্কুল থেকে বহিষ্কৃত না করার জন্য৷ তবে এই ঘটনার জন্য আমি তাদের বাবা-মাদেরই দায়ী করব৷ আমি মনে করি উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে অনেকেই এই রকম ভাবে বিপদগামী হয়ে উঠছে৷

প্রশ্ন: আপনি অভিনেত্রী না হয়ে অভিনেতা হলে কি বেশী সন্মান পেতেন?

আমি তা কখনও মনে করিনা৷ এই বিশ্বায়নের যুগে দাঁড়িয়ে নারীরা যেমন নির্যাতিত৷ অন্য দিক দিয়ে দেখলে নারীরা এখন অনেক উন্নত৷ কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো নারীরা পুরুষদের থেকে এগিয়ে৷ এখন বিভিন্ন স্কুল কলেজে গেলে বহু সংখ্যক নারীদের আমরা পড়াতে দেখতে পাই৷ শুধু তাই নয় বিভিন্ন আইটি সেক্টরে নারীজাতিদের মধ্যে থেকেই অনেকে ভালো ভালো পদে রয়েছেন৷ আর আমার ক্ষেত্রে আমি মনে করি পুরুষ না হয়ে নারী হয়েই আমি বেশী সন্মান অর্জন করেছি৷ অনেক দূরে এগোতে পেরেছি৷

প্রশ্ন: এই সমাজে নারী দিবসের কোন স্বার্থকতা খুঁজে পান কি?

উত্তর: আমাদের এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী দিবস অর্থহীন৷ এর কোন স্বার্থকতা নেই বললেই চলে৷ সমাজের উঁচু শ্রেণীর মহিলারা এখন অনেকটাই এগিয়েছে৷ কিন্তু শুধু এই এলিট শ্রেণী বা শহর নিয়ে তো আর সমাজ গড়ে ওঠে নি৷ সমাজ গ্রাম ও শহর নিয়ে গঠিত৷ কিন্তু গ্রামে গেলে দেখা যাবে মহিলারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত৷ তাই যে দিন সমস্ত জায়গায় শিক্ষার আলো পৌছাবে৷ বিশেষ করে গ্রামের মহিলারা এই আলোতে আলোকিত হবে৷ তারা যেদিন ঘর থেকে বেড়িয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াবে৷ ভালোমন্দের মাপ কাঠি বুঝতে পারবে৷ অন্যকে কিছু শেখাতে পারবে৷ সেই দিন এই নারী দিবস স্বার্থক হবে বলে আমি মনে করি৷
অতিরিক্ত
নির্ভয় সত্য কথা
ভারতে নারীর ক্ষমতায়ন
ফেস্টিভ্যাল
নারী দিবস অর্থহীন ঝর্না, মালতিদের কাছে
ফিরে দেখা
নারী দিবসের ভূমিকা