তিনি ইউপি সরকারে সরাসরি না থেকেও নিজের অস্তিত্ব জানান দেন৷ তিনি সরকারী পদে না থেকেও সরকারের যেকোন পদে না থেকেও যে কোন ব্যক্তিকে বলতে পারেন ধীরে বন্ধু ধীরে৷ তিনি যে আদর্শবাদকে আঁকড়ে ধরে চলেছেন তার রং ফিকে হয়ে গেলেও, তার আভা এখনও ফিকে হয়ে যায়নি৷ তাই তিনি যেন নিজেই সরকার... সিপিএম দলের দ্বিতীয় বারের জন্য সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রকাশ কারাট৷ তাঁর দায়িত্ব পাওয়া নিয়েই বিশেষ আলোকপাত বাংলা খরবের দুনিয়ার প্রথম নিউজ পোর্টাল বাংলা ওয়েবদুনিয়ার সাংবাদিক সোমনাথ বিশ্বাস৷
মাথায় সাদা চুল, চোখে রিমলেস চশমা, পরণে হাল্কা রঙের পরিধাণ, সুশ্রী, নিতান্ত ভদ্রলোক, নাম প্রকাশ কারাট৷ মানুষটির 1948 সালে রেঙ্গুনে জন্ম৷ তার পর স্কুল ও কলেজে পাঠ শেষ করে 1970 সালে জীবনের মূল্যবান সময়ে নিজের নম নথিভুক্ত করান সিপিআই(এম) দলে৷ শুরু হয় বাম মতাদর্শকে আঁকড়ে ধরে পথ চলা৷ তঁর এই বাম ভক্তি একটু একটু করে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে তাঁকে৷ 1985 সালে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটিতে নির্বাচিত হন এবং 1992 সলে পলিটব্যুরোর সদস্য হিসাবে স্থান পান৷ তার পর 2005 সালে সিপিআই(এম)- এর চতুর্থ সাধারণ সম্পাদক৷
এই পৃথিবীতে বামেদের দ্বারা পরিচালিত দেশ খুব কম লক্ষ্যনীয়৷ একসময় রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপে বাম জামানা টিকে থাকলেও এখন সেখানে সেই রামও নেই আর সেই রাজত্বও নেই৷ নিশ্চিহ্ণ হয়ে সব কিছু যেন বিশ ফুট কবরের তলায়৷ আর ভারতে বাম রাজত্ব বলতে তিনটি, আপাতত তিনটি রাজ্যে৷ এই বিশাল দেশে 28টি রাজ্যের মধ্যে কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরাতে বামেরা ক্ষমতা দখল করতে পেরেছে৷ একটু ভালো করে দেখলে দেখা যাবে কেরালাতে কংগ্রেসের আধিপত্য কম নয়৷ তাই 30 বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে বামেরা রাজত্ব করলেও কেরালেতে কংগ্রেসের দৌলতে বামেরা একটানা ক্ষমতা দখল করে রাখতে পারে নি৷ হাত বদলের মধ্যদিয়েই টিকে রয়েছে বামেদের অস্তিত্ব৷
অন্যদিকে কংগ্রেস বা বিজেপির দিকে তাকালে ভারতের 28টি রাজ্যের মধ্যে বেশীরভাগ রাজ্যেই এই পার্টি দুটি তাদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে পেরেছে৷ বর্তমানে কেন্দ্রে রয়েছে কংগ্রেস পরিচালিত জোট সরকার৷ কংগ্রেসের কথা বলতে গেলে এই পার্টির সভানেত্রী সোনিয়াজি তো গান্ধী-নেহেরু পরিবারের পূত্রবধূ৷ আর গান্ধী নেহেরু পরিবার সে কথা বলার আর অবকাশ রাখে না৷ এর সাথে বলা যায় সোনিয়ারজির বসেই রয়েছে কেন্দ্রের জোট সরকার৷
অন্যদিকে বিজেপির আদবানীজি হল এই পার্টির মূল পান্ডা৷ যদিও আদবানীজি সাধারণ সম্পাদক নয় তাহলেও অলিখিত ভাবে তিনিই সব৷ এখানে অলিখিত বলাটা ভুল হবে কারণ এখনও পর্যন্ত এনডিএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্র বিজেপির দখলে এলে উনিই হবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী৷ লোকসভা ভোটের আগে কেন্দ্র এনডিএর দখলেই ছিল৷ তাই এই রথী মহারথীদের বায়োডাটার কাছে প্রকাশ কারাটের বায়োডাটা খুব একটা জোড়ালো নয়৷ তা তিনি সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক হন আর নাই হন৷
কিন্তু মজার বিষয় এই কমিউনিস্ট মতাদর্শে বলিয়ান এই সাধারণ সম্পাদকের দিকে তাকাতে কারুরই সাহস হয় না৷ এতদিনে অবশ্য এ বিষয়ে সবারই জানা হয়ে গিয়েছে৷ বুর্জোয়া পুঁজিবাদী আমেরিকার সাথে পরমাণু চুক্তিতে স্বাক্ষর করার জন্য কেন্দ্র্রীয় সরকার যখন উঠে পড়ে লেগেছে ঠিক তখনই সাধারণ সম্পাদক প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন কেন্দ্র ও চুক্তির মধ্যে৷ তখনও নন্দীগ্রামের দগদগে ঘাঁ প্রতিমুহূর্তে বামেদের যন্ত্রনা দিয়ে যাচ্ছে৷ কিন্তু তাই বলে বুর্জোয়া পুঁজিবাদীদের সামনে মাথা নোয়াতে নারাজ সম্পাদক মহাশয় ও তাঁর পার্টি৷ নন্দীগ্রামের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্যান্য পার্টির মতো কংগ্রেসও সিপিআই(এম) পার্টিকে বাগে আনার চেষ্টা করেছিল৷ এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং হাতের শেষ তীরটি মেরেও বাম মতাদর্শে বিশ্বাসী প্রকাশ কারাটকে নড়াতে পারেন নি৷ প্রকাশ কারাটের বক্তব্য "আমেরিকার পরমাণু চুক্তি বিষয়ে সিপিআই(এম) বিরোধীতা করছিল এবং করবে৷"
প্রকাশ কারাট কেন্দ্রীয় সরকারে কোন পদে নেই৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও এই সরকার প্রকাশের একগুঁয়েমি সিদ্ধান্তকে লঙ্ঘণ করতে পারে না৷ পারেনা অবহেলা করতে৷ সাধারণ সম্পাদকের সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা এই সরকারের নেই৷ একনিষ্ট এই বামপন্থি নেতা ও তাঁর পার্টি চরম বিপদের মধ্যে পড়েও এখনও পর্যন্ত বুর্জোয়া আমেরিকার কাছে মাথা বিক্রি করে নি এবং করতেও দেয় নি৷ আর তাঁর এই মনোবল, তাঁর এই ক্ষমতাই তাঁকে করে তুলেছে নেতা, তাঁকে করে তুলেছে দ্বিতীয় বারের জন্য সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক৷
|