23 সে জানুয়ারী নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর 111 তম জন্ম দিন৷ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা মনে করলে প্রথমেই যে চিত্রগুলি চোখের সামনে ভেসে ওঠে তাদের মধ্যে নেতাজী অন্যতম৷ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজীর এক বিশাল অবদান ছিল এ কথা আমরা সবাই কম বেশী জানি৷ এমনকি ভারতের যুব সম্প্রদায়কে এখনও নেতাজীর সেই বিখ্যাত লাইন "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব" মনে করানো হয়৷
1897 সালে 23 সে জনুয়ারী ওড়িষার কটক শহরে এক বাঙালি পরিবারে নেতাজির জন্ম হয়৷ তাঁর বাবা জানকিনাথ বসু একজন বিখ্যাত আইনজীবি ছিলেন৷ নেতাজির ছাত্রজীবন শুরু করেন কটকের রভিন সাও কলেজিয়েট স্কুলে৷ এরপর কলকাতার স্কটিস চার্চ কলেজ থেকে তিনি স্নাতকত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে কেমব্রিজ ইউনিভারসিটির ফিটজউইলিয়াম কলেজ থেকে তিনি পড়াশোনা শেষ করেন৷ 1920 সালে তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস এ পরীক্ষা দেন এবং চতুর্থ স্থান অধিকার করেন৷ 1921 সালে তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস থেকে পদত্যাগ করেন এবং ভারতের জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করেন৷
স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতাজি যোগ দেওয়ার পর বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামী চিত্তরঞ্জন দাসের অধীনে তিনি কাজ করা শুরু করেন৷ 1924 সালে এপ্রিল মাসে কলকাতা কর্পোরেশনের চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার হিসাবে নিযুক্ত হন৷ এর পর এবছরের অক্টোবর মাসে নেতাজি সরকার বিরুদ্ধ কাজ করার জন্য আটক হন৷ তাকে কলকাতার আলিপুর জেলে রাখা হয়৷ 1930 সালের তার জন্ম দিনের দিন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসু ব্রিটিশ আইনের বিরুদ্ধে এক পদযাত্রায় প্রধান ভুমিকা গ্রহন করার জন্য তাকে আবার আটক করা হয়৷ জেল থেকে বেরিয়ে 25 সে সেপ্টেম্বর তিনি কলকাতার মেয়র হিসাবে নিযুক্ত হন৷
ব্রিটিশ সরকারকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলার জন্য নেতাজিকে তার বাড়িতেই নজর বন্দি করে রাখা হয়৷ কিন্তু 1930 সালের মাঝামাঝি সময়ে নেতাজি ব্রিটিশ সরকারের চোখে ধুলো দিয়ে ইউরোপে পালিয়ে জান৷ 1933 থেকে 1936 সাল পর্যন্ত এই তিন বছরে নেতাজি ইউরোপের বহু রাজনৈতিক নেতা ও মহান ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেছেন৷ কারণ নেতাজি বিশ্বাস করতেন ভারতকে বৃটিশ সরকারের হাত থেকে স্বাধীন করতে হলে ভারতের বাইরের দেশের সেনা ও রাজনৈতিক নেতাদের সাহায্য দরকার হবে৷
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দান করার পর তিনি মহাত্মা গান্ধীর আন্দোলনের পদ্ধতির সঙ্গে একমত হতে পারেননি৷ কারণ তার মনে হয়েছিল ব্রিটিশ সরকারের কাছে থেকে স্বাধীনতা চেয়ে পাওয়া যাবে না ছিনিয়ে নিতে হবে৷ এই ভাবনা চিন্তা থেকেই অল ইন্ডিয়া ফরোর্য়াড ব্লক নামে একটি দল গঠন করেন৷
1937 সালে সুভাষ চন্দ্র বোস তার ব্যক্তিগত সচিব এমিলি স্চিঙ্কল নামক এক মলিলার সঙ্গে বিবাহে আবদ্ধ হন৷ তাদের ভালোবাসার ফল স্বরূপ 1942 সালে তাদের কন্যা সন্তান অনিতার জন্ম হয়৷ 1934 থেকে 1942 সালে স্চিকেলের উদ্দেশ্যে নেতাজির লেখা চিঠির ভিত্ত্বিতে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে৷
বিদেশে থাকা কালীন নেতাজি ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে ভারতের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে দেখা করে সাহায্য চান৷ এই রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে হিটলারও রয়েছেন৷ দেশের বাইরে থেকে তিনি ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য "আজাদ হিন্দ ফৌজ" নামক একটি দল গঠন করেন এবং 1944 সালের চৌঠা জুলাই ভারতের যুব সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তার বিখ্যাত বানি "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব" ব্যক্ত করেন৷ 1945 সালের 18 ই আগষ্ট তাইওয়ানে একটি বিমান দূর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে৷ তার এই মৃত্যুকে নিয়ে অনেক রহস্য রয়েছে যা এখনও পর্যন্ত সমাধান করা যায়নি৷
নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য এত বড় আত্মবলিদান ভারতীয় জনগণের হৃদয়ে সবসময়ের জন্য উজ্জীবিত হয়ে থাকবে৷
|