মুখ্য পৃষ্ঠা > অন্যান্য বিষয় > ওয়েবদুনিয়ার বিশেষতা 08 > মহিলা দিবস
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
এক সত্যি ঘটনা

জিনিয়া দত্ত, সাংবাদিক, বাংলা ওয়েবদুনিয়া

যতই আমরা বলি ছেলে মেয়ে সমান৷ কিন্তু আমাদের সমাজে এখনও মেয়েদের হীন নজরে দেখা হয়৷ এখনও অনেক পরিবার আছেন যাদের বাড়িতে কন্যা সন্তানের জন্ম হলে অভিশাপ বলে মনে করা হয়৷ মেয়েরা আজও লাঞ্জনা গঞ্জনার শিকার হয়৷ মেয়ে জন্মানোর পর থেকেই বাবা মার চিন্তা শুরু হয়ে যায় মেয়েকে নিয়ে৷ কিন্তু পুত্র সন্তান নিয়ে কোন রকম দুশ্চিন্তা দুর্ভাবনা বাবা মার হয় না৷ প্রথমে লেখাপড়া শেখানোর চিন্তা তারপরে বড় হওয়ার পর বিয়ে দেবার চিন্তা৷

খুব চোখের সামনে থেকে দেখা এক ঘটনার কথা বলছি৷ মেয়েটির নাম হল পাপড়ি৷ পাপড়ির পড়াশুনায় ভাল ছিল না৷ অনেক ঘষে মেজে ক্লাস টেনে উঠেছিল৷ কিন্তু মাধ্যমিকে পাশ করতে পারে নি৷ বয়স পাপড়ির 20৷ একবার মাধ্যমিকে ফেল করার পর পাপড়ি আর পরীক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করে নি৷ এরপর থেকেই পাপড়ির বিয়ে দেবার জন্য পাত্রের সন্ধান করতে থাকে পাপড়ির বাবা মা৷ অনেক পাত্রই দেখে যায় কিন্তু কেউ পাপড়িকে পছন্দ করে না৷ কারন পড়াশুনায় খারাপ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাপড়ি দেখতেও সুন্দর ছিল না৷ মেয়েটা খুব মনমরা হয়ে থাকত৷ পাপড়ির স্বভাব খুব ভাল ছিল৷ কোন পাত্র পাপড়িকে পছন্দ করছে না দেখে বাড়ির আত্মীয় স্বজনরাও নানারকম আলোচনা করত পাপড়িকে নিয়ে৷ সেই সব কথা গুলো যখন পাপড়ির কানে আসত তখন পাপড়ি খুব কাঁদত৷

অনেক দেখাশোনার পর পাপড়ির বিয়ে ঠিক হল৷ পাপড়ির বাবারই এক বন্ধু পাপড়ির সম্বন্ধটা নিয়ে এসেছিল৷ বিয়ে তো ঠিক হল কিন্তু এই বিয়ের জন্য পাপড়ির বাবাকে দুই লাখ টাকা দিতে হয়েছিল৷ যখন আমি শুনি পাপড়ির বিয়েতে দুই লাখ টাকা পণ দিতে হচ্ছে তখন আমার পাপড়ির বাবার উপর ভীষণ রাগ হয়েছিল৷ কারন তিনি এমন ছেলের সঙ্গে মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছেন যে টাকার বিনিময়ে বিয়ে করছে৷ শুধু টাকাই নয়, টকার সঙ্গে আনুষাঙ্গিক অনেক জিনিসপত্রই তারা দাবি করেছিল৷ সব দাবি মেনে নিয়ে পাপড়ির বাবা এই বিয়েতে দিতে রাজী হয়েছিলেন৷

