মুখ্য পৃষ্ঠা > অন্যান্য বিষয় > ওয়েবদুনিয়ার বিশেষতা 08 > মহিলা দিবস
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
কর্মক্ষেত্রের সমস্যাঃ একটি বাস্তব চিত্র

জিনিয়া দত্ত, সাংবাদিক, বাংলা ওয়েবদুনিয়া

বাইরে থেকে দেখে ভিতরে যেতে ইচ্ছা করে৷ আসলে বাইরেটা অত্যন্ত সুন্দর৷ আরে না, কোন বাড়ি নয়, এটা একটা অফিস৷ এটা দেবপ্রিয়ার অফিস৷ দেবপ্রিয়া আমার বন্ধু৷ আমরা একসঙ্গে জার্নালিজম পড়তাম৷ দেবপ্রিয়া একটা নামী কোম্পানীতে চাকরী করত৷ চাকরীর সঙ্গে সঙ্গে পড়াশুনাও করত৷ দেবপ্রিয়া কনভেন্ট থেকে গ্রাজুয়েশন করেছিল তাই গ্রাজুয়েশনের পর চাকরী পেতে ওর কোন অসুবিধা হয় নি৷

চাকরী পাবার পর ও এম.এ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল৷ তাই মর্নিং শিফটের কলেজে জার্নালিজম পড়ত৷ প্রথম প্রথম দেবপ্রিয়াকে খুব হাসিখুশি দেখতাম৷ ও খুব সাজগোজ করত৷ যেমন কখনও চুল ছেড়ে আসত৷ তো কখনও আইলাইনার, মাসকারা লাগাত৷ তো আবার কখনও কড়া লিপস্টিক৷ কোন কিছুই ও বাদ দিত না৷ তবে যেদিন ও নাইট শিফট্ করত সেদিন ও কলেজে আসত না৷ আবার কখনও পরীক্ষার আগে দেখতাম নাইট শিফট করেও কলেজে আসত৷ অফিসের গাড়ি ওকে কলেজে পৌঁছে দিয়ে যেত৷

কয়েক মাস চাকরী করার পর ও চাকরীটা ছেড়ে দেয়৷ প্রথমে চাকরী ছাড়ার কারনটা ও সবার কাছে গোপন করেছিল৷ কিন্তু পরে কথায় কথায় জানতে পারি একদিন নাইট শিফট চলাকালীন ওর বস ওকে সেক্সের অফার দিয়েছিল৷ আর বসের মুখে এই কথা শোনার পরই দেবপ্রিয়া চাকরীটা ছেড়ে দেয়৷ তারপরে আর কোন দিন ঐ অফিসের দিকে ফিরেও তাঁকায় নি৷
দেবপ্রিয়ার আত্মসন্মানে লেগেছিল৷ জীবনে চাকরীর প্রয়োজন আছে৷ কিন্তু সেই চাকরী করতে গিয়ে যদি আত্মসন্মান খোয়াতে হয় তাহলে সেই চাকরী করার থেকে বেকার হয়ে ঘোরা অনেক শ্রেয়৷ নারীরা স্বাধীন৷ কিন্তু এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা কি সুরক্ষিত? সুরক্ষার প্রসঙ্গটা তুললে দেবপ্রিয়ার কথা মনে আসে৷ মনে আসে সেই রাতটার কথা৷ যে রাতে ওর বস ওকে ঐ জঘন্য অফারটা দিয়েছিল৷ শুধু দেবপ্রিয়া নয়, দেবপ্রিয়ার মত অনেক নারীই এরকম কুপ্রস্তাবের শিকার হয়৷ আবার অনেকে সংসারের হাল টানার জন্য বসেদের এরকম অফার মেনে নিতে বাধ্য হয়৷ আমাদের সামজ কি এই ভ্রষ্টাচার থেকে মুক্ত হবে না?

গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর সঙ্গে সামাজিক দূষনের মাত্রাটাও বেড়ে গেছে৷ আর এই দূষিত সমাজে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের অধঃপতন ঘটছে৷ শিক্ষার লেবেল থাকা সত্ত্বেও মানুষ তার সম্ভ্রম হারিয়ে যাচ্ছে বর্বর৷ কোন শিক্ষিত ভদ্র মানুষের কাছ থেকে যখন এই ধরনের আপত্তিকর প্রস্তাব আসে তখন এটাই মনে হয় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের এখনও বর্বর থেকে সভ্য করে তুলতে পারে নি৷

আদিম মানুষ বনে বনে দিন কাটাত৷ তাদের মধ্যে সভ্যতা সংস্কৃতির ছাপ ছিল না৷ তারা ছিল বর্বর ও হিংস্র৷ কিন্তু আমরা তো সভ্য সামজে বাস করি৷ সভ্যতা ও সংস্কৃতির ধারায় আমাদের বিকাশ হয়েছে৷ তা সত্ত্বেও আমরা বর্বরোচিত আচরন করি যা আমাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে কলুষিত করে দেয়৷ সমাজকে দূষনের পথে ঠেলে দেয়৷ আর এই সামাজিক দূষনের বলী হন মহিলারা৷ আমরা কি এই সামাজিক দূষনের কালো ধোওয়া থেকে সমাজকে মুক্ত করতে পারব না? যেখানে মহিলারা নির্দিধায়, নির্বিচারে নিরাপদ ভাবে জীবনযাপন করতে পারবে৷
অতিরিক্ত
এক সত্যি ঘটনা
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মহিলাদের অবস্থান
এখনো এগোতে হবে অনেকটা পথ
নারীর ক্ষমতায়নঃ তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট
দরকার আরও বেশী শিক্ষা
নির্ভয় সত্য কথা