মুখ্য পৃষ্ঠা > খবর সংসার > খবর/সংবাদ > জাতীয়
পরামর্শ বা প্রতিক্রিয়ামিত্রকে পাঠানএই পৃষ্ঠা প্রিন্ট করুন
 
নেতাজি কোথায়?
সোমনাথ বিশ্বাস, সাংবাদিক, বাংলা ওয়েব দুনিয়া
1945 সালের পর অনেক গুলি বছর কেটে গিয়েছে৷ এসেছে 1947 এর 15 আগষ্ট, এসেছে 1950 সালের 26 শে জানুয়ারী তারপর... অনেক অনেক বছর৷ 2008 সালের প্রাক-কালে এসে মনে মনে একটিই প্রশ্ন জাগে নেতাজি কোথায়? যাকে সবকিছু ত্যাগ করে ভিন দেশে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল৷ আশ্রয় নিতে হয়েছিলো বৃটিশ সরকারের জালে জর্জরিত দূর্ভাগা এই ভারতবাসীর জন্যই৷ কিন্তু স্বাধীনতার ষাট বছর পর শৃঙ্খল মুক্ত এই ভারতবাসী নেতাজির এই অবদানকে কি মনে রেখেছে?
WDWD


কয়েক জনকে নেতজির কথা জিঞ্জাসা করতেই পাল্টা প্রশ্ন কোন নেতাজি? হায় রে নেতাজি, এই স্বাধীন ভারতে স্বাধীন জনগণের কাছে তোমার নাম যে আর আইকন হিসাবে বজায় থাকল না৷ এই স্বার্থপর ভারতবাসী তোমার নামের সঙ্গে বর্তমান নেতাদের নাম মিলিয়ে দিতে একটুকুও দ্বিধাবোধ করল না৷ এটাই কি তোমার মত দেশপ্রেমীর প্রাপ্য?

কলকাতার এক তরুণ শিক্ষিকার কাছে নেতাজির প্রশ্ন করতেই জোড় গলায় বলে উঠলেন, সুভাসচন্দ্র বসু আমাদের মনে এখনও জীবিত রয়েছেন৷ তাঁর মত এত বড় আত্মত্যাগী নেতাকে আমরা কি করে ভুলব৷ কিন্তু তিনি আমাদের মনে জীবিত রয়েছেন দিনক্ষন দেখে৷ কারণ 23 শে জানুয়ারী, 26 শে জানুয়ারী বা 15 ই আগষ্ট ছাড়া, ওনার মত মহামানবকে মনে করার আর সময় নেয় এই শুভবুদ্ধিসমপন্ন চেতনাশীল মানুষদের৷ আর ছাত্ররাও এখন এই তারাগুলিকে মহাকাশ থেকে খুঁজে বের করতে চায় না৷ কারণ স্কুল কলেজের ছাত্রদের কাছে এখন এই মহান সংগ্রামীদের থেকে মিষ্টিবিতরণ বা স্কুলে হাজিরা দেওয়াটা সব থেকে জরুরী৷ তাই বলে এদের যে নেতাজি সম্পর্কে কোন ধারণা নেই, তা কিন্তু সত্যি নয়৷ তবে সেই ধারণা প্রকাশ পায় শুধু পরীক্ষার খাতায়৷এদের ধারণা ওয়েব-ইন্টারনেটের যুগে নেতাজি বা অন্য কোন মহামানবকে নিয়ে চর্চা করা লোকসান৷

কলেজের এক ছাত্রীর কাছে নেতাজি অর্থ তার সেই বিখ্যাত বাণী "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব"৷ এই ছাত্রী নেতাজির জনপ্রিয়তা সম্পর্কে জানিয়েছেন, এত মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের এখন আর কেউ মনে করে না৷ তবে তার জন্য শুধু যুব সমাজ দায়ী নয়৷ এই ব্যস্ততম জীবনে নতুন যুগের ছাত্র-ছাত্রীদের কেউ এই সমস্ত মহান ব্যক্তিদের সম্বন্ধে জানার জন্য আগ্রহ দেখান না৷ শুধু তাই নয় সরকারের তরফ থেকেও দু-তিন দিন বাদ দিয়ে এবিষয়ে কেউ নজর দেন না৷ এমনকি রাস্তায় বা পার্কে মহান ব্যক্তিদের যে মুর্তিগুলি রয়েছে তার হাল দেখলেই রাজনৈতিক নেতাদের শ্রদ্ধাভক্তি সহজেই জানা যায়৷ বর্তমান ভারতের যে চিত্র আমাদের সামনে ফুটে উঠেছে তাতে নেতাজির মত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের কোন প্রয়োজন ছিল কিনা সেই নিয়ে সন্দেহ হয়৷

কলকাতার এক জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমের, এক সাংবাদিকের ভাষায় নেতাজির আত্মত্যাগের কোন মর্যাদাই তিনি পাননি৷ তার মতন মহান ব্যক্তিকে এখন শুধু মনে রাখা হয় পাঠ্য-বইয়ের বিষয় হিসেবে বা ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর জন্য৷ এছাড়া আমরা এদের হাতেগোনা দু-তিন দিনের জন্য মনে করি৷ নেতাজির মত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির এখনও পর্যন্ত যেটুকুও সন্মান রয়েছে তা হয়্ত আগামী দিনে এই ব্যস্ততার ভিড়ে সুদূর আকাশে মিলিয়ে যাবে৷ তবে একথাও সত্যি যে নেতাজি আমাদের অন্তরের মধ্যেই কোথাও লুকিয়ে আছেন৷ তবে এই স্বার্থপর সমাজের পর্দার আড়াল থেকে তাকে খুঁজে বের করা সত্যিই খুব কঠিন কাজ৷
অতিরিক্ত
আমাদের প্রিয় নেতাজি
নেতাজি তোমারে সেলাম
সবার প্রিয় নেতাজি
নেতাজিকে হত্যার ছক কষেছিল বৃটিশরা
রহস্য কি রহস্যই রয়ে যাবে ?
শীতে কাঁপছে সমগ্র উত্তরভারত