আমি তখন এটাই বুঝতে পারি নি এই সম্বন্ধের ভাল দিক তিনি কোনটা পেয়েছিলেন যা দেখে তিনি এমন কুপাত্রের সঙ্গে মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজী হয়ে গেছিলেন৷ হয়ত পাপড়ি তাঁর কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল৷ নইলে তিনি এই বিয়েতে রাজী হতেন না৷ বরপক্ষের সব দাবি মেনে নিয়ে পাপড়ির বিয়ে হয়ে গেল৷ বিয়ে তো হল কিন্তু সমস্যা মিটল না৷ সমস্যা আরও বাড়ল৷ শ্বশুড় বাড়িতে শুরু হল পাপড়ির উপর নির্যাতন৷ বিয়েতে এত জিনিসপত্র পাওয়া সত্ত্বেও শ্বাশুড়ির মন একেবারে ভরে নি৷ প্রতি মাসেই তিনি পাপড়িকে তিনি বাপের বাড়ি থেকে এক একটা জিনিস নিয়ে আসতে বলতেন৷ কোন মাসে বলত সোনার হার৷ তো কোন মাসে বলত সোফা কোচ৷ এরকম করে কাটল দুই তিন মাস৷ পাপড়ির সঙ্গেও পাপড়ির বরও ভাল ব্যবহার করত না৷

দুই তিন মাস পর শাশুড়ি পাপড়িকে শ্বশুর বাড়ি থেকে বার করে দেয়৷ বলে এই বাড়িতে তোমার কোন জায়গা নেই৷ এরপর পাপড়ি বাপের বাড়ি চলে যায়৷ বাপের বাড়ি যাওযার পর একদিনের জন্যও পাপড়ির শ্বশুর বাড়ি থেকে কেউ পাপড়ির কোন খোঁজ খবর নিয়ে দেখে নি৷ বিয়েটা দিয়ে কি লাভ হল? যদি বিয়ে না দিয়ে ওকে মাধ্যমিক পরীক্ষার পাশ করানোর ব্যবস্থা করালে বোধ হয় বেশী ভাল হত৷ পাপড়ির সেই ছেলেমানুষীগুলো যেন কোথায় হারিয়ে গেছে৷ ও যেন কেমন মনমরা হয়ে গেছে৷ ঘরের মধ্যে বসে থাকে৷ কোথাও যায় না৷ চুপ করে বসে সারাদিন যেন কি ভাবে৷ পাপড়ির এত তাড়াতাড়ি বিয়ে না দিলে ওর বোধ হয় এই অবস্থা হত না৷ ও হয়ত একবর নয়, দুবার নয়, তিনবারে মাধ্যমিক পাশ করত৷ কিন্তু তড়িঘড়ি করে বিয়ে দিয়ে পাপড়ি সুখ পেল না৷ পেল শুধু মানসিক যন্ত্রনা৷ পাপড়ির এই অবস্থার জন্য কে দায়ী আমাদের সমাজ ব্যবস্থা না পাপড়ির বাবা মা? এই প্রশ্নটা আমার মনে বার বার আসে কিন্তু এর সঠিক উত্তরটা আমি আজও খুঁজে পাই না৷ শুধু পাপড়িই নয় পাপড়ির মত এরকম অনেক মেয়ে আছে যারা শ্বশুর বাড়ির নির্যাতনের শিকার হয়৷ কিন্তু মুখ বুজে সহ্য করে৷

পাপড়িও মুখ বুজে সহ্য করেছে৷ কিন্তু বিয়ে কোন সমস্যার সমাধান নয়৷ পড়াশুনায় সবাই ভাল হয় না৷ একবার ফেল করলে বিয়ে দিয়ে সমস্যার সমাধান করাও যুক্তিসঙ্গত নয়৷ বরঞ্চ একবার নয় তো বারবার৷ চেষ্টা করতে হবে৷ পরীক্ষায় পাশ করা কোন কঠিন ব্যাপার নয়৷ মন দিয়ে পড়লেই পাশ করা যায়৷ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয়টি হল সমাজে নিজের পরিচিতি তৈরী করা৷ বর্তমান সময়ে প্রত্যেক মেয়েরই স্বাবালম্বী হওয়া উচিত৷ তখন আর নিজের অস্তিত্ব খুঁজতে অন্যের সাহায্য নিতে হবে না৷
অতিরিক্ত
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মহিলাদের অবস্থান
এখনো এগোতে হবে অনেকটা পথ
নারীর ক্ষমতায়নঃ তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট
দরকার আরও বেশী শিক্ষা
নির্ভয় সত্য কথা
ভারতে নারীর ক্ষমতায়ন