মুখ্য পৃষ্ঠা > অন্যান্য বিষয় > ওয়েবদুনিয়ার বিশেষতা 08 > মহিলা দিবস
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মহিলাদের অবস্থান

দেবপ্রিয়া বসু

8-ই মার্চ বিশ্ব নারী দিবস৷ মিডিয়ার কল্যাণে এই দিনটিও এখন হৈচৈ করে উদযাপিত করা হয়৷ কিন্তু প্রশ্ন জাগে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সাধারণ মানুষ এই নারী দিবস নিয়ে কতটা অবগত৷ এমনকি অনেকে তো ওম্যানস ডে নিয়ে কিছুই জানেনই না৷ বরং এখনও মহিলাদের পারদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়৷ আর বহু ক্ষেত্রে তো মহিলাদের দক্ষতাকে রীতিমত চ্যালেঞ্জ জানানো হয়৷ আর এই সবের পিছনে কাজ করে মেল ইগো বা পুরুষ অহংকার৷ কিন্তু প্রশ্ন কেন এমন করা হয়? কেন মহিলাদের স্বাধীনতার 60 বছর পরেও ঠেলে দেওয়া অপ্রাসঙ্গিক কিছু বক্তব্যের সামনে?

এবিষয়ে নারী দিবস নিয়ে কিছু সংজ্ঞা বা বক্তব্যের অবতারণা করে এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করতে পারি আমরা৷ অনেকের মতে, " ওম্যানস ডে ইজ দ্য স্টোরি অব অর্ডিনারি ওম্যান অ্যাজ মেকারস অফ হিস্টরি, রুটেড ইন দ্য সেঞ্চুরিস ওল্ড স্ট্রাগ্রল টু পারটিসিপেটেড ইন সোয়াইটি অন ইকুয়্যাল ফুটিং উইথ ম্যান" - সুতরাং এই সংজ্ঞার্থতেই পরিস্কার যে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মহিলারা মানবসভ্যতার সূচনা থেকে সমাজে সব অধিকার পাওয়ার জন্য লড়াই করছেন৷ লড়াই হয়তো চলছে৷ আর সামাজিক ইতিহাসের পাতায় সেটাই স্বাভাবিক৷ কিন্তু পুরুষেরা এই লড়াইকে কোন দিন ভালো চোখে দেখেনি৷তারা স্পোর্টসম্যানশীপ দেখানোর বদলে নারীকে পায়ের নীচে দলাই-মলাই করতে চেয়েছে৷

সেই পৌরাণিক কাল থেকে আধুনিক সময় পর্যন্ত পৌর সমাজে নারীর অবদান অনস্বীকার্য৷ আমরা যদি পৌরাণিক যুগের উদাহরণ নিই তাহলে দেবী দুর্গার কথা বলা যায়৷ মহিষাশূর বধে যার সাহসীকতা, আত্মত্যাগের কথা সকলেই স্মরণ করেন৷ পরবর্তী মানব সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে ইভের অবদান কি ভুলে যাওয়া যায়? অতি সাম্প্রতিক কালে ভারতের প্রাক্তন মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়াম বা আত্মঘাতী পিপিপি নেত্রী বেনজির ভুট্টো রাজনীতিতে অবদানের কথা স্মরণযোগ্য৷ কিন্তু তবুও বলা মহিলারা রাজনীতি বোঝেন না৷

সন্তান ধারণ থেকে নানা সামাজিক ক্ষেত্রে নারী সবথেকে বেশী মানসিক এবং শারীরিক যন্ত্রণা ভোগ করেন৷নিজের গর্ভে 9 মাস 10 দিন সন্তান ধারণ করেন৷ সন্তান জন্মানোর ক্ষেত্রে পুরুষদের ভূমিকা প্রধান হলেও, কন্যা সন্তান ধারণে তাকেই শুনতে হয় গঞ্জণা৷ ঘরে ও বাইরে সর্বত্র তাকেই সমালোচনার ভাগীদার হতে হয়৷ কর্মক্ষেত্রে পুরুষ কলিগদের কাছ থেকে বহু ক্ষেত্রেই সহযোগিতা দূরে থাক, পাওয়া যায় না সহানুভূতির এতটুকু আশ্বাস৷ ঘরে সন্তান প্রতিপালনে থেকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সব কিছুতে নজর দিলেও দিনের শেষে তার কপালেই জোটে গঞ্জণা৷ আর তাই নারী দিবসের মত একান্ত একটি দিনের প্রয়োজনীয়তা তার জন্য বরাদ্দ থাকা কি অস্বাভাবিক?

প্রশ্ন উঠতে পারে নারী দিবস পালন করলেই কি সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে৷ উত্তর- না৷ কিন্তু ব্যাক্তি স্বাধীনতার সে দাবি তুলে বর্তমান সমাজ আন্দোলন করছে, সেই সমাজে নারীর ব্যাক্তি-স্বাধীনতার বিষয়টি আরেকটু হয়তো এগিয়ে নেওয়া যাবে৷

লেখিকা একজন কবি, চিন্তাবিদ৷

অনুবাদঃ ডেস্ক বাংলা ওয়েবদুনিয়া
অতিরিক্ত
এখনো এগোতে হবে অনেকটা পথ
নারীর ক্ষমতায়নঃ তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট
দরকার আরও বেশী শিক্ষা
নির্ভয় সত্য কথা
ভারতে নারীর ক্ষমতায়ন
ফেস্টিভ্যাল