মুখ্য পৃষ্ঠা > অন্যান্য বিষয় > ওয়েবদুনিয়ার বিশেষতা 08 > মহিলা দিবস
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
নারী দিবসে লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী


বাংলা সাহিত্যের জগতে মহাশ্বেতা দেবী এক স্মরণীয় নাম৷ তাঁর ক্ষুরধার কলম বাংলা সমাজের বিশেষত মহিলাদের অনেক বিষয়কেই তুলে ধরেছে৷ কাজ করছেন আদিবাসীদের জন্য৷ 8-ই মার্চ বিশ্ব নারী দিবস৷ আর এই উপলক্ষ্যেই মহিলাদের সমস্যা, সমকালীন নারীদের বিভিন্ন বিষয়েই মতামত জ্ঞাপণ করলেন লেখিকা, চিন্তাবিদ মহাশ্বেতা দেবী৷ বাংলা ভাষার প্রথম নিউজ পোর্টাল বাংলা ওয়েবদুনিয়ার হয়ে মহাশ্বেতা দেবীর এই এক্সক্লুসিভ সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন সাংবাদিক প্লুটাস কর্মকার৷

প্রশ্নঃ আপনি অনেকটা যুগ পেরিয়ে এসেছেন৷ বর্তমান সময়ে নারীরা কতটা এগিয়েছেন বলে আপনি মনে করেন৷

উত্তরঃ দেখো এই ভাবে এক কথায় বিষয়টি নিয়ে বলা ঠিক হবে না৷ কেনন আমাদের সময়কার মধ্যবিত্ত সমাজ এবং এখানকার মধ্যবিত্ত সমাজের মধ্যে অনেক পরিবর্তন হয়েছে৷ এখন বিশ্ব নারী দিবসের মত নানা দিবস পালিত হচ্ছে৷ আমার ব্যক্তিগত মতামত নারীরা যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছেন৷ মেধা পাঠেকরের মত মহিলা যে ভাবে আন্দোলন করছেন, সামাজিক দাবি আদায়ের জন্য লড়াই করছেন তাতে বলতেই হবে মহিলারা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছেন৷ 21 শতককে আমি ওম্যান সেঞ্চুরি বলে অভিহিত করব৷ কিন্তু ভারতে পরিস্থিতি একটু পৃথক৷ আমাদের দেশে মেয়েদের সে ভাবে এমপাওয়ারমেন্ট হয়নি৷ এখন আমাদের সমাজে এমন কতগুলো বিষয় রয়েছে যা এড়িয়ে যাওয়া যায় না৷ উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বিধবা বিবাহের প্রসঙ্গ৷ বিদ্যাসাগর নিজে বিধবা বিবাহের প্রচলন করেছিলেন৷ কিন্তু এখনও আমাদের সমাজের উপর তলার লোকেরা বিধবা বিবাহকে খুব একটা সমর্থন করেন না৷ কিন্তু যদি আমরা আদিবাসী সমাজের দিকে তাকাই তাহলে দেখব এদের সমাজে বিধবা বিবাহ ভীষণ ভাবে প্রচলিত৷ আমি নিজে আদিবাসীদের উপর কাজ করছি৷ এই সমাজে যদি কোন মহিলার স্বামী মারা যান, নিয়ম আছে সেই মহিলা স্বামীর ভাইকে বিয়ে করেন৷ কিন্তু আমাদের তথাকথিত ভদ্র সমাজ কিন্তু আদিবাসীদের এই ভূমিকাকে খুব একটা সুনজরে দেখেন না৷ কিন্তু আমাদের ইতিহাস ঘাটলে আমরা বিধবা বিবাহের অনেক বেশী উদাহরণ পাব৷ রাবণের বিধবা স্ত্রী মন্দাদরী যেমন বিভীষণকে বিবাহ করেছিলেন৷ ভারতে উইডো রিম্যারেজ এখনও সেভাবে স্বীকৃতি পায় নি৷ আদিবাসী সমাজে কিন্তু এই বিধবা বিবাহ সম্পর্কে কোন বিরুদ্ধচারণ নেই৷ আমাদের সমাজে কোন বিধবা মহিলা এই ভাবে বিবাহ করলে তাকে নীচু চোখে দেখা হয়৷সমাজে ছোট করা হয়৷

প্রশ্নঃ মহিলাদের স্বার্থরক্ষা করতে যে এত আইন তৈরী করা হয়েছে তাতে কি মহিলাদের সমস্যা কমেছে? আপনি এবিষযে কি বলবেন৷

উত্তরঃ একথা ঠিক যে মহিলাদের জন্য অনেক আইন তৈরী হয়েছে৷ আমার কাছে যা পরিসংখ্যান রয়েছে তাতে বলা যায় মহিলাদের জন্য সারা দেশে প্রায় 1000 টির মত আইন তৈরী করা হয়েছে৷ কিন্তু দুঃখের বিষয় পশ্চিমবঙ্গে এই আইনগুলো পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে৷ এ প্রসঙ্গে আমি একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই৷ আমাদের সমাজে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া বিরাট ব্যাপার৷ কিন্তু এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যেখানে বিবাহিত মহিলাদের তাদের স্বামী সাপোর্ট করেন না৷ এক্ষেত্রে আইন করে কিছুই করা যায়নি৷

