মুখ্য পৃষ্ঠা > খবর সংসার > খবর/সংবাদ > জাতীয়
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
আমাদের প্রিয় নেতাজি
ব্যুরো রিপোর্ট, বাংলা ওয়েব দুনিয়া
WDWD
"তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব " নেতাজীর এই মহান বাণী আপামর ভারতবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছিল৷ ভারতের স্বাধীনতা আনয়নে নেতাজীর অবদান অবিস্মরনীয়৷ তিনি তাঁর সমগ্র জীবনে একবার নয় বহুবার মহাত্মা গান্ধীর মত বড় মাপের নেতার বিরুদ্ধেও অভিমত পোষন করেছেন৷ গান্ধীজীর এমন কিছু নীতি ছিল যা তিনি কখনই মেনে নেন নি৷ এরজন্য তিনি অনেক সময় বিফলও হয়েছেন৷ কিন্তু তিনি সব সময় কঠোর নীতি নিয়ে চলতেন৷

ওড়িশার কটক শহরে তাঁর জন্ম হয়েছিল৷ তাঁর পিতা রায়বাহাদুর জানকীনাথ বোস কটকের একজন বিখ্যাত উকিল ছিলেন৷ তাঁর মা প্রভাবতী বোস ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক এবং সরল মহিলা৷ সুভাষরা ছিলেন পাঁচ ভাই ও ছয় বোন৷ সুভাষের ভাইদের মধ্যে সকলেই নিজের নিজের ক্ষেত্রে খ্যাতি অর্জন করেছিল৷ ছেলেবেলায় তাঁকে এক ইউরোপীয়ান স্কুলে ভর্তি করা হয়েছিল৷ আর এই স্কুলে প্রোটেস্টান্ট শিক্ষকের সংখ্যা বেশী ছিল৷ আর সুভাষের শিশু মনে এর গভীর প্রভাব পড়ে৷ দেবনাশ স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে তিনি ম্যাট্রিক পাশ করেন৷ 1913 সালে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজে ভর্তি হন৷ তবে প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি বেশীদিন পড়াশুনা করেন নি৷এক সাহেব ভারতীয়দের সম্পর্কে কিছু কু-মন্তব্য করলে তিনি তার প্রতিবাদ করেন, তাকে কলেজ থেকে বার করে দেওয়া হয়৷ এর পরে তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হন৷ তাঁর মন আধ্যাত্মিকতার প্রতি আকৃষ্ট হয়৷ তিনি স্বামী বিবেকানন্দের মত আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জন করতে চান৷ এই কারনে তিনি 16 বছর বয়সে কাউকে কিছু না বলে হিমালয়ে যান গুরুর সন্ধানে৷ তবে তিনি সেই সময় কোন গুরুর সন্ধান পান নি৷

দেশের প্রতি তাঁর অগাধ ভালবাসা ছিল৷ গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলন, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড এই সবই সুভাষের মনে পীড়ার সঞ্চার করে৷ এই ঘটনা গুলো সম্পর্কে জেনে সুভাষ কখনও অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পড়তেন৷ 1920 সালের আগস্ট মাসে তিনি আইসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ন হন৷ এই পরীক্ষায় পাশ করার পর তিনি তাঁর বাড়িতে একটি চিঠি লিখেছিলেন৷ এতে লেখা ছিল আমার দূর্ভাগ্য আমি এই পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়েছি৷ কিন্তু আমি অফিসারের চাকরীই করব এই সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারব না৷ আমি দেশ ও বৃটিশ এই দুই এর সেবা একসঙ্গে করতে পারব না৷ খুব শীঘ্রই এই দুই এর মধ্যে একটিকে নির্বাচন করতে হবে৷ অবশেষে সুভাষ দেশসেবাকেই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসাবে গ্রহন করেন৷

1921 সালের 16 ই জুলাই মুম্বইতে এসে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন৷ প্রায় একঘন্টা তিনি গান্ধীজীর সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা করেন৷ এই আলোচনাতে তিনি গান্ধীজীকে বলেছিলেন অসহযোগ আমি বুঝতে পেরেছি৷ কিন্তু অহিংসার অর্থ আমি বুঝতে পারি নি৷ আর এই অহিংসা নিয়েই গান্ধীজীর সঙ্গে আজীবন তাঁর মতপার্থক্য হয়৷

তিনি রাজনীতিতে অংশ গ্রহন করেন 1921 সালের 25 শে ডিসেম্বর৷ কারন 1921 সালের 25শে ডিসেম্বর প্রিন্স অফ ওয়েলস কলকাতায় আসেন৷ সারা দেশে প্রিন্সের আগমনের জন্য বিরোধ প্রদর্শন করা হয়৷ আর এই বিরোধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সুভাষ৷ আর এই জন্য সুভাষের 6 মাসের জেলও হয়েছিল৷ সুভাষের রাজনৈতিক কর্মপ্রয়াস এখানেই বন্ধ হয়ে যায় নি৷ এরপর তিনি স্বরাজ্য দলের মুখ্য অধিকারী ও ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রধান সম্পাদকের ভূমিকাটি পালন করেন৷ সুভাষের বৈপ্লবিক কর্মধারাকে লক্ষ্য করে বৃটিশ সরকার 1924 সালের 25 শে অক্টোবর বৃটিশ সরকার তাঁকে গৃহবন্দী করেন৷ এই সময় স্টেটসম্যান নামে একটি পত্রিকা সুভাষের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছিল সুভাষ একটি গুপ্ত বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত আছেন৷ এরপর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের নেতৃত্বে দেশের মানুষ বৃটিশ সরকারকে সুভাষকে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে মুক্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চালানোর দাবি জানায়৷ এরপর বৃটিশ সরকার তাঁকে বার্মা জেলে পাঠিয়ে দেয়৷ তবে সারা দেশে সুভাষের স্থানান্তর নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল৷

এরপর তিনি মালয় এবং সিঙ্গাপুরে ভারতীয় সৈন্যদের একত্রিত করে আজাদ হিন্দ বাহিনী গঠন করেন৷ 1943 সালের 4ই জুন আজাদ হিন্দ বাহিনী স্বাধীনতার জন্য তাদের প্রয়াস শুরু করে৷ সুভাষ বসু আজাহ হিন্দ বাহিনীকে স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত করেন৷ এরপর আজাদ হিন্দ বাহিনী ইম্ফল এবং কোহিমাতে বৃটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে৷ কিন্তু জাপান যখন আত্ম-সমর্পন করে তখন আজাদ হিন্দ বাহিনীকেও আত্মসমর্পন করতে হয়৷ এরপর ঘোষণা করা হয় এক বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজীর মৃত্যু হয়েছে৷ তবে নেতাজীর মৃত্যু রহস্য নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে৷ আজীবন এই মহান নেতার ছবি আপামর ভারতবাসীর মনে প্রতিষ্ঠিত থাকবে৷ ভারতের স্বাধীনতা হল নেতাজীর দান৷ এই মহান নেতার উদ্দেশ্য জানাই শতকোটি প্রনাম৷
অতিরিক্ত
নেতাজি তোমারে সেলাম
সবার প্রিয় নেতাজি
নেতাজিকে হত্যার ছক কষেছিল বৃটিশরা
রহস্য কি রহস্যই রয়ে যাবে ?
শীতে কাঁপছে সমগ্র উত্তরভারত
আটক নকশাল নেতা