প্রশ্নঃ অভিযোগ করা হয় যে মহিলারা আবেগ প্রবণ বলেই রাজনীতির প্রতি তাদের অনীহা রয়েছে৷ এ বিষয়ে আপনার কি বক্তব্য৷

উত্তরঃ কে বলল মহিলারা রাজনীতিতে আগ্রহী নয়৷ অনেক মহিলাই রীতিমত সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িত৷ আর মহিলারা আবেগ প্রবণ বলেই রাজনীতিতে অনাগ্রহী একথা সঠিক নয়৷ আসলে রাজনীতির অনেক চেহারা রয়েছে৷ রাজনীতির ভিন্ন ভিন্ন চেহারা তারা দেখেছেন৷ ক্ষুধার রাজনীতি রয়েছে৷ পশ্চিমবঙ্গের অনেক জায়গায় পঞ্চায়েত ঠিকমত কাজ করেন না৷ পশ্চিমবঙ্গের নানা এলাকায় মানুষ দুবেলা পেট ভরে খাবার পান না৷ ডুয়ার্স সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় 700 ট্রাইব্যাল খিদের জ্বালায় মারা গেছেন৷ আমরা আমলাশোল দেখেছি৷ আমরা জানি কিভাবে মানুষ না খেতে পেয়ে মারা গেছেন৷ এক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আসতে কোন অসুবিধা নেই৷ মেয়েরা ধীরে ধীরে এবিষয়ে এগিয়ে আসছে৷ কেননা মেয়েরা যে কোন কাজ সিনসিয়ারলি করতে পারেন৷

প্রশ্নঃ সামাজিক দিক থেকে বর্তমানে মেয়েরা কতটা দায়বদ্ধ?

উত্তরঃ সমাজ কি পালটাচ্ছে? সমাজ বদলাচ্ছে না৷ সমাজে এখনও দগ্ধ ঘা- য়ের মত দগদগ করছে পণ প্রথার মত বেশ কিছু সেনসিটিভ ইস্যু৷ ভাবতে অবাক লাগে এখনও অনেক মেয়েই বাড়িতে বিয়ের সময় পণ দাবি করেন৷ ডিরেক্টলি ক্যাস দাবি করে৷ তাদের বক্তব্য কেন তাদের পরিবার তাকে পণ দেবে না৷ কিন্তু আমরা আমাদের সময়ে দেখেছি মহিলারা অনেক বেশী দায়বদ্ধ ছিলেন৷ আমার নিজের দিদিমাকেই দেখেছি তিনি ঢাকাতে থাকাকালীন গ্রামের হিন্দু এবং মুসলমান নির্বিশেষে সকলকে একই সঙ্গে নিয়ে চলার চেষ্টা করতেন৷ তিনি এদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করতেন৷ আমার মাকেও দেখেছি বাড়িতে যারা কাজে আসতেন তাদের স্বাধীন ভাবে থাকার জন্য অনুপ্রাণিত করতেন৷

প্রশ্নঃ তাহলে আপনার মতে সমাজের তথাকথিত নিচু তলার মহিলারা অনেক বেশী দায়বদ্ধ৷ তারা অনেক বেশী লিবারাল৷

উত্তরঃ প্রসঙ্গটা লিবারেলের নয়৷প্রসঙ্গটা দায়বদ্ধতার৷ আমি নিজে এবিষয়ে প্রত্যক্ষ উদাহরণ পেয়েছি৷ আমার বাড়িতে এক মুসলমান মহিলা কাজ করতেন৷ তার স্বামী তাকে তালাক দিয়ে দেন৷ মহিলাটির দুই ছেলে এবং একটি মেয়ে৷ তিনি নিজে হাসপাতালে ট্রেনিং নিয়ে আয়ার কাজ করে মেয়েকে বিয়ে দেন৷ এই যে লড়াই করার কঠিন মানসিকতা তা কিন্তু সত্যিই প্রশংসার যোগ্য৷

প্রশ্নঃ নারী দিবস পালনের কোন যৌক্তিকতা কি আপনি খুঁজে পান৷

উত্তরঃ এই সব একেবারে ইউজ লেস৷ কোন মূল্য নেই৷ যেখানে তসলিমা নাসরিন কে অপমান করা হয়েছে৷ উনি যা লিখেছেন একজন মহিলা হয়ে লিখেছেন বলেই আজ এত আপত্তি৷ কেননা মেয়েদের কেউ মানতে চান না৷ আর তসলিমা নাসরিনকে যে ভাবে অপমান করা হচ্ছে, তার কোন প্রতিবাদ হচ্ছে কি? হচ্ছে না৷ তা হলে কি লাভ এ সব ওম্যানস ডে পালন করে৷

অতিরিক্ত
জোড়দার করা হোক শিক্ষা প্রসার
এক মুহুর্ত বিপ্লব
উত্তর আধুনিক নারীবাদ
কর্মক্ষেত্রের সমস্যাঃ একটি বাস্তব চিত্র
এক সত্যি ঘটনা
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মহিলাদের অবস্